লাতিন সুপারম্যান!

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২১:১৫
যেন জনপ্রিয় সিনেমা। বিপদের মুহূর্তে মঞ্চে আবির্ভাব ঘটলো নায়কের। সুপারম্যানের মত এক নিমিষে সমাধান করলেন সকল সমস্যার। ঠিক এমনই একটা গল্পের মঞ্চায়ন দেখা গেল কুরিতিবায়। নায়কের রূপে ছিলেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। আর তাতেই ছারখার হয়ে গেল হন্ডুরাস। প্রথমার্ধেই এক গোল দিয়ে রেখেছিলেন। এর সাথে দ্বিতীয়ার্ধে কড়া নজরদারীর রক্ষণ ফাঁকি দিয়ে আরেকটি গোল। ৬৫ মিনিটের সেই গোলেই তিনি হয়ে গেলেন বিস্ময়কর—ইকুয়েডরের ত্রাণকর্তা, লাতিন সুপারম্যান! এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটা ছিল স্বপ্নের মত এক রাত। দুই গোল করে তিনি যৌথভাবে হয়ে গেছেন বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যজন হলেন অগাস্টিন ডেলগাডো। দুজনেই করেছেন তিনটি করে গোল! অর্জনটা অবশ্যই বড়। কিন্তু ম্যাচের পর নিজেকে অনেক বড় কোন কিছু ভাবতে চাইলেন না ভ্যালেন্সিয়া, ‘আমি নিজেকে ত্রাণকর্তা বা তেমন কোন কিছু ভাবছি না। ফলাফলটা আমাদের দলগত পারফরম্যান্সের ফসল। সব কিছু সম্ভব হয়েছে আমাদের কমিটমেন্ট ও লড়াই করার মানসিকতার জন্য। আমরা জানতাম স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের তিন পয়েন্টই পেতে হবে।’ বয়স মাত্র ২৪। এই বয়সেই নাম লিখিয়ে ফেলেছেন কোস্টারিকান কিংবদন্তী ডেলগাডোর পাশে। ব্যাপারটা অনেক গর্বের। সেটা ভ্যালেন্সিয়া নিজেও মানছেন, ‘তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পেরে আমি খুবই খুশি। তার সাথে আমি আগে খেলেছি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে উনি অনেক উপদেশ দিয়েছিলেন। তার পাশে চলে আসাটা তাই আমার জন্য রোমাঞ্চকর এক ব্যাপার।’ সাফল্যের শিখরে উঠেছেন। কিন্তু এতোদূর আসার পথটা এতোটা মসৃণ ছিল না। বেড়ে উঠেছিলেন ইকুয়েডরের এসমারেলদা প্রদেশে সান লরেঞ্জো গ্রামে। মোটেও সচ্ছল কোন পরিবারে জন্ম হয়নি তার। বাবার গাভির দুধ বিক্রি করেই চলতো সংসার। দুধ বাজারে নিয়ে যাওয়ার কাজটা ভ্যালেন্সিয়াকেই করতে হতো। অনেক দূর হেঁটে গিয়ে পৌঁছাতেন। কিশোর সেই বয়স থেকেই ফুটবলটা ঢুকে গিয়েছিল তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। স্বপ্ন ছিল আরও বড় কিছু করার, ‘ফুটবলের স্বপ্নটা আমি দেখতাম সেই ছোট বেলা থেকে। গ্রামে আমার কাজটা ছিল দুধ বিক্রি করার। ভাবতাম দুধ বিক্রি করে এক জোড়া বুট কিনবো। সেই স্বপ্নটা এখন চোখের সামনে।!’ বিশ্বকাপের গোলও তার স্বপ্নে নতুন এক মাত্রা এনে দিচ্ছে, ‘বিশ্বকাপে গোল করাটা অসাধারণ এক অনুভূতি। সেটা প্রথম গোল করেই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটা ছিল ঝুলন্ত অবস্থায়। একদম মোক্ষম সময়ে আমাদের গোলটা এসেছে। বলটাকে হেড করলাম আর দেখলাম বলটা কোন্ দিকে যাচ্ছে। কোন শব্দ দিয়ে সেই অনুভূতির কথা প্রকাশ করা যায় না। আমি কোন ভাবেই চিত্কার থামাতে পারছিলাম না!’ প্রথম পর্বের লড়াইয়ে এটাই ভ্যালেন্সিয়াদের প্রথম জয়। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে হারলেও এখন ইকুয়েডরের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ আছে। সামনে এবার ফ্রান্সের বাধা। দারুণ খেলতে থাকা ফরাসিদের শক্তির ব্যাপারেও জানাশোনা আছে ভ্যালেন্সিয়ার, ‘আমরা সবাই জানি ফ্রান্স কি করার ক্ষমতা রাখে। ওরা দারুণ ফর্মে আছে। ওদের হারাতে হলে মাঠে আমাদেরকে ওদের চেয়ে ভাল ফুটবল খেলতে হবে। তবে, এই মুহূর্তে আমরা আত্মবিশ্বাসী, আমাদের মনে হচ্ছে সব কিছুই আমরা করতে পারবো।’ কথাটা শেষ করেই ভুবন ভোলানো ট্রেডমার্ক এক হাসি দিলেন ভ্যালেন্সিয়া। গোটা ইকুয়েডরই এখন হাসছে। এমন সুখের কারণ এই ভ্যালেন্সিয়া। ‘ই’ গ্রুপে আগামী ম্যাচে ফলাফল যাই হোক না কেন দেশটির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ভ্যালেন্সিয়ার নাম!