শিরোপা কি দক্ষিণ আমেরিকাতেই থাকছে?

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৪, ২১:৩৫
দক্ষিণ আমেরিকাতেই কি থেকে যাচ্ছে বিশ্বকাপ? ২০১৪ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরুর প্রাক্কালে এখন এটিই ফুটবলামোদীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। যদিও বাস্তবতা হলো নকআউট পর্বে ওঠা পাঁচটি দক্ষিণ আমেরিকান দলের মধ্যে চারটি পরস্পরের মুখোমুখি। এমনিতে দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বকাপের আয়োজন করা হলে বরাবরই ভালো করে এ মহাদেশের দলগুলো। এর আগে দক্ষিণ আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের চারটি আসরেরই শিরোপা ধরে রেখেছিলো এই মহাদেশের দলগুলো। ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষে এ অঞ্চলের ছয় দেশের মধ্যে ইকুয়েডর ছাড়া বাকি সবাই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। তাই ব্রাজিল বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কারোর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকছে। বিশ্বকাপে উপরে ওঠার বিচারে ২০১০ সালের আসরটিই ছিল দক্ষিণ আমেরিকার জন্য সেরা। কেননা সেবার দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। শেষপর্যন্ত অবশ্য উরুগুয়ে ছাড়া আর কেউই সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারেনি। সমর্থকদের কাছে এসব তেমন একটা বিবেচ্য নয়। তাই তারা নিজ দলের খেলা দেখতে অকাতরে টিকেট কিনেছে। ফিফার হিসেব অনুযায়ী সমুদয় টিকেটের ৬০ শতাংশ কিনেছে ব্রাজিলীয়রা। অপর দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা (৬১০০০), কলম্বিয়া (৫৪০০০), চিলির (৩৯০০০) সমর্থক সংখ্যা। বিদেশি দলগুলোর মধ্যে হিস্পানিক ভাষাভাষিদের জোর সমর্থনপুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র (দুই লাখ), জার্মানি (৫৯০০০) ও ইংল্যান্ড (৫২০০০) সমর্থকদের টিকেট কেনাটাও নজরকাড়া। ব্রাজিল গ্রুপ এ থেকে চ্যাম্পিয়ন দল হিসাবে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করবে। মুশকিল হলো তাদের বিপক্ষও একই মহাদেশের। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনকে হারানোর পর মেক্সিকোর সাথে ড্র করে ব্রাজিলের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৭। তিন খেলায় ব্রাজিলের গোল সাতটি, নিজেদের জালে বল যায় দুবার। নিজ মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের জোর ফেভারিট ব্রাজিলের নেইমার একাই করেন চারটি গোল। চিলি ‘বি’ গ্রুপে রানার্স আপ হয়। গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ২-০ এবং অস্ট্রেলিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারালেও নেদারল্যান্ডসের কাছে হার মানে দলটি। সবমিলিয়ে ছয় পয়েন্ট পেয়ে রানার্স আপ হয় চিলি। নিজেরা পাঁচ গোল করার বিপরীতে হজম করে তিনটি। কলম্বিয়া ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় জাপান, আইভোরি কোস্ট এবং গ্রিসকে হারিয়ে। তিন খেলায় তাদের গোল ও পয়েন্ট দুটোই সমান নয় করে। কলম্বীয়দের জালে বল যায় কেবল দুবার। এখন শেষ ষোলয় তাদের মোকাবিলা করতে হবে মহাদেশীয় পড়শি উরুগুয়েকে। দুবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ডি গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে শেষ ষোলোয় খেলবে। কোস্টারিকার বিপক্ষে ৩-১ গোলে পরাজয়ের পর দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইতালি এবং ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে কোচ অস্কার তাবারেজের দল। উরুগুয়ের পক্ষে-বিপক্ষে গোলের সংখ্যা চারটি করে। আর্জেন্টিনা ‘এফ’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় টানা তিন জয়ে। বসনিয়া হার্জেগোভিনা, ইরান ও নাইজেরিয়া তাদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ৯ পয়েন্ট নিয়েই শেষ ষোলয় যায় দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শিরোপা জয়ের জোর ফেভারিট আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের বিপক্ষ ‘ই’ গ্রুপের রানার্স আপ সুইজারল্যান্ড। লিওনেল মেসির দল ছয় গোল দিয়ে তিনটি হজম করে। মেসির একার গোলই চারটি। দক্ষিণ আমেরিকার পাঁচ দলের মধ্যে তিনটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও বাকিরা রানার্স আপ হিসাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। ফিফার বিশ্ব র্যাংঙ্কিয়ে সেরা দশ দলের মধ্যে চারটি ব্রাজিল (৩), আর্জেন্টিনা (৫), উরুগুয়ে (৭) ও কলম্বিয়া (৮) দক্ষিণ আমেরিকার। এর আগে দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজিত চারটি বিশ্বকাপেই ছিল মেসি, নেইমার, ফোরলানের পূর্বসূরীদের আধিপত্য। সে আসরগুলোর মধ্যে দুবার শিরোপা ঘরে তোলে উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে নিজের মাঠে এবং ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিকরাই। এরপর ১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ যায় ব্রাজিলের ঘরে। শুধু তাই নয়; উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত তিনটি বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতেছে দক্ষিণ আমেরিকানরা। এগুলোর মধ্যে ১৯৭০ এর মেক্সিকো বিশ্বকাপে ব্রাজিল, মেক্সিকোয় ১৯৮৬’র বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আসরটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের শিরোপা জেতার নজির রয়েছে ছয়বার। এগুলোর মধ্যে ১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ১৯৩৪ সালে চেকোস্লোভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি। ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত করে একমাত্র শিরোপাটি জেতে ইংল্যান্ড। ১৯৭৪ সালে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি নেদারল্যান্ডসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্ব সেরার মুকুট অর্জন করে। ১৯৭৮ সালে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের বিশ্বকাপ তুলে নেয়। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক ফ্রান্স। তাই ব্রাজিল বিশ্বকাপে সেলেচাওদের হেক্সা বা ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জয় করা আয়োজকদের জন্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।