বদলি খেলোয়াড় সিলভারস্টার ভ্যারেলার ইনজুরি টাইমে দেয়া গোলে পর্তুগাল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে এখনো পরের রাউন্ডের আশায় থাকলো। এটি ছিল বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের টিকে থাকার লড়াই। ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত জিততে দেয়নি পর্তুগাল। ইনজুরি টাইমে গোল পরিশোধ করে ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে পর্তুগীজরা। এর ফলে রোনালদো বাহিনীর ব্রাজিল মিশনের আশা এখনো কিছুটা হলেও টিকে রইলো।
গতকাল দিনের শেষ ম্যাচে মানাউসের অ্যামাজোনিয়া অ্যারেনাতে ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নান্দনিক এক ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দেন স্ট্রাইকার সিলভেস্টার ভ্যারেলা। আর শেষ মুহূর্তেই এই সমতায় যুক্তরাষ্ট্র একইদিকে যেমন দারুণ এক জয় বঞ্চিত হয়েছে ঠিক তেমনি ‘জি’ গ্রুপ থেকে তাদের নক আউট পর্বে যাবার পথটাও কঠিনই থেকে গেল। অন্যদিকে রোনালদো এবং সর্বোপরি পুরো পর্তুগাল দল প্রথম রাউন্ডেই বিদায়ের লজ্জা থেকেও আপাতত রক্ষা পেল। গ্রুপের অপর দুই দল জার্মানী ও ঘানা আগের ম্যাচে ড্র করায় এখন এই গ্রুপ থেকে যেকোন দলের জন্যই নক আউটের পর্বের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানী সমান চার পয়েন্ট করে নিয়ে শীর্ষ দুটি স্থানে রয়েছে। পর্তুগাল ও ঘানার সংগ্রহে রয়েছে এক পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ড্র হলেই এই গ্রুপ থেকে এই দুই দলের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত হবে।
গতকাল দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পরে যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যান বলেছেন, ‘অবশ্যই শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় গোলটি হজম করা ছিল বেশ দুর্ভাগ্যের। কিন্তু আজ আমার খেলোয়াড়রা ছিল দুর্দান্ত। এখন আমাদের জার্মানীর বিপক্ষে ফল পেতে হবে। এখন আমার ছেলেরা বেশ আত্মবিশ্বাসী রয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পর্তুগালকে এগিয়ে দিয়েছিলেন উইঙ্গার ন্যানি। কিন্তু পাঁচ মিনিটের ঐ গোলের পরে ক্লিন্সম্যানের দল দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। দীর্ঘ সময় তারা ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে। ৬৪ মিনিটে এর ফলও পায় যুক্তরাষ্ট্র। দলের পক্ষে সমতা ফেরান জার্মেইন জোনস। এর নয় মিনিট পরে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তারকা ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসে। ম্যাচের সময় যত গড়িয়েছে ততই মনে হয়েছে এই দুই গোলই হয়তবা যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু পর্তুগাল নিজেদের ফিরিয়ে আনার জন্য যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিল।
যদিও ম্যাচটির শুরুতে ইনজুরি ছিল পর্তুগালের জন্য সবচেয়ে হুমকির কারণ। এমনকি হাঁটুর ইনজুরির কারণে অধিনায়ক রোনালদোরও মূল একাদশে খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে নিয়েই শুরু করেছিলেন কোচ বেনেটো পাওলো। যদিও থাইয়ের ইনজুরির কারণে হুগো আলমেইডা ও রুই প্যাট্রিসিও, কুঁচকির ইনজুরির কারণে ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাও এবং লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি পেপে। তাদের জায়গায় মাঠে নেমেছিলেন হেল্ডার পোসটিগা, রিকার্ডো কস্তা, আন্দ্রে আলমেইডা এবং বেটো। অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ইনজুরিগ্রস্ত জোজি আলটিডোরের স্থানে ক্লিন্সম্যান মধ্যমাঠে গ্র্যাহাম জুসির ওপর আস্থা রেখেছিলেন। ম্যাচ শেষে পুরো শক্তির দলকে একসাথে না পাওয়ার কারণকেই সামনে নিয়ে আসলেন রোনালদো, ‘পেপের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইনজুরিতে বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেছে কোয়েন্ত্রাওয়ের। দল সাজাতে তাই আমাদের বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছিল।’
জার্মানির গ্রুপে থাকার কারণে রোনালদোর মতো খেলোয়াড় থাকার পরও দুই ম্যাচ যেতে না যেতেই দ্বিতীয় রাউন্ড অনিশ্চিত হয়ে গেছে পর্তুগালের জন্য। সেই সমস্যা তো আছেই তার উপর রোনালদো নিজেও পর্তুগালের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা দেখছেন না বললেই চলে, ‘পর্তুগাল কখনওই বিশ্বকাপে ফেবারিট ছিল না। এমনকি বাছাইপর্বের রাস্তাটাও আমাদের জন্য সহজ ছিল না। আমি নিজেও তাই কখনও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখি না। নিজেদের সীমাবদ্ধতা আমাদের বুঝতে হবে। বিশ্বকাপে আমাদের চেয়ে ভাল অনেক দল আছে।’
সর্বশেষ মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রোনালদো জয় করেছিলেন ‘লা দেসিমা’! তার উপর ফিফা-ব্যালন ডি’অর বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও তিনি। তারপরও প্রথম রাউন্ডেই তিনি আছেন বাদ পড়ে যাওয়ার শঙ্কায়। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে চাইলে তাকে এখন শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি ভাগ্যের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
-বাসস/এএফপি
