নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা জরুরি

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২২:১২
দেশজুড়ে পরিচালিত জাতীয় হাইজিন বেসলাইন সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী মাসিক ব্যবস্থাপনার জন্য পুরনো কাপড়ই বার বার ব্যবহার করছেন। এমনকি সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ধুয়ে শুকানোর সুযোগও পান না। এ ব্যাপারে দরকার সচেতনতা। দেশে প্রথমবারের মত জাতীয় পর্যায়ে হাইজিনের উপর সমন্বিত এ সমীক্ষাটি পরিচালনা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট ইউনিট। এতে আরো দেখা গেছে, মাসিক চলাকালীন সময়ে ৪০ শতাংশ ছাত্রী স্কুলে যায় না। রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার এই সমীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী করণীয় ঠিক করার বিষয়ে একটি সংলাপ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে প্রতি ৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একটি করে টয়লেট থাকার কথা থাকলেও এই জরিপে প্রতি ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একটি টয়লেট পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ রেস্তোরাঁয় কর্মচারীদের জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। খুব কম সংখ্যক রেস্তোরাঁ খাবার ঢেকে রাখে এবং অর্ধেকের বেশি রেস্তোরাঁয় একই পানিতে ডুবিয়ে বার বার থালা-বাসন ধোয়া হয়। সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। বক্তব্য রাখেন, আইসিডিডিআরবির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্বাস ভুঁইয়া ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি ডা. খায়রুল ইসলাম। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, স্বাস্থ্য আচরণ বিধি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ জানে দাবি করলেও মাত্র ৪০ শতাংশ টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা দেখা গেছে। এই হার স্কুলগুলোতে মাত্র ৩৫ শতাংশ। গবেষকরা জানান, সাবান ও পানির ব্যবস্থা থাকার পরও এর ব্যবহার আরো অনেক কম যা অন্যান্য গবেষণাতে প্রতিফলত হয়। গবেষকরা স্কুলগুলোর অধিকাংশ টয়লেটই তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে যথাযথভাবে হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নত সুযোগ-সুবিধা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও যখন ৫ ঘণ্টাব্যাপী হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ করা হয় তখন মাত্র ২ থেকে ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার প্রকৃত প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হল প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে ডাক্তার ও নার্সদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র টয়লেট ব্যবস্থা দেখা যায়নি।