এই মুহূর্তে পৃথিবীতে কার মাথার দাম সবচেয়ে বেশী? বারাক ওবামা, ভ্লাদিমির পুতিন, স্টিফেন হকিং কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত কোন মৌলবাদী গোষ্ঠীে প্রধানের? এই প্রশ্নের বাস্তবসম্মত কোন উত্তর দেয়াটা কঠিন। তবে দিয়েগো গোডিন দাবি করতে পারেন বিশ্ব রাজনীতি-জ্ঞান বিজ্ঞানের এই সব মহারথী নন, এই মুহূর্তে তার কাঁধেই শোভা পাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি মাথাটা। মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি গোল যার মাথা থেকে এসেছে, তিনি তো এমন দাবি করতেই পারেন!
নূ ক্যাম্পে মৌসুমের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক বার্সেলোনার মুখোমুখি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। শিরোপা ধরে রাখতে কাতালানদের প্রয়োজন জয়, আর দেড় যুগ পর শিরোপায় হাত ছোঁয়াতে অ্যাটলেটিকোর কেবল ড্র হলেই চলবে। প্রায় এক লাখ উন্মাতাল স্বাগতিক দর্শকের সামনে আত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনা প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে অ্যালেক্সিজ সানচেজের গোলে। বল দখলের লড়াইয়ে অ্যাটলেটিকো এগিয়ে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গোলটা কিছুতেই আদায় করতে পারছিল না তারা। দিয়েগো সিমিওনের দলে যখন একটু একটু করে হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে তখনই গোল! অধিনায়ক গাবির বাড়িয়ে দেয়া বলে শূন্যে উঠে মাথা ছোঁয়ালেন গোডিন। হতাশায় পুড়লো কাতালানরা, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেল অ্যাটলেটিকো। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রায় অচেনা গোডিন, রীতিমতো নায়কে পরিণত হলেন।
প্রায় একই ঘটনার পুনঃমঞ্চায়ন গত মঙ্গলবার রাতে আরেকবার দেখলো বিশ্ববাসী। এবার একটু ভিন্ন ছিল সমীকরণটা। অ্যাটলেটিকোর যেখানে ঐ ম্যাচে কেবল ড্র হলেই চলতো, সেখানে এই রাতে ইতালির বিরুদ্ধে উরুগুয়ের জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় কেবল ড্র হলেই শেষ ষোলয় পা রাখতো ইতালি। গোল ব্যবধানের এই সুযোগটা নিতে ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় দলকে প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলালেন ইতালি কোচ সিজার প্রাণদেল্লি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জমাট রক্ষণে যখন লুইস সুয়ারেজরা বার বার প্রতিহত হচ্ছেন তখন নায়ক আবারো সেই গোডিন! ডান প্রান্ত থেকে রামিরেজের নেয়া কর্নার প্রান্ত থেকে উড়ে আসা বলে গোডিন যে হেডটি করেন, ইতালি গোলরক্ষক জিয়ানুলুইজি বুফনের সেটা ঠেকানোর কোন ক্ষমতাই ছিল না।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে তার দেয়া গোলেই প্রায় জিতেই যাচ্ছিল অ্যাটলেটিকো। অতিরিক্ত সময়ের সর্বশেষ মিনিটে সার্জিও রামোস রিয়ালকে সমতায় না ফেরালে আরো একবার হয়তো আলোচনায় আসতেন গত ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা এই ডিফেন্ডার।
ক্লাব এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এই মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলদুইটির মালিকের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা কিন্তু মাত্র ২১। অবশ্য গোল করা কিংবা ঠেকানো নয়, দলের হয়ে অবদান রাখতে পারাকেই বড় করে দেখতে চাইছেন গোডিন, ‘আমার ভাগ্য ভাল যে, এ বছর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গোল দেয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। তবে আমি সবসময়ই বলি, আপনি যদি দলের হয়ে আপনার কাজটা ঠিকভাবে করে যান, তাহলে আপনার যে কোন বিপদে দলও আপনাকে সমর্থন জানাবে। এটা আসলে এমন একটা খেলা ছিল যেটা অনেক বড় একটা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমাদের জন্য ম্যাচটা ছিল স্বপ্নের মতো এবং এই ফলাফল (জয়) দেশবাসীকে খুশির সাগরে ভাসাবে।’
