নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত ও শিক্ষার্থীদের কলরব এবং পাখির কলতানে মুখোরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহনীয় প্রকৃতির ক্যাম্পাস। মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রকৃতির সবকিছুই যেন আছে এখানে। প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ প্রজাতির প্রায় ৭ লাখ গাছ, ১৮০ প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী, দেশি-বিদেশি মাছ সমৃদ্ধ বহু জলাশয়, শীতের সময়ে জলাশয়গুলোতে লাল শাপলার মাঝে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখিদের লুকোচুরি খেলা এবং কিচির-মিচির শব্দে জাহাঙ্গীরনগর সাঝে এক অনন্য রূপে। এই মোহনীয় বিরল প্রকৃতি দেখার জন্য বহু দর্শনার্থী ভিড় জমায় কনকনে শীত উপেক্ষা করে।
সবুজ এই চত্বরের সব সৌন্দর্যের প্রাণ হল শিক্ষক-শিক্ষার্থী। দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে ফিরতে থাকে শিক্ষার্থীরা। আবার মুখোরিত হয়ে উঠল সবুজ চত্বর। নবনির্মিত প্রধান ফটক বাড়িয়ে দিয়েছে সৌন্দর্যের মাত্রা। ১৯৭১ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লাল সূর্যকে পাক-হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে আনা মানুষগুলোর স্মরণ ও সম্মানে নির্মিত দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মীনার স্বমহীমায় আকাশ পানে তাকিয়ে। হঠাত্ সন্ধ্যা কিংবা রাতে শিয়ালের ডাকে একটু হলেও রোমাঞ্চকর অভয়ারণ্যের ভয় এসে ভর করে মনে। সব মিলে জীব বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ মোহনীয় প্রকৃতির যেন এক বিরল সংস্করণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং জাহঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের পথচলা একই সুতোয় গাঁথা।
