জমে উঠেছে বৃক্ষমেলা

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২০:৪৬
সেবা আর প্রচার প্রসারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই মেলায় যোগ দেয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এবারও এসেছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বন উন্নয়ন কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর. কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। রাবার গাছ থেকে ল্যাটেক্স সংগ্রহ পদ্ধতি, সংগ্রহের পর প্রক্রিয়াজাত করার সকল পদ্ধতি দেখানো হচ্ছে মেলার বাংলাদেশ বন উন্নয়ন কর্পোরেশন স্টলে। স্টলের সামনে রয়েছে একটি বীজতলা। যেখানে রাবার বীজ বপন করা হয়েছে। রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ের একটি ছোট রাবার বাগানের প্রদর্শনী বেড। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি রাবার গাছ থেকে ঝরছে কষ। রয়েছে ল্যাটেক্স প্রক্রিয়াজাতকরণের ট্যাংক, রোলার মেশিন ইত্যাদি। ল্যাটেক্স সংগ্রহের পর ফাইনাল প্রোডাক্ট তৈরির সকল প্রদ্ধতি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে। ৩৫ থেকে ৩৮ বছর বয়সী রাবার গাছ জীবনচক্র হারিয়ে ফেলে। এরপর ঐ গাছটি প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় আসবাবপত্র। রাবার কাঠ নরম হলেও রাসায়নিক কেমিক্যাল ব্যবহার করে টেকসই করা হয়, জানালেন স্টলের দায়িত্বরত দেলোয়ার হোসেন। বাঁশ থেকে প্লাইবোর্ড, পার্টিকেল বোর্ড, সিমেন্ট বন্ডেড পার্টিকেল বোর্ড ইত্যাদি নানা পণ্য তৈরির কৌশল শেখানো হচ্ছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট স্টলে। মূলী বাঁশের ফল, বীজ সংগ্রহ ও রোপণের পদ্ধতি, কোথায় লাগাতে হবে, কিভাবে লাগাতে হবে, এর পরিচর্যা, বাঁশের মড়ক দমন ব্যবস্থা, বাঁশের ঝাড় ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এখানে। স্টলের সামনেই রয়েছে কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষের একটি বেড। পাশের একটি বেডে বাঁশের বীজ বপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্র তদন্তকারী মো. আজিজুল হক ও তাপস কুমার দে জানান, শুরু থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছি। ঢাকার বাইর থেকে অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী আসছেন। তথ্য নিচ্ছেন। হাতে কলমে সব দেখে যাচ্ছেন। রাসায়নিক সংরক্ষণী প্রয়োগে আসবাবপত্র ও নির্মাণ কাজে ব্যবহূত কাঠের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির নানা তথ্য সেবা দিচ্ছি। রাস্তার তৈরির পাশাপাশি রাস্তার পাশে বৃক্ষায়ন করার সকল পদ্ধতি দেখানো হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর স্টলে। স্টলের সামনেই প্রদর্শনী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা, ব্রিজ, পাহাড়ের উপর ঘর-বাড়ি, হাট বাজার, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, সাইক্লোন সেল্টার সম্বলিত একটি পল্লী এলাকা। এর ফাঁকে রোপণ করা হয়েছে নানা জাতের বৃক্ষ। ক্রেতাদের হাতের নাগালে সব জাতের ফলদ বৃক্ষ পাওয়া যাচ্ছে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন স্টলে। এদিকে মেলার তথ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন বিক্রিত গাছের সংখ্যা এবং তার মূল্য প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৬টি গাছ বিক্রি হয়েছে। মূল্য ২ কোটি ২৭ লাখ ১ হাজার ৬৯৯ টাকা।