নিজ দেশের আবহাওয়াটা তাদের চিরচেনা। তারপরও চিলির বিরুদ্ধে শনিবার নকআউট রাউন্ডের প্রথম খেলাটিতেই কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে ২০১৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ব্রাজিলকে।
গ্রুপপর্বের তিনটি খেলা রাতে অনুষ্ঠিত হলেও আসন্ন লড়াইয়ে বেলো হরাইজোন্তোর এস্তেদিও মিনেইরোতে দিনের আলোয় দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিবেশীদের মুখোমুখি হবে সেলেচাওরা। পরিবর্তিত কন্ডিশনের জন্য এরই মধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়াও শুরু করেছেন নেইমার, উইলিয়ান, লুইস গুস্তাভোরা। তবে, শিরোপাধারী স্পেনকে বিদায় করে দিয়ে নকআউট রাউন্ডে জায়গা করে নেয়া চিলির বিরুদ্ধে লড়াইটা মোটেই সহজ হবে না বলে মনে করছেন তারা।
ব্রাজিল বেলো হরাইজোন্তোর স্থানীয় সময় দুপুর একটায় চিলির বিরুদ্ধে খেলতে নামছে। তবে ক্লাবের হয়ে পুরো মৌসুম জুড়ে রাতে খেলে অভ্যস্ত হওয়ায় এই ম্যাচটা কিছুটা বিপাকে ফেলেছে খেলোয়াড়দের। সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ এবং একই সঙ্গে আর্দ্রতা আরো কঠিন করে তুলছে পরিস্থিতিকে। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ক্যামেরুনের সঙ্গে সর্বশেষ গ্রুপ ম্যাচের পর থেকেই নতুন অনুশীলন কৌশল অবলম্বন করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নিয়মিত অনুশীলন সূচী ভেঙ্গে দিনের বেলায় অনুশীলন করছেন তারা।
আগামীকালের খেলাটিতে নতুন ধরনের এই অনুশীলন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দলের রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার উইলয়ান। চেলসির নিয়মিত একাদশের এই তারকা বলেন, ‘আমাদের ভিন্ন একটা সময়ে খেলতে হবে। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার খুব বেশী সময় পাওয়া যাবে না। ঐ সময়টাতে আবহাওয়া থাকবে খুব গরম। সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতেই আমরা দিনের প্রথমাংশে এই অনুশীলনটা করেছি।’
প্রায় একই কথা বললেন আগের খেলায় নেইমারের প্রথম গোলটির পেছনে বড় ভূমিকা রাখা লুইস গুস্তাভো। বুন্দেসলিগা দল উলফসবার্গের এই তারকা বলেন, ‘আমি এর আগে কখনোই বেলা একটার সময় কোন ম্যাচে খেলিনি। তবে আমি সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে অভ্যস্ত। সুতরাং, ম্যাচের জন্য সময়টা খুব উপযোগী না হলেও আমি আত্মবিশ্বাসী সেখানে আমি শতভাগ মানিয়ে নিতে পারবো।’
শক্তিমত্তা কিংবা ফুটবল ঐতিহ্যে পিছিয়ে থাকলেও চিলি এই ম্যাচে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে বলেই মনে করছেন গুস্তাভো। বি গ্রুপ থেকে দুই জয় এবং একটি হার নিয়ে নক আউট রাউন্ড নিশ্চিত করা দলটির বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাই তাকে এই ধারণা দিচ্ছে বলে জানান গুস্তাভো। তিনি বলেন, ‘আমাদের সুযোগ হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার। সেখানে তারা আমাদের বিপদে ফেলার সব চেষ্টাই করেছে। দলটির মান সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে এবং দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছেন তাদের সঙ্গে। তবে ভালো খেলোয়াড়দের মোকাবিলা করাটা আপনাকে মাঠে কখনো কখনো উত্সাহিতও করবে।’
স্বাগতিকদের ২৭ বছর বয়সী এই তারকা ইঙ্গিত দিলেন চিলিকে পরাস্ত করতে ব্রাজিল তাই স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক কৌশলই বেছে নেবে। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আপনি যদি প্রতিপক্ষকে বল পায়ে রাখার সুযোগ দেন তাহলে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব ফুটবলে যে একটা জিনিস এখন পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে সেটা হলো আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং তীব্রতা। খেলোয়াড়রা এই বিষয়টা মাথায় রেখেই খেলতে নামবে।’ দুই দলের সামপ্রতিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকছে ব্রাজিল। গত বছর দুইটি প্রীতি ম্যাচে চিলির মুখোমুখি হয়ে প্রথমবার ২-২ গোলে ড্র করার পর শেষ ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল।
তবে চিলিয়ানদের বিরুদ্ধে অতীতের সাফল্য আজ কোন কাজে আসবে না বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন উইলিয়ান। অতীতে যে চিলি দলের মোকাবিলা ব্রাজিল করেছিল, এই দলটি তার চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী জানিয়ে গত ম্যাচে বদলী খেলোয়াড় হিসাবে মাঠে নামা এই তারকা বলেন, ‘আমার মনে হয় ফুটবল খেলাটা প্রতিনিয়তই পাল্টে যাচ্ছে। এটা পরিষ্কার যে, ব্রাজিল অতীতে চিলির বিরুদ্ধে বেশকিছু জয় পেয়েছে। নিঃসন্দেহে সেটা ব্রাজিলের জন্য আনন্দের ব্যাপার। তবে এখনকার পরিস্থিতি সম্পূর্ন ভিন্ন। (গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সের দিকে ইঙ্গিত করে) তারা অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী, অনুপ্রাণিত। আমরাও সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ সাম্বাফুট
