চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, আবৃত্তি শিল্প আজ কেবল বাচনিক উত্কর্ষ সাধনের বিষয় নয়, এটা আন্দোলন-সংগ্রামের হাতিয়ার রূপেও ব্যবহূত হচ্ছে। ৯০-এর গণআন্দোলনে আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠনগুলোর কি জোরালো ভূমিকা ছিল—তা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। তাই এই শিল্পের চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তা নাহলে শুদ্ধ এই শিল্প চর্চা ব্যাহত হতে পারে।
তিনি গতকাল ১৮ জুন বুধবার জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সম্মিলিত আবৃত্তি জোট, চট্টগ্রাম আয়োজিত রবীন্দ্র নজরুল সুকান্ত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের সভাপতি রণজিত রক্ষিতের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক মশরুর হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ রুদ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান আলেচক ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. প্রকৃতি চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক ফারুক তাহের।
ড. প্রকৃতি চক্রবর্তী তার আলোচনায় বলেন, ‘রবীন্দ্র নজরুল সুকান্ত কেবল বাংলা সাহিত্যে অনিবার্য পঠন-পাঠনের বিষয় নয়, তাঁরা হয়ে ওঠেছেন এ জাতির সকল বিষয়ে অনুপ্রেরণা। বাঙালি জাতি এই তিন যুগশ্রেষ্ঠ কবিকে তাদের দ্রোহে ও প্রেমে যেমন স্মরণ করে, তেমনি প্রাত্যহিক নানা কাজের অনুষঙ্গেও তাদের শরণাপন্ন হন অকপট চিত্তে।’ অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরী, কণা দাশ, জাহানারা বেগম টিনা ও মুমতাহিনা জুঁই। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদ, উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ, মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, শব্দনোঙর আবৃত্তি সংগঠন ও শৈশব বাচিক চর্চা কেন্দ্রের শিল্পীরা।
