দুটি দলই প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে দ্বিতীয় রাউন্ড। শেষ ম্যাচটা তাই কার্যত অর্থহীন হলেও অভিন্ন এক লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে নেদারল্যান্ড-চিলি। সেই লক্ষ্য হলো ব্রাজিলকে এড়ানো। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।
নিষেধাজ্ঞার কারণে সোমবারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না পার্সি। তবে এ পর্যন্ত দুই ম্যাচে জয় পেয়েই আকাশে না উড়তে সতীর্থদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন পার্সি। রিও ডি জেনিরোতে নেদারল্যান্ডস দলের অনুশীলন ক্যাম্পে পার্সি বলেন, ‘আমি মনে করছি শীর্ষে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করাটা এবং টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তুলনামূলক ভালো দলের মোকাবেলা করাটা আমাদের জন্য ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কেবলমাত্র প্রথমেই এগিয়ে থাকতে হবে এবং কি ঘটে সেটা দেখতে হবে। কারণ ব্রাজিলের ম্যাচ আমাদের পরে। কি ঘটে আমরা কেবলমাত্র সেটা দেখবো এবং তারপর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেবো।’
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে নেদারল্যান্ডস। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কমলা জার্সিধারীরা। ডিফেন্ডার রন ভার বলেন, ‘দলে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং গত আসরের ফাইনাল খেলা দলটি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে বলে মনে করছেন তিনি। স্পেনকে হারানোর আগ পর্যন্ত দেশের মানুষের মধ্যে এতো বেশি বিশ্বাস ছিলো না। কিন্তু সব সময়ই আমাদের নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল এবং সেটা শুরু থেকেই।’
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে বিশ্বাস বাড়ছে। প্রকৃত অর্থেই আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি এবং ভালো থেকে আরো ভালো খেলে আমরা ম্যাচ জিতেছি। আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে আমরা জানি। কেননা, আমাদের দলে ভালো ফরোয়ার্ড রয়েছেন যারা ম্যাচকে পরিবর্তন করে দিতে পারেন।’
ম্যাচে খেলতে না পারলেও দলের প্রতি শুভকামনা জানাতে ভুল করেননি পার্সি। ফিফা ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘শুরুটা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। প্রথম ম্যাচটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের প্রমাণের টুর্নামেন্ট। তাই এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটাও সহজ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচেও আমরা জয় পেয়েছি। গ্রুপে আর মাত্র একটি ম্যাচ। ফলাফলে খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে, এরপরও আমাদের নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলতে হবে। আমি খেলতে পারবো না। তবে, সতীর্থদের প্রতি শুভকামনা রইলো।’
আগের দুটি ম্যাচের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খেলায় আমরা নিজেদের লক্ষ্য ফিরে পেয়েছি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। ম্যাচগুলো জিততে পারবো — এমন আত্মবিশ্বাস শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে ছিল। আমাদের পক্ষে যেকোন মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব। আশা করি বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত এমনটা করতে পারবো।’
স্পেনের বিপক্ষে জয়টা সহজ হলেও অস্ট্রেলিয়া কঠিন এক পরীক্ষা নিয়েই এসেছিল ডাচদের সামনে। সেই ম্যাচটা একদিক থেকে নিজেদের জন্য ভাল হলো বলেই মনে করছেন পার্সি, ‘অস্ট্রেলিয়া খুব ভালো খেলছে। আমাদের উপর বড় একটা চাপ সৃষ্টি করেছিল ওরা। একটা পর্যায়ে ওদের সাথে আমাদের পেরে ওঠা কষ্টকর হয়ে ওঠে। আমরা প্রথমার্ধে তেমন ভালো খেলতে পারিনি। তাছাড়া, একটা টুর্নামেন্টে প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভালো খেলা সম্ভবও না। তবে জয় পেতে হলে ভালো খেলার বিকল্প নেই।’
চিলির যে ফর্ম, তাতে এই ম্যাচেও ভাল খেলেই জিততে হবে নেদারল্যান্ডসকে!
