চাপে থাকা ব্রাজিলের চাই গোল

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২১:১৬
এমনিতেই মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ড্র করার কারণে কিছুটা চাপেই ছিল ব্রাজিল। তার উপর আর্জেন্টিনা ইরান-বাধা টপকে যাওয়ায় স্কোলারির দুর্ভাবনাটা যেন আরো উসকে দিয়েছে। আর্জেন্টিনা নিজেদের গ্রুপের দুটি ম্যাচ জিতে যাওয়ায় ব্রাজিল শিবিরে চাপটা বাড়ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে কথা! আজ ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ম্যাচটা নিয়ে স্কোলারি অনেকভাবেই ছক তৈরি করছেন। তবে যতক্ষণ না গোল পাবেন স্কোলারি মাঠে স্বস্তি পাবেন না। স্কোলারি চেয়েছেন ম্যাচের যত দ্রুত সময়ে গোল আদায় করা যায়। আর এজন্য ব্রাজিলীয়ান কোচ সেট পিসের দিকে নজর দিচ্ছেন। বিশেষভাবে তার দলের আক্রমণভাগে সেট পিসগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না বলে এই দিকটায় নজর বেশি। অনুশীলন মাঠে সেট পিস থেকে গোল আদায় করার কৌশলটা আরো ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য খেলোয়াড়দের নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় আজ ম্যাচটি শুরু হবে রাত ২টায়। ক্যামেরুনের ম্যাচের আগে স্কোলারি তার শিষ্যদের সেটপিস অনুশীলন করিয়েছেন। নেইমার, ডেভিড লুইজ, ড্যানিয়েল আলভেস, সেট পিসের বিশেষ অনুশীলন করেছেন। ফ্রি-কিকগুলো যেন আরো সূক্ষ্ম হয় তার জন্য ডেভিড লুইজ, নেইমার এবং আলভেজদের নিয়ে কোচের বিশেষ সেশন হয়েছে। রোনালদিনহো, কাকা, রোবিনহোকে বাদ দিয়ে তরুন নেইমার, অসকারদের মতো ফুটবলার সাথে আছেন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কিছু ফুটবলার। যাদের নিয়ে প্রীতি ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে জিতেছিল ব্রাজিল। এবারও স্কোলারি সেই দলটা নিয়ে এখন ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযানে নেমেছেন। ২০০২ জাপান কোরিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল কর্নার, ফাউল, পেনাল্টি স্পট থেকে গোল করার সুযোগগুলো ভালোই কাজে লাগিয়েছিলেন কোচ স্কোলারি। তিনি নেইমারদের কাছ থেকেও সেটি আশা করছেন। সফলতার জন্য স্কোলারি এখন সবই করতে চান। কারণ গত বছর কনফেডারেশন কাপ জিতলেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল এশিয়ান ওয়ার্ল্ড কাপের চেয়েও খারাপ। তার পরও স্কোলারি হিসাব করে দেখেছেন ১২টা গোলের মধ্যে তিনটি গোলই এসেছিল সেট পিস থেকে। স্কোলারির খাতায় এইসব কাটাকাটিই চলছে। এবারের বিশ্বকাপে নেইমার ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। এটা ভালো কথা কিন্তু সেট পিসগুলো কাজে লাগেনি। স্কোলারি তার দলের অনুশীলন শেষে সহকারী কোচদের নিয়ে খুব সূক্ষ্মভাবে সেট পিস অনুশীলন করিয়েছেন। সেট পিসগুলো কতটা নিখুঁত হচ্ছে তা দেখছেন। কখনো স্কোলারি নিজেই ফ্রি কিকের সময় দেয়াল করে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন। স্কোলারির কাছে সেট পিস শটের জন্য ফেভারিট নামটা হচ্ছে নেইমার। তবে লম্বা শটের জন্য দানিয়েল আলভেজ এবং ডেভিড লুইও দারুণ। তবে স্কোলারি বললেন, ‘মাঝে মাঝে আমার ছেলেরা বুঝতে পারে না কিভাবে শট করতে হয়। সেটা নিয়েই এবার কাজ করছি।’ মোদ্দা কথা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে ফাউল, পেনাল্টি কিংবা কর্নার যেটাই হোক না কেন সেটা যেন স্কোলারির প্লেয়াররা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন। প্রতিপক্ষের বিপদ সীমানায় একটা সেটপিস পাওয়া মানে, গোলের ফিফটি পারসেন্ট চান্স কনফার্ম। এটাই হচ্ছে বর্ষীয়ান এই কোচের লক্ষ্য। অনুশীলন মাঠে সবকিছুই না হয় হলো। কিন্তু ম্যাচের দিন সেটা কি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবেন তার ছাত্ররা। সেটা না হয় আজ ম্যাচের পরই নিশ্চিত হয়ে যাবে কতটা কাজে লাগলো। কিন্তু তার আগে তো ভাবতে হবে ক্যামেরুনকে নিয়ে। কারণ এটা তাদের বিদায়ী ম্যাচ। ১৯৯০ ইতালী বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ক্যামেরুন এবার তো ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপের দুই ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ এবং ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়ে ফুঁসছে। শেষ ম্যাচে আজ ব্রাজিলকে কামড় বসিয়ে দেবে—এমনটাই লক্ষ্য তাদের। ব্রাজিল অবশ্য ক্যামেরুনের শক্তি নিয়ে খুব বেশিকিছু ভাবছে না। সেই প্রসঙ্গে ড্যানি আলভেস বলেন, ‘ক্যামেরুনকে ব্রাজিলের ভয় পাবার কোন কারণ নেই। ফলাফলের ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে চাই না। তবে, দ্বিতীয় হবার চেয়ে সবসময় প্রথম হওয়ার চেষ্টা করা ভাল। তাই আমরাও গ্রুপ থেকে প্রথম হতে চাই। প্রথম জনকেই সবাই অভিনন্দন জানায়। তাই এই মুহূর্তে দ্বিতীয় হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ এদিকে, পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও গোটা ব্রাজিল জুড়েই সমালোচনা চলছে গোলরক্ষক জুলিও সিজারকে নিয়ে। এস সময় ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের হয়ে তিনি ট্রেবল জয় করেছেন; কিন্তু সেরা সময়টা পিছনে ফেলে এসেছেন অনেক আগেই। ৩৪ বছর বয়সী তারকা এখন খেলেন মেজর লিগ সকারের দল টরেন্টোতে। ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই নিজেকে প্রমাণের জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। এর সাথে এও জানিয়েছেন যে, যোগ্যতার বলেই তিনি বিশ্বকাপে খেলছেন। গণমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, ‘এটা প্রমাণিত যে আমি বিশ্বকাপে নিজেকে আবারও মেলে ধরতে পেরেছি। এর বাইরেও এখনো কেন যেন অনেকের আমাকে পছন্দ হচ্ছে না। এটা সত্যি যে, আমি যে লিগে খেলি সেখানে এতোটা প্রতিযোগিতা নেই; কিন্তু কথা হল, ব্রাজিল দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হবার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা দরকার। যে কেউ এখানে দাঁড়িয়ে গেলেই হয় না।’ মেক্সিকোর বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারি। আজকের ম্যাচেও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে চান এই তারকা, ‘আমি আয়নায় তাকিয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারি- আমাকে দ্বারা সবই সম্ভব। আমি নিজের উপর বিশ্বাস রাখছি। মেক্সিকোর বিপক্ষে পারফরম্যান্সে দলের সবাই আমার উপর সন্তুষ্ট ছিল। আশা করি, ক্যামেরুনের বিপক্ষেও নিজেকে মেলে ধরতে পারবো। মানসিক ভাবে আমি প্রস্তুত।’ গত বছর নিজেদের মাঠে কনফেডারেশন্স কাপ জয়ে ব্রাজিলের অন্যতম নায়ক ছিলেন ফ্রেড। কিংবদন্তী রোনালদোর নয় নম্বর জার্সি পড়া এই তারকা টুনামেন্টটিতে করেছিলেন পাঁচ গোল; কিন্তু এই বিশ্বকাপ আসতেই যেন বদলে গেল দৃশ্যপট। একের পর এক দৃষ্টিকটু ভাবে সুযোগ হাতছাড়া করার মাসুল গুণতে হয়েছে সেলেচাওদের। তাই ব্রাজিলে সমালোচনা হচ্ছে ফ্রেডকে নিয়ে। তবে, এখনো সেই ফ্রেডের উপরই আস্থা রাখছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্ট। বরং এতো সমালোচনায় খানিকটা বিরক্তই হয়েছেন তারা। এই যেমন ফ্রেডের প্রসঙ্গে বার্সেলোনা তারকা ড্যানি আলভেস বলেন, ‘তার ব্যাপারে যেসব সমালোচনা করা হচ্ছে সেটা অবশ্যই বোকামির পর্যায়ে পড়ে। এর থেকে বড় বোকামির কাজ আর কিছু হতে পারে না।’ অনেক সাবেক ফুটবলারও ফ্রেডের পারফরম্যান্সের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা অ্যালান শিয়েরার। তার মতে, মাঠে ফ্রেডের চলাফেরা ফুটবলার সুলভ নয়। সাথে এটাও বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলার ন্যূনতম যোগ্যতাও তার নেই। এটা নিয়ে রীতিমত ক্ষেপে গিয়েছে ব্রাজিল শিবির। ড্যানি আলভেস এই ব্যাপারে বলেন, ‘যারা ফুটবল খেলেন, তারা প্রত্যেকেই জানেন খেলাটা খেলতে গিয়ে একজন ফুটবলারের কি পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়। এখানে প্রতিযোগিতা করতে হয়, গোল করতে হয় এবং সব শেষে এর উপর ভিত্তি করেই জয় বা পরাজয় নির্ধারিত হয়। তাই কোন ফুটবলার আরেকজনের ব্যাপারে এমনটা বলতে পারেন না। এটা সত্যি লজ্জার একটা ব্যাপার।’ মাঠের খেলা দিয়েই এবার ব্রাজিলকে সকল সমালোচনার জবাব দিতে হবে!