এবার লক্ষ্য ‘চিলি-বধ’!

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২১:৫১
দারুণ এক ম্যাচ কাটলো। ৪-১ গোলে জয়, নেইমারের জোড়া গোল। সব মিলিয়ে ঠিক এমন একটা চিত্রনাট্যেরই যেন মঞ্চায়ন চেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু এ কি! ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই যে ব্রাজিল ভাবছে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ নিয়ে। ভাবনার সূচনা করে দিলেন নেইমারই। ‘এ’ গ্রুপ থেকে প্রথম অবস্থানে থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল। আগামী ২৮ জুন চিলির মোকাবেলা করবে তারা। ‘বি’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলর টিকে পায় চিলি। প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে লড়াই নিয়ে বেশ সতর্ক ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নেইমার বলেন, ‘নেইমারের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য মোটেই সহজ হবে না। বড় অনেকগুলো দলের জন্য ওরা সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ওদের দুর্বল ভাবা আমাদের জন্য ভুল হবে।’ কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারির বক্তব্যও প্রায় একই রকম, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা আগের ম্যাচের চেয়ে ভাল খেলেছিলাম। ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল আরও ভাল। তবে, ভালর কোন শেষ নেই। আমি জানি, আমার দল এর চেয়েও ভাল খেলতে পারে। চিলি দলটা অনেক ভাল। তাদের দলের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন। আমার কাছে সুযোগ থাকলে আমি অন্য কাউকে বেছে নিতাম। কারণ দক্ষিণ আমেরিকার যেকোন দলের বিপক্ষেই খেলাটা বেশ কঠিন।’ ম্যাচে রক্ষণভাগ নিয়ে খানিকটা ভুগতে হয়েছে ব্রাজিলকে। এই যেমন ক্যামেরুনের গোলটাও হয়েছে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের কারণে। ড্যানি আলভেসের ভুলের কারণে বাঁদিক থেকে ক্রস করতে পেরেছিলেন অ্যালান নাইয়োম। এদিকে ডেভিড লুইজ ঠিক জায়গায় না থাকায় পাহারাহীন হয়ে পড়েছিলেন বলের জন্য অপেক্ষা করে থাকা মাতিপ। গোললাইনের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাতিপ আলতো টোকায় ব্রাজিলের জালে বল জড়ান। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে স্কোলারি তার ডিফেন্ডারদের পাশে দাঁড়ান, ‘রক্ষণ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র ভয় নেই। তারা আসলে অসাধারণ। স্বাভাবিকভাবেই বাকি সব দলের রক্ষণের মতো ওরাও বল হারাতে পারে।’ সমালোচকদের তর্জনী বেশি নির্দেশ করছে লুইজকে। ক্যামেরুনের বিপক্ষেই নয়, গ্রুপ পর্বের অন্য দুটি ম্যাচেও জায়গা নিয়ে তার মধ্যে অনেকেই অসচেতনতা দেখতে পেয়েছেন। তবে স্কোলারি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের পাশেই আছেন, ‘ডেভিড লুইজ দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’ সবাই যখন রক্ষণের দিকে আঙুল তুলছে, স্কোলারির দুশ্চিন্তা তখন দলের অন্য একটি জায়গা নিয়ে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দল যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি খুশি। কিছু চড়াই-উতরাই ছিল, আর এটা স্বাভাবিকই। কখনো কখনো আমরা মাঝমাঠে বল হারিয়েছি। আর বাকি সব কিছুর চেয়ে এটা নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি।’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেলেচাওদের খেলার প্রশংসাই করলেন ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ,‘আমরা উন্নতি করেছি এবং পরের ম্যাচে আরেকটু উন্নতি করব। এই ম্যাচে তো আমরা ৭/৮ গোল করতে পারতাম আবার আরো দুটো গোল বেশি খেতে পারতাম। সব মিলিয়ে আমি ছেলেদের খেলায় সন্তুষ্ট। এবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পালা।’