প্রথম পৃ: পর
যারা নির্দিষ্ট কোন দলের সমর্থক তাদের কেউ কেউ তাতে কষ্ট পাচ্ছেন সন্দেহ নেই, তবে আমার বিশ্বাস সত্যিকার ফুটবলপ্রেমীরা টান টান উত্তেজনা ভরপুর এরকম একটা বিশ্বকাপেরই স্বপ্ন দেখেছিলেন। নানা নতুন ঘটনা আর নতুন তারকার জন্ম দিয়ে ফুটবলের তীর্থভূমি ব্রাজিলে বিশ্বকাপ যেন তার সৌন্দর্যের সবটুকুই উজাড় করে দিচ্ছে। গ্রুপ পর্ব থেকেই শক্তিধর দুই দেশের বিদায়ে তাই এতটুকু রং হারায়নি বিশ্বকাপ। বরং কোস্টারিকা-চিলি-বেলজিয়ামের মতো দলগুলোর পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের আকর্ষণকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বেলজিয়াম ‘এইচ’ গ্রুপে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে রাশিয়ার। প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই ‘ডার্ক হর্স’ নির্বাচনের রীতিটা বেশ পুরনো। দর্শক-সমালোচকসহ প্রায় সবাই এই বিশ্বকাপে সেই ডার্ক হর্সের খেতাবটা দিয়েছিলেন বেলজিয়ামকে। বেলজিয়ামের এই দলটাতে যে পরিমাণ তারকা খেলোয়াড়ের যে ছড়াছড়ি তাতে তাদেরকে ডার্ক হর্স বলাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে নিয়ে অবশ্য আমার সন্দেহ আছে। বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোতে হয়তো তাদের বড় কোন সাফল্য নেই। তবে তাদের দল এবং বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স বলছে ব্রাজিল-জার্মানি কিংবা প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোকে পরীক্ষায় ফেলার ক্ষমতা রাখে তারা।
আমি আগেও বলেছি, প্রতিটি পজিশনেই দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে তাদের। বিশ্বকাপে এই বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা যেমন কোচের সামনে বিকল্প তৈরি করে, তেমনি খেলোয়াড়দেরও ভালো খেলতে চাপে রাখে। গোলপোস্টের নিচে থিওবট কোর্তে, রক্ষণে ভিনসেন্ট কোম্পানি, ভার্টেনগেনরা আছেন। যদিও কোম্পানি আজকের ম্যাচে অনিশ্চিত। নক আউট রাউন্ডের কথা ভেবে কোচ আজ তাকে বিশ্রামে রাখতে পারেন।
উইংয়ে বায়ার্ন মিউনিখ তারকা ডি ব্রুইন আছেন। আক্রমণে রোমেলো লুকাকু, এডিন হ্যাজার্ড, মারুয়েন ফেলানিরা চেলসি-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় ক্লাবের হয়ে নিয়মিত সাফল্য পেয়ে আসছেন। বাছাইপর্বে দারুণ খেললেও প্রথম ম্যাচে লুকাকুকে তেমন কার্যকর মনে হয়নি, আজ হ্যাজার্ডকে তাই আক্রমণভাগের মূল ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। অভিষেক হয়ে যেতে পারে আমার দৃষ্টিতে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবল সুপারস্টার আদনান জানুজাজেরও।
বেলজিয়ামের শুধু একটা দুর্বলতাই চোখে পড়েছে আমার, দলীয় সমঝোতার অভাব। এ কারণেই প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক বিচারে দুর্বল আলজেরিয়াকে হারাতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। তবে আজকের ম্যাচে হয়তো আরো পরিপক্ক একটা বেলজিয়াম দলকে দেখবো আমরা। মনে রাখতে হবে, এক যুগ পরে বিশ্বকাপে খেলতে এসে এর উত্তেজনা কিংবা বিশালত্বের সাথে মানিয়ে নেয়াটা মোটেই সহজ নয়। সুতরাং সময় গড়ানোর সাথে সাথে দলটির ধারও বাড়বে।
এই গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি কোরিয়া লড়বে আলজেরিয়ার সাথে। প্রথম ম্যাচে রাশিয়ার সাথে ড্র করা কোরিয়ার সামনে আজ সুযোগ এই আসরের প্রথম এশিয়ান দল হিসাবে জয় তুলে নেয়ার। তবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার পারফরম্যান্স বলছে, সেটা মোটেই সহজ হবে না। শক্তিমত্তা, প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স এবং পয়েন্ট টেবিলের দুই দলের অবস্থান বিচারে আমি বলবো দুই দলই জয়ের চেষ্টা করবে। সুতরাং আক্রমণের অভাব হবে না ম্যাচে। ফলে গোলও আসবে।
আজ রাতের সবচেয়ে বড় ম্যাচে পর্তুগাল খেলবে আমেরিকার বিরুদ্ধে। নক আউট রাউন্ডে যেতে হলে পর্তুগালের এই ম্যাচে জয় পাওয়াটা খুব জরুরী। তবে রোনালদোর চোট সমস্যা, পেপের সাসপেনশন এবং ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাওর অনুপস্থিতি পর্তুগালকে নিশ্চিতভাবেই কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে। জার্মানির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে রোনালদোর খেলায় চোটের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। আজ যদি তিনি না খেলেন তাহলে কঠিন এক সমস্যায় হয়তো পড়তে হবে পাওলো বেন্তোর দলকে।
আমি আগেই বলেছি, আমেরিকা খুব দ্রুত ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসছে। যদিও বাস্কেটবল, রাগবির মতো খেলাগুলো এখনো সেখানে ফুটবলের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু যখন আপনার মধ্যে পেশাদারিত্ব থাকবে তখন উন্নতি স্বাভাবিকভাবেই চলে আসবে। ফলে বেশ অল্প সময়ে আমেরিকার খেলার মান বেশ এগিয়েছে। জার্গেন ক্লিন্সম্যানের মতো একজন কোচ আছে তাদের, সর্বোচ্চ পর্যায়ে বহু বছর খেলার অভিজ্ঞতা আছে যার। সুতরাং পর্তুগালকে আমেরিকা কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাবে সন্দেহ নেই।
