অলরাউন্ডার মেহনাজ

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ১৯:২৫
মেয়েটি একবার স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় পর পর চারটি পুরস্কার পেল। একবার পুরস্কার নিয়ে এসে চেয়ারে বসতে না বসতেই পুনরায় আবার ডাক পড়ে পুরস্কারের জন্য। বসার সুযোগ যে আর হয় না! পরপর চার বার পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টা দেখে উপস্থিত দর্শকরাও খুব মজা পাচ্ছিল। দুই হাতে এত্তগুলো পুরস্কার সামলাতে কষ্ট হচ্ছিল। সেই মেয়েটি অলরাউন্ডার মেহনাজ মুমতাহিনা। তার অর্জনের পাল্লাটা বেশ ভারী ‘অলরাউন্ডার’ বিশেষণটা অনায়াসেই মানানসই। নাচ, গান, বিতর্ক, আবৃত্তি, অভিনয়, প্রতিযোগিতা, কুইজ— সবকিছুতেই সেরা। পড়াশোনায়ও তার জুড়ি মেলা ভার। ক্লাস ফাইভে পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। এবছর বিজ্ঞান বিভাগ হতে হলিক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পেয়েছে জিপিএ-৫। এ বয়সেই তার অর্জনের তালিকাটা খানিকটা লম্বা। অর্জন করেছে অর্ধশতাধিক পুরস্কার। মেহনাজ প্রথম স্কুল ছিল ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল। এখানে পড়া অবস্থায় সে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জিতেছে অসংখ্য পুরস্কার। ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের বিভিন্ন ক্লাব (সুবক্তা, কোয়ান্টাম, নান্দনিক) আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিতর্কে রানার-আপ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় হয় চ্যাম্পিয়ন। এই প্রতিভাবান কিশোরী ২০১০ সালে একুশে টেলিভিশনে স্কুল ভিত্তিক নাচের প্রতিযোগিতা ‘ধুম তা না’তে দলগতভাবে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। ২০১১ সালে গানের জন্য শিশু কল্যাণ পরিষদ থেকে অর্জন করেছে প্রথম পুরস্কার। একই বছর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের রচনা প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগেও হয়েছে চতুর্থ। মেহনাজ খেলাধুলায়ও অংশগ্রহণ করে নিয়মিত। তার দল ২০১২ তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হলিক্রস স্কুলের বার্ষিক ভলিবল টুর্নামেন্টে। এর আগে জোসেফাইট কালচারাল ফোরাম আয়োজিত বই ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় আন্তঃস্কুল পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে সে হয়েছে চতুর্থ। ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১০ সালে নান্দনিক সাংস্কৃতিক সংঘের নাচ, গান, অভিনয় আর আবৃত্তিতে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে অর্জন করেছে চ্যাম্পিয়ন পদক। যুক্তি-তর্কের বেলায়ও একধাপ এগিয়ে মেহনাজ! বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ২০১৩ সালে হয়েছে বিজয়ী। সুবক্তা ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ২০১০ সালে হয়েছে রানার-আপ। ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ সালে পর পর তিনবার একক ও দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কোয়ান্টাম কুইজ ক্লাবের কুইজে। আর প্রোগ্রেস ওয়েলফেয়ার আয়োজিত স্বাধীনতা কুইজ প্রতিযোগিতায় ২০০৮ সালে অংশগ্রহণ করে জিতেছে দ্বিতীয় পুরস্কার। সংগীতপ্রেমী মেহনাজের ভালো লাগে গুন গুন করে গান গাইতে। গান শুনতে এবং সংগীত দুনিয়ার খবরাখবর রাখতে। তার এত্তসব কাজের অনুপ্রেরণা দেন তারই অলরাউন্ডার গুণী বড় বোন কাশফিয়া নেহরিন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে পড়ছেন।