‘যা রেখে গেছেন সেটুকুই আমাদের পাথেয়’

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২১:৫৫
তার দীর্ঘ জীবনের স্মৃতির অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলেছি। তবে স্যার যা রেখে গেছেন সে টুকুই আমাদের পাথেয়। শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতায় এ ভাবেই স্মৃতিচারণ করেন শিল্পী রফিকুন নবী। শনিবার বিকালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সফিউদ্দীন আহমেদের জন্মদিন পালন উপলক্ষে এই বক্তৃতার আয়োজন করে। শিল্পী রফিকুন নবীর বক্তৃতার উপর আলোচনা করেন শিল্প সমালোচক ও লেখক আবুল মনসুর। শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, একটু একটু করে স্যারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। স্যার ছবি নোংরা হোক সেটা পছন্দ করতেন না। ছবি পরিষ্কার রাখা স্যারের একটা গুণ ছিল। স্যারের অনুভূতিগুলো আমরা ঠিকভাবে জানতে পারতাম না বুঝতেও পারতাম না। তিনি একাত্তর নিয়ে ছবি এঁকেছেন; কিন্তু আমরা তার পাশে থেকে জানতে পারিনি। তিনি ছবির মতো করেই গান ভালোবাসতেন। ছবিতে যেমন তার ধাপে ধাপে পরিবর্তন এসেছে। তেমনি করে এসেছে গানে। তিনি নিজে গাইতেন না; কিন্তু সংগীতের ওপর তার স্বচ্ছ জ্ঞান ছিল। রাজনীতি বিষয়ে তাকে কখনো সামনা সামনি মন্তব্য করতে শুনিনি। তবে নোংরা বিষয়গুলো তার রুচিতে আঘাত করতো। চোখ নিয়ে তার বিশেষ একটা কম্পোজিশন ছিল। শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ ১৯২২ সালে ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ এবং ২০১২ সালের ২০ মে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৪২ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুল থেকে চারুকলায় স্নাতক এবং ১৯৫৮ সালে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল স্কুল অফ আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে এচিং ও এনগ্রেভিং-এ সম্মানের সঙ্গে ডিপ্লোমা লাভ করেন। তিনি দেশে-বিদেশে বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৫ সালে কলকাতা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্ট প্রদত্ত অ্যাকাডেমি প্রেসিডেন্ট পদক, ১৯৪৭ সালে পাটনা শিল্পকলা পরিষদ প্রদত্ত ‘দ্বারভাঙ্গা মহারাজার স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।