প্রথম পৃ: পর
ফলে ড্র করলেই চলছে তাদের। তবে ফুটবল ঐতিহ্যের দিক থেকে উরুগুয়েও মোটেই পিছিয়ে নেই। তাছাড়া, তাদের একজন লুইস সুয়ারেজ আছেন, যার ক্ষমতা আছে যে কোন মুহূর্তে যে কোন ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেয়ার।
এই গ্রুপের অন্য ম্যাচটি তেমন বিশেষত্ব বহন না করলেও ‘সি’ গ্রুপে আগুন ঝরাতে প্রস্তুত আইভরি কোস্ট-গ্রিস। ফোর্তালেজার দর্শকরা আরেকটি বাঁচা-মরার ম্যাচ দেখবেন তাদের মধ্যে। কারণ, এই ম্যাচ যে জিতবে তার সামনেই থাকবে নকআউট রাউন্ডে যাবার সুযোগ।
জমাট রক্ষণ, কৌশল, ফর্মেশন, গোলরক্ষক আর অতীত রেকর্ডের বিচারে আমি বলবো ইতালি আজকের ম্যাচে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে। আন্দ্রে পিরলো কিংবা জিয়ানলুইজি বুফন বাদে খুব বড় কোন তারকা তাদের দলে না থাকলেও ইতালিকে মোটেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। আমি বলবো, ইতালি এখনও কৌশলের দিক থেকে পৃথিবীর সেরা দল। তাদের হয়তো যে কোন দলকে হারানোর ক্ষমতা নেই, কিন্তু তারা যদি চায় যে কোন দলকে রুখে দেয়া সম্ভব তাদের পক্ষে। সে দল যত শক্তিশালীই হোক।
কারণ, ঐতিহ্যগতভাবেই ইতালির রক্ষণভাগ অনেক বেশি জমাট। তাছাড়া একটা দল বহু বছর ধরে যে ফরম্যাটে খেলে অভ্যস্ত সেই ফরম্যাটে তারা বাড়তি কিছু সুবিধা পাবেই।
আমার মনে হয় ইতালি চাইবে নিজেদের পোস্ট সামলে দ্রুত কিছু পাল্টা আক্রমণ করতে। যদিও ইতালির এই দলে কোন ‘ক্লিনিক্যাল ফিনিশার’ চোখে পড়ছে না আমার যারা কিনা ছোট কোন সুযোগকেও কাজে লাগাতে পারে।
ঠিক এই জায়গায় ইতালির চাইতে এগিয়ে আছে উরুগুয়ে। সুয়ারেজ শুধু উরুগুয়ের নয়, বর্তমান বিশ্বেরই সেরা দু’তিনজন স্ট্রাইকারদের একজন। লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত একটা মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। আর ক্লাবের ফর্মটাই টেনে এনেছেন জাতীয় দলের জার্সিতেও। চোটের কারণে প্রথম ম্যাচটা মিস করলেও পরের ম্যাচে তাকে নিয়ে একটা জুয়া খেলেছিলেন কোচ অস্কার তাবারেজ। সেই জুয়ায় যে তার পূর্ণ পয়সা উসুল হয়েছে সেটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
দলের পাশাপাশি ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল সুয়ারেজের জন্যও। গুরুত্বপূর্ণ আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে সে। আমার বিশ্বাস আজ মূল লড়াইটা হবে ইতালির রক্ষণ বনাম সুয়ারেজ। কেউ কেউ ভাবতে পারেন একজন সুয়ারেজ ইতালির জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারবেন কিনা। তবে ব্যাপারটা মোটেই সে রকম নয়।
সুয়ারেজ যদি আক্রমণ চালান তখন কাভানি বা ফোরলানের মতো খেলোয়াড়রা অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে যাবেন। তখন গোল পেয়ে যেতে পারেন তারাও। আর সুয়ারেজের যে বৈশিষ্ট্যটি তাকে অন্য সব স্ট্রাইকারদের চাইতে তাকে আলাদা করে তুলেছে সেটি হচ্ছে তার সুযোগসন্ধানী মানসিকতা। এই কারণে, যে কোন হাফ চান্সকে গোলে পরিণত করা সম্ভব তার জন্য, ইতালির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোলটিই তার প্রমাণ। চোখের পলকে সঙ্গে থাকা দুই মার্কারকে ছিটকে ফেলে বলের দখল নেয়া এবং পরমুহূর্তেই গোল।
আজও সুয়ারেজের কাছ থেকে এমন কিছুই দেখতে চাইবেন সমর্থকরা।
অন্যদিকে, কোস্টারিকা-ইংল্যান্ড ম্যাচটা নিতান্ত নিয়মরক্ষার হলেও দু’দলেরই এখানে কিছু পাওয়ার থাকবে। ইংল্যান্ড চাইবে দেশের মানুষকে অন্তত একটা জয় হলেও উপহার দিতে। অন্যদিকে, এই ম্যাচে কেবল ড্র করতে পারলেই কোস্টারিকা নিশ্চিত করে ফেলবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে নকআউট রাউন্ডে যাবার সুযোগ।
এদিকে ‘সি’ গ্রুপ থেকে কলম্বিয়ার সামনে সুযোগ শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে নকআউট রাউন্ডে উত্তরণের। অবশ্য আজ জাপানের বিরুদ্ধে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাচ্ছে তারা। প্রথম ম্যাচে গ্রীসকে ৩-০ গোলে হারানো অ্যালেক্সিজ সানচেজের দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়েছে আইভরি কোস্টকে। ফলে আজ জাপানের বিরুদ্ধে অনেকটা নির্ভার থাকবে তারা।
এদিকে, এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের পরের রাউন্ডে যেতে হলে কলম্বিয়াকে হারানোর পাশাপাশি প্রত্যাশা থাকতে হবে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে গ্রীসের জয়েরও।
তবে জাপানের ম্যাচ নিয়ে না ভেবে আইভরি কোস্ট-গ্রীস নিজেদের নিয়েই ভাবতে চাইবে। কারণ, নকআউট রাউন্ডে সুযোগ এখনও ভালো ভাবেই আছে তাদের সামনে।
