আহ্লান সাহ্লান

মাহে রমজান

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৪, ২০:২৮
শোকর আদায় করছি সর্বমহান আল্লাহ তায়ালার নিকট যিনি আমাদেরকে মুসলমান হিসেবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর সব হুকুম আদায় করার তৌফিক দান করেছেন। ইসলামের ৫টি মৌলিক কাজ হল: কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত। এগুলোর মধ্যে রোজা হল মহত্ত্ব অর্জনের ইবাদত। রোজা গরীব দুঃখী সকলের জন্য ফরজ করা হয়েছে। এ জন্য আল্লাহ কোরআন পাকে উল্লেখ করেন: ”হে ঈমানদারগন! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনটি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার” (সূরা বাকারা ১৮৩)। রমজান মাস হল সবচেয়ে বরকতপূর্ন ইবাদতের মাস। এ মাসে সকলে দরদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করে থাকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এ মাসে সবাই জামাতের সাথে নামাজ অদায় করে থাকে, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে আগ্রহী হয়, অন্তর দিয়ে কোরআন শরীফ তেলওয়াত করে থাকে, না হক ও বাজে কথা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চায়, সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে চায়। রিয়ার প্রভাব (লোক দেখানো ইবাদত) এ মাসে অনেকাংশে কম থাকে । রমজান মাসে প্রত্যেক ইবাদতের ফজিলত দশ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। প্রত্যেক মুসলমান অন্তর দিয়ে চায় কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। রমজান মাসকে আল্লাহ তায়ালা ৩ ভাগে ভাগ করে এর মহত্তকে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন ১ম অংশ আল্লাহর রহমতের , ২য় অংশ মাগফিরাতের এবং ৩য় অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তির। এর ফলে প্রত্যেক মুসলমান এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে ৩ ধরনের স্বাদ পেয়ে থাকে। রমজান মাস অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি আলোকিত কারন এ মাসে আল্লাহ মানব জাতির মুক্তির নির্দেশনা স্বরূপ মহা গ্রন্থ আল কোরআন নাযিল করেছেন। এ প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা বলেন—“রমজান মাসে কোরআন অবতীর্ন করা হয়েছে। এই কোরআন মানব জাতির জন্য পথ নির্দেশিকা ও পথ নির্দেশিকা বিবরনী। কাজেই যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে” (সূরা বাকারা -১৮৫)। রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য উপহারস্বরুপ শবে ক্বদর প্রদান করেছেন। শবে ক্বদরের ইবাদত হাজার রাতের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ । আর এ রাত হল বরকতময় রাত। আল্লাহ বলেন : আমি বরকতময় রজনীতে এটা নাজিল করেছি ” (সূরা দুখান ২/৩)। শবে ক্বদরের ফজিলত আল্লাহ তায়ালা সূরা ক্বদরের মধ্যে এ ভাবে উল্লেখ করেছেন: “নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি ক্বদরের রাতে। তুমি কি জানো ক্বদরের রাত কি? ক্বদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাত। এ রাতে জিবরাঈল ও ফেরেশতাগণ নানাবিধ বিষয় নিয়ে তাদের প্রতিপালকের অনুমোদন নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসে। আর ভোর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তি বর্ষণ করে থাকে” (সূরা আল ক্বদর ১-৫)। রমজান মাস হল সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস। আমরা এই মাসে অধিক সাধ্য-সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে সচেষ্ট হই।