লড়াইটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, হিসাবটা সহজ! চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও দুইবারের শিরোপা জয়ী উরুগুয়ের খেলায় পরাজিত দলকে বিদায় নিতে হবে গ্রুপপর্ব থেকে। অপরদিকে বিজয়ীরা ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে ব্রাজিল বিশ্বকাপের নক-আউট পর্ব খেলবে। নাতালে অ্যারেনা ডাস দুনাসে সমর্থকরা আজ দেখতে পারবে ‘ফাইনালতুল্য’ এই ম্যাচ।
কোস্টারিকা টানা দুই জয়ে আগেই এই গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করে রাখে। তাই হিসাবটা এখন দ্বিতীয় দল নিয়ে। বিশেষ করে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর এখন সবার নজর ইতালি-উরুগুয়ের দিকেই। একটি করে জয়-পরাজয় নিয়ে দুইদল সমান তিন পয়েন্টে থাকলেও একটি মাত্র গোলের ব্যবধান নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে ইতালি। এর পরের অবস্থানই উরুগুয়ের।
গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটিতে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে আজ্জুরিরা। ড্র করতে পারলেই যথেষ্ট তাদের জন্য; নিশ্চিত হয়ে যাবে শেষ ষোলর টিকিট। সে ক্ষেত্রে হিসাবের মারপ্যাঁচে পড়ে বিদায় নিতে হবে উরুগুয়ের। তবে লুই সুয়ারেজ, দিয়েগো ফোরলান, এডিসন কাভানিরা জয় পেয়ে গেলে বিপত্তি ঘটবে ইতালির। দেশে ফেরার জন্য ব্যাগ গোছাতে হবে তাদের।
কোস্টারিকার কাছে ৩-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হার দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ শুরু করে সুয়ারেজহীন উরুগুয়ে। ইনজুরি কাটিয়ে পরের ম্যাচেই যোগ দেন লিভারপুলের এই স্ট্রাইকার। তার নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে উরুগুয়ে। এই রোমাঞ্চ ইতালির বিপক্ষেও কাজে লাগাতে পারে তারা। বিশেষ করে সুয়ারেজ তার নান্দনিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে সিজার প্রানদেল্লির দলের বিপক্ষেও জয় প্রত্যাশা করতে পারে লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ ইতালির বিপক্ষে লড়াইটা খুবই চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন, ‘দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে এটা। গত বছর কনফেডারেশন কাপেও তাদের বিপক্ষে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম। প্রথম ৩৫ মিনিট আমরা ভালই খেলেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়টা তাদেরই হয়েছে।’
প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের বিপক্ষে হয় জয়, নয় ড্রয়ের কোনো বিকল্প নেই প্রানদেল্লির শীষ্যদের। তা না হলে গত বিশ্বকাপের পর এবারও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না তাদের। দুর্দান্ত লড়াইয়ের আগে কন্ডিশনটাকে বেশ গুরুত্বের চোখে দেখছেন ইতালির অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফন, ‘আমি মনে করি এই কন্ডিশনে ইউরোপীয়ান দলগুলোকে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ফাইট করতে হচ্ছে। তবে এটা কোনো অজুহাত হতে পারে না।’
ইতালির গোলরক্ষক বুফন প্রতিযোগিতায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের হারটিকে খুব বড় করে দেখছেন না। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ লড়াইয়ে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মত দেন তিনি, ‘ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয়ম্যাচে আমাদের রেকর্ড তেমন ভাল না। তবে ইতালি স্বভাবতই গ্রুপপর্বে তৃতীয় ম্যচে অনেক ভাল খেলে।’ উরুগুয়ের বিপক্ষে নিজেদের সম্ভাবনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল ধরনের সম্ভাবনার দুয়ার খোলা আছে। আমরা নিজেদের বদলাতে পারি, এটাই আমাদের সেরা গুণ। আমি মনে করি এই বদলাতে পারার গুণপনা আমাদের প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে সাহায্য করবে।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেয়া কৌশল ইতালির বিরুদ্ধেও ধরে রাখছে উরুগুয়ে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে খেলা ৪-১-৪-১ পরিবর্তন আনতে পারেন ইতালির কোচ প্রানদেল্লি। উরুগুয়ের বিপক্ষে তার কৌশল হতে পারে ৩-৪-২-১ অথবা ৩-৫-২। তবে সার্বিক পরিসংখ্যানে ইতালি থেকে এগিয়ে উরুগুয়ে। এ পর্যন্ত নয়বার মুখোমুখি জয়েছিল দল দুইটি। এরমধ্যে ইতালি জয় পেয়েছে দুইটি ম্যাচে, উরুগুয়ের জয় তিনটিতে। ড্র হয়েছে চারটি ম্যাচ। তবে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিপক্ষগুলোর বিরুদ্ধে ইতালির পারফরম্যান্স চোখ ধাঁধালো। এর আগে বিশ্বকাপে এই অঞ্চলের প্রতিপক্ষগুলোর বিপক্ষে ১৯টি ম্যাচ খেলেছে তারা। এরমধ্যে তিনবারই মাত্র হেরেছে আজ্জুরিরা। এই পরিসংখ্যান ঠিক রাখতে পারলে উরুগুয়ের বিপক্ষে ভাল কিছু প্রত্যাশা করতেই পারে তারা।
