সালাম মুর্শেদীর কলাম

নক আউট রাউন্ডে দৃষ্টি সবার

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২১:১৭
(প্রথম পৃষ্ঠার পর) গত ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স বিশ্বব্যাপী তাদের কোটি কোটি সমর্থককে হতাশই করেছে। আমি নিশ্চিত, নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লুইস ফেলিপে স্কলারিও। তাই আজ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল দুইটি জিনিস করতে চাইবে বলে আমার মনে হয়। প্রথমত, অবশ্যই জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে নক আউট রাউন্ডের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা বাড়িয়ে নেয়া। তবে প্রতিপক্ষ শক্তিমত্তার বিচারে অনেকটা পিছিয়ে থাকবে, ব্রাজিল লক্ষ্য রাখবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দিকেও। এই ম্যাচে কার্ড দেখে কাউকে যেন নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় কাটা পড়তে না হয় কিংবা চোটের শিকার না হন, স্কলারি নিশ্চিতভাবেই লক্ষ্য রাখবেন সেদিকে। সেই হিসাবে নিয়মিত একাদশের কাউকে বিশ্রাম দেয়াও মোটেই অসম্ভব নয়। অন্যদিকে, ক্যামেরুন চাইবে বিশ্বকাপ শেষ করার আগে অন্তত কিছু প্রাপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয় তো অবশ্যই ন্যূনতম ড্র করতে পারলেও হয়তো কিছুটা সম্মান নিয়েই দেশের বিমানে চড়তে পারবে তারা। এই ম্যাচে হয়তো শুরু থেকেই মাঠে নামতে পারবেন তাদের নিয়মিত অধিনায়ক দলের সবচেয়ে বড় তারকা স্যামুয়েল ইতো। এটাও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটির ঠিক বিপরীত অবস্থা বিরাজ করবে রেসিফের অ্যারেনা পারনামবুকোয়। ম্যাচ না বলে এটাকে যুদ্ধ বলাই বোধহয় শ্রেয়। কারণ, দুই দলের শক্তিমত্তায় খুব বেশি পার্থক্য নেই, শারীরিকভাবে দারুণ ফিট তারা, দলীয় সমঝোতার দিক থেকেও কেউ কারো চাইতে পিছিয়ে নেই। ড্র করলেই মেক্সিকোর উত্তরণ নিশ্চিত, তবে আমার মনে হয় না তাই বলে খুব বেশি রক্ষণাত্মক খেলবে তারা। কারণ তাদের খেলার ধরনটা কখনোই তেমন নয়। আমার মনে হয় তাদের খেলাটা হবে কিছুটা কৌশল আশ্রয়ী। রক্ষণে মূল দৃষ্টিটা থাকলেও পাল্টা আক্রমণে গোল আদায় করে নিতে চাইবে তারা। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার তো হারানোর কিছু নেই। সুতরাং তাদের কাছ থেকে অল আউট আক্রমণই আশা করছি আমি। সব মিলে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে এটি। ফিফার নিয়মানুযায়ী গ্রুপের শেষ দুইটি ম্যাচ একই সময়ে শুরু হবে। ব্রাজিলের সমর্থক সংখ্যা বেশি বলে বেশিরভাগ মানুষয়ই হয়তো ব্রাজিলের খেলাই দেখবেন। তবে প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীদের চোখ কিন্তু থাকবে এই ম্যাচের দিকেই। এদিকে, বি গ্রুপ থেকে এরই মধ্যে নক আউট রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলা দুই দল নেদারল্যান্ডস এবং চিলির ম্যাচটা একেবারে গুরুত্বহীন নয় একটা কারণে। এই গ্রুপের সদস্য না হয়েও এখানে পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে ব্রাজিল। নিজেদের গ্রুপ থেকে ব্রাজিল যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে এই গ্রুপে যে রানার্সআপ হবে নক আউট রাউন্ডে তাকেই ব্রাজিলের মোকাবিলা করতে হবে। চিলি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ব্রাজিলকে এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবে তারা। এদিকে গতকাল সতীর্থদের উদ্দেশে প্রায় একই আহ্বান জানিয়েছেন রবিন ফন পার্সি। ব্রাজিলকে এড়ানোর জন্য হলেও রোবেন-ডি জংদের ভালো খেলতে উত্সাহিত করেছেন ডাচ অধিনায়ক। সুতরাং, এই ম্যাচটা একেবারে গাছাড়া ভাবের হবে এমনটা ভাবার মোটেই কারণ নেই। অন্য ম্যাচে স্পেন খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। সকারুজদের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সমর্থকদের পোড়া মনে প্রলেপ বুলাতে চাইবে স্পেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া চাইবে প্রথম দুই ম্যাচেই লড়াই উপহার দেয়ার পর শেষ ম্যাচে ন্যূনতম ইতিবাচক ফল। চিলি-নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্স বলছে, এই ম্যাচে স্পেনকেও চাপে ফেলার ক্ষমতা আছে তাদের। এদিকে, গত শনিবার রাতের দুই ম্যাচে অভাবনীয় কিছু ফুটবল পারফরম্যান্স দেখেছি আমরা। ইরান এই বিশ্বকাপের সেরা রক্ষণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। তবে লিওনেল মেসি এমন একজন খেলোয়াড় যার যে কোন মুহূর্তে, যে কোন জায়গা থেকে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়ার ক্ষমতা আছে। এই পুরনো বিষয়টাই কাল নতুন করে আরেকবার প্রমাণ করলো সে। অন্যদিকে, ঘানা-জার্মানি ম্যাচকে আমি বলবো এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচ। জার্মানির মতো দলকে বলা চলে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল ঘানা। যদিও, মিরোস্লাভ ক্লোসার গোলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে সক্ষম হয় তারা। তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে আমি জার্মানিকে মাপতে রাজি নই। তাদের টিম স্পিরিট, ফিটনেস এবং বিশেষত শক্তিশালী একটি রিজার্ভ বেঞ্চ বলছে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব তাদের পক্ষে।