বিদায়, স্প্যানিশ বীর!

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২১:৫১
রং অনেক সময় প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটা হল, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচে। লাল ছেড়ে কালো জার্সি পড়ে নামলো স্পেন। শোকগ্রস্ত স্পেনকে প্রকাশ করার এর চেয়ে ভাল উপায় আর কি বা হতে পারে! সেই শোকটাও আবার নানামাত্রিক। চার বছর আগে যারা বিশ্বকাপ শেষ করেছিল বিজয়ীর বেশে, তারাই এবার বিদায় নিল প্রথম রাউন্ড থেকে। তার চেয়ে বড় এক শোকের উপলক্ষ ছিল স্প্যানিশদের সামনে। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার যে তুলে রাখতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের জার্সি! চার বছর আগেও সেই ডেভিড ভিয়া ছিলেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য জীবন্ত এক ত্রাস। একের পর এক গোল করে টিকিটাকাকে পরিপূর্ণতা এনে দিতেন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। পাঁচ গোল করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। অ্যাসিস্টের দিক থেকে তার থেকে এগিয়ে যাওয়াও গোল্ডেন বুট নিয়ে গিয়েছিলেন জার্মানির টমাস মুলার। সেটা নিয়ে কিছুটা হলেও আক্ষেপ থাকতে পারে ভিয়ার। কিন্তু, বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে ধরার আনন্দের কাছে বাকি কোন দুঃখের জায়গা হয় কি? সেই ডেভিড ভিয়ার বিদায়ী ম্যাচ ছিল গত সোমবার। কিউরিতিবায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। বিশ্বকাপ শুরু হবার আগেই তিনি ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন এটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। স্পেনের সামনে সুযোগ ছিল আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ দিয়ে ডেভিড ভিয়ার বিদায়টা রঙিন করে রাখার। বিশ্বকাপ স্মরণীয় থাকলো বটে, তবে সেটা স্পেনের ন্যক্কারজনক পারফরম্যান্স দিয়ে। কিন্তু এতো বড় খেলোয়াড় যিনি, তিনি তো একাই নিজের বিদায় স্মরণীয় করে রাখার জন্য যথেষ্ট। হলও তাই! ৩৬ মিনিটে ব্যাকহিল থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেন। ৫৭ মিনিট ছিলেন, প্রতিটা মুহূর্তেই ভাল ফুটবলের প্রতি তীব্র ক্ষুধা ঠিকরে বের হয়ে আসছিল তার শরীরিভাষায়। প্রতাপটা থেমে গেল যখন তাকে মাঠ থেকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হল। অশ্রু ধরে রাখতে পারলেন না। সতীর্থরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন। গ্যালারি ভর্তি দর্শকরা তখন আপ্লুত। বিদায় ঘটলো স্প্যানিশ বীরের। ম্যাচ শেষে আবেগ ছুঁয়ে গেল কোচ ভিসেস্তে দেল বস্ককেও। জয়, পরাজয় —যেকোন মুহূর্তে নির্বিকার থাকা মানুষটির বুকও যেন কেঁদে উঠলো প্রিয় শীষ্যর বিদায়ে। সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘আমি ভুলে গিয়েছিলাম এটা ওর শেষ ম্যাচ। আমাদের এখন ঘোর বিপদ। এই মুহূর্তে ওকে আমাদের খুবই দরকার ছিল। তবে, শেষ ম্যাচটা স্মরণীয় করার জন্য যা দরকার তার সবটাই ও করেছে।’ ডেভিড ভিয়া আসলে কত বড় তারকা? স্পোর্টিং গিজন, রিয়াল জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া হয়ে গত বিশ্বকাপের পর এসেছিলেন বার্সেলোনায়। কিন্তু বার্সেলোনায় এতো তারকার ভিড়ে ঠিক মত সুযোগও পেতেন না। এর মধ্যেও ৭৭টি ম্যাচে করেছিলেন ৩৩টি গোল। এরপর যোগ দিয়েছিলেন অ্যাটলেটিকো মাদিদে। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন লা লিগার শিরোপা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নিয়ে এসেছেন। সেখান থেকে মেজর লিগ সকার ক্লাব নিউইয়র্ক সিটিতে। ধারে সেখান থেকে আগামী মৌসুমটা খেলবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটির হয়ে। এসব দিয়েও ভিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা যাবে না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্প্যানিশদের হয়ে তিনি করেছেন সর্বোচ্চ গোল। স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড তার। ৯৭টি ম্যাচে ৫৭ গোল দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন রাউল গঞ্জালেস, ফার্নান্দো হিয়েরো, ফার্নান্দো মরিয়েন্তেসের মত তারকাকে। ২০০৯ সালের মার্চে তার গায়ে তুলে দেয়া হয় স্পেনের আদরের সাত নম্বর জার্সি। স্পেন, রিয়ালে এতো দিন রাউলের শরীরের শোভা পেতো সাত নম্বর। গণমাধ্যমেও তাই ভিয়াকে নিয়ে বাড়তে থাকে আগ্রহ, সাথে যোগ হয় সমর্থকদের প্রত্যাশা। সেসময় ভিয়া বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি যতদিন শরীরে আছে ততদিন যত বেশি সম্ভব গোল করে যাওয়ার চেষ্টা করবো।’ সেই কথা শেষ ম্যাচ অবধি রাখলেন ডেভিড ভিয়া। স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতারা খেলোয়াড় ম্যাচ গোল ডেভিড ভিয়া ৯৭ ৫৯ রাউল গঞ্জালেস ১০২ ৪৪ ফার্নান্দো তোরেস ১১০ ৩৮ ফার্নান্দো হিয়েরো ৮৯ ২৯ ফার্নান্দো মরিয়েন্তেস ২৭ ৪৭