ভাল খেলা, আর জয় পাওয়া — দুটি ব্যাপারের পার্থক্যটা বেশ ভালই জানা আছে মার্ক উইলমটের। সর্বশেষ ২০০২ সালে দুর্দান্ত খেলেও তিনি দলকে নিয়ে যেতে পারেননি কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার ভূমিকা বদলে এসেছেন। কোচ হিসেবে পাশে পেয়েছেন এক ঝাঁক তরুণ প্রতিভা। ১২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে এলেও তাই ব্রাজিলে এবার বেলজিয়ামের সাথে আছে অন্যতম ফেবারিটের তকমা।
কিন্তু মাঠের খেলায় সেই প্রতাপ কই! দুর্দান্ত দল থাকার পরও কেন দুটি ম্যাচেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ইউরোপিয়ান দলটিকে? মার্ক উইলমট অবশ্য সুন্দর ফুটবল নয়, প্রাধান্য দিচ্ছেন জয়কেই। রাশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর তিনি জানান, তিন পয়েন্ট পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে সামনে এগিয়ে যেতে আপনার সবসময় ভালো খেলার দরকার নেই। আমার বিশ্বাস সেটার জন্যে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। বিবেচনা করা হবে বেলজিয়াম একটি ভালো জয় পেয়েছে আর দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। বাকি আর কোনো কিছুরই গুরুত্ব নেই।’
প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারলেও এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট বেলজিয়াম রাশিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করলো। মূলত ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া খেলাটিতে শেষ দশ মিনিটে প্রাণের সঞ্চার করেই বাজিমাত করে বেলজিয়াম। এটি তাদের টানা দ্বিতীয় জয়।
আলেকজান্ডার কোকোরিন প্রাণহীন প্রথমার্ধে সেরা সুযোগটি পেয়েও রাশিয়াকে এগিয়ে দিতে পারেননি। পোস্টের ছয় গজ দূরত্বে দাঁড়িয়ে কোকোরিনের নেয়া হেডটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আবার বেলজিয়ামেরও প্রথম গোলের সুযোগটি বিফলে যায় যখন শেষ বাঁশির সাত মিনিট আগে বদলি খেলোয়াড় কেভিন মিরালাসের শটটি বারে লেগে ফিরে আসে।
এর মধ্যেই বদলি খেলোয়াড় ডিভক ওরিজি রোমেলু লুকাকুর জায়গায় খেলতে নেমেই নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারকে স্মরণীয় করে রাখলেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটি করে। তাও আবার দুনিয়ার সেরা স্টেডিয়ামগুলোর একটি মারাকানায়। ১৯ বছর বয়সী ওরিজি খেলা শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে স্ট্রাইকার এডেন হ্যাজার্ডের বাড়ানো বলে বক্সের ভেতর দাঁড়িয়ে ডান পায়ের তীব্র শটে বলটি জালের উপরিভাগে জড়িয়ে বেলজিয়দের আনন্দে ভাসান। আগের খেলাতেও বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নজর কেড়েছিলেন ওরিজি।
বেলজিয়াম এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও মাঠের খেলায় সেরকম নৈপুণ্য দেখাতে পারছে না। প্রথম খেলায় আলজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারালেও তা ফেবারিটের মতো ছিল না। তারপরও গোলের খেলায় আসল কাজটুকু সারতে পারার কৃতিত্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে শেষ ষোলয় খেলা নিশ্চিত করলো কোচ মার্ক উইলমটসের দল।
লুকাকুর জন্য এবারের বিশ্বকাপটি এখন পর্যন্ত ভাল যাচ্ছে না। প্রথম খেলাতেও তাকে তুলে নেয়া হয়েছিল। এই রাতে তো তিনি কেবল ৫৬ মিনিট খেলে উঠে আসতে বাধ্য হন। বেলজিয়াম কোচ উইলমট তার জায়গাতেই মাঠে নামান ফরাসি লিগের দল লিলির খেলোয়াড়টিকে। আর মাঠে নেমেই বাজিমাত করেন অখ্যাত ওরিজি।
গতকাল রবিবার রাতের এ খেলায় রাশিয়াও গোলের বেশ কটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু তাদের আক্রমণভাগ সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোর রাশিয়া নিজেদের প্রথম খেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করতে সক্ষম হলেও ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে এদিন হেরেই যায়।
অথচ বিরতির পর রাশিয়া আক্রমণাত্মক হয়েই খেলা শুরু করেছিল। রাশিয়া গোলের শেষ সুযোগটি পায় ৮১ মিনিটে। সতীর্থ ওলেগ শাটোভের কাছ থেকে বল পেয়ে আন্দ্রে এশেংকো ডান দিক দিয়ে ঢুকে গোলে যে শট নেন তা বিপজ্জনক হলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির আগের মিনিটে স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার কোকোরিন ভাল একটি সুযোগ নষ্ট করেন। বেলজিয়ামের পোস্টে বাম প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে ছোট বক্সে দাঁড়িয়ে নেয়া কোকোরিনের হেডটি লক্ষ্যভ্রস্ট হয়। রাশিয়ার দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারবে কিনা তা এখন নির্ভর করছে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে শেষ খেলাটির উপর।
