প্রফেসর মাহফুজা খানম। একজন প্রথিতযশা শিক্ষকের পাশাপাশি তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবী এবং নারী নেত্রী। স্বাধীনতা-উত্তরকালে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ‘ডাকসু’র নির্বাচিত প্রথম এবং একমাত্র নারী সহ-সভাপতি। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়নেরও তিনি প্রথম বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। ভূষিত হয়েছেন রোকেয়া পদক, অনন্যা সেরা শিক্ষকসহ নানাবিধ পুরস্কারে। ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
লিখেছেন— বারেক কায়সার ও খান সাইদুর রহমান
প্রিয় শিক্ষক
আমি তখন বাংলাবাজার গার্লস স্কুলে পড়ি। মিস মার্গারেট আমাদের ক্লাস নিতেন। আমরা সবাই তাকে মার্গারেট দিদি বলে ডাকতাম। তিনি একাধারে আমাদের ইংরেজি, গণিত এবং ভূগোল পড়াতেন। এছাড়াও ব্লু বার্ড, গার্লস গাইড এবং হাতের কাজও শেখাতেন। আমরা তখন খুবই ছোট ছিলাম। মাঝে মাঝে দিদি আমাদেরকে তার কোলে বসিয়েও ক্লাস করিয়েছেন। তার স্নেহ, মমতা আমাকে এতোটাই আবিষ্ট করে ফেলেছিল যে সেই তখনই ঠিক করে ফেলেছিলাম বড় হয়ে তার মত শিক্ষক হবো।
স্কুলজীবনের মজার ঘটনা
স্কুলে মতিলাল স্যার আমাদের গান শেখাতেন। তিনি ছিলেন খুবই শান্ত প্রকৃতির মানুষ। তার গান আমার খুব ভাল লাগলেও মেয়েদের অনেকেই গান গাওয়ার জন্য গলা সাধাতে বিরক্ত বোধ করত। একবার মেয়েরা সবাই মিলে স্যার যে চেয়ারটায় বসতেন সেটাতে প্রচুর পরিমাণে চোতরা পাতা ঘষে রাখল। স্যার চেয়ারে বসে যেইমাত্র হারমোনিয়ামে হাত দিয়েছেন অমনি সব ফেলে-টেলে একেবারে লাফিয়ে উঠলেন। তার সেই সময়কার অনুভূতিটা আমার এখনো খুব মনে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণীয় ঘটনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকাকালীন প্রতিমাসে সবাইকে খাবারের জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হতো। কোন কোন মাসে সেই টাকার অনেকটাই বেঁচে যেত। অনেকেই তা অনেক কাজে খরচও করতো। একবার আমি সেই টাকা দিয়ে পুরো হলের সবাইকে ফিস্ট খাইয়েছিলাম। এতে ছাত্রীরা বাদেও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে
বাঙালি জাতির সহস্র বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার জন্য আমরা একটা প্রজন্ম লড়াই করেছি, আমাদের লক্ষ্যে যতদূর সম্ভব এগিয়েছি। এবারে তোমাদের পালা। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে যে, চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তা সমুন্নিত রেখে যেন তারা অন্যায় অবিচার মুক্ত নতুন এক সমাজ গড়ে তোলে।
ছবি: আরিফুর রহমান
