বাইশ জন ফুটবলার আছেন দলে। এগারো জন খেলছেন নিয়মিত একাদশে। কিন্তু সবার চোখ একজনের দিকে। তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। আর সুইজারল্যান্ডের জাদরান শাকিরি। সুইসরা মনে করছেন শাকিরি তাদের নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর। আর আর্জেন্টাইনরা মনে করছেন, এখন মেসিই পারে আমাদের হাতে ট্রফি তুলে দিতে। বিশ্বকাপ ফুটবল কাভার করতে ব্রাজিলে আসা সংবাদিকের কাছে জানা গেলো পুরো আর্জেন্টাইনরা এখন তাকিয়ে আছে মেসির দিকে। সুইসরা তাকিয়ে শাকিরির দিকে। আর্জেন্টাইনরা বিশ্বাস করে মেসি যা পারে তা আর কেউ পারবে না। সুইসরা বিশ্বাস করেন শাকিরি আর একটু শ্রম দিতে পারলেই এগিয়ে যাবে তাদের দেশ। মঙ্গলবার রাত ১০টায় প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হবে সাও পাওয়ালোর স্টেডিয়ামে।
দুই দেশের ফুটবল অনুরাগীরা নিজ নিজ দলের একজনের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু একজন ফুটবলারই কি একাই পারবেন একটা দেশকে ট্রফি এনে দিতে। আর্জেন্টাইনদের কথা হচ্ছে ’৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা যেভাবে পেরেছে মেসিও পারবে। প্রত্যাশার চাপ মেসির কাঁধে বেড়ে গেছে। মেসি এরই মধ্যে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে তুলে এনেছেন। নেইমার যেটা পারেননি ব্রাজিলকে এনে দিতে। ৩ ম্যাচে ৪ গোল করে করেছেন মেসি। এর চেয়ে বেশি মেসি আর কি করতে পারেন। মেসি যতই ভালো খেলছেন। আর্জেন্টাইনদের প্রত্যাশাটা ততই বাড়ছে। চাপে পড়ছেন মেসি। এখন নকআউট পর্বে এসে মেসির মাথায় শুধু একটাই ভাবনা কিভাবে এই কঠিন বৈতরণী পার হবেন। মেসিকে ভার মুক্ত রাখতে চেষ্টা করছেন তার কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা। কিন্তু মেসি ঠিকই বুঝতে পারছেন তার দেশের মানুষ কি চায়। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসি তেমন কিছু্ করতে পারেননি। ম্যারাডোনার মতো ফুটবল কিংবদন্তির তালিম নিয়েও মেসি এনে দিতে পারেননি ট্রফি। সেখানে হয় তো অনেক হিসাব ছিল। কিন্তু এখন সাবেলার মতো পরীক্ষিত কোচের ফুটবল কৌশল নিয়ে মেসি সাফল্যের ডানাটা ধরতে চান। দেশের মানুষের চাপ আছে। কিন্তু খেলতে হবে চাপ মুক্ত। ‘জিততেই হবে। না জিতলে চলবে না-এমন সব কথা যেখানে হয়, সেখান থেকে মেসিকে দূরে রাখতে চাইছেন সাবেলা। প্রয়োজনে টিভি দেখা বন্ধ। আর্জেন্টাইন টেলিভিশন অনুষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে মেসিদের রুমে। কারণ দেশের মানুষ মেসি মেসি করে গলা ফাটাচ্ছেন। পরিবারের বাইরের কারো সাথে কথা না বলার জন্য অনুরোধ রাখা হয়েছে অধিনায়কের কাছে। মানসিক চাপ যেন মেসিকে ঘিরে না ধরে তা দেখার জন্য বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের লোকজনও আছেন মেসির পাশে। আছেন মেসির স্পন্সররা। যাদের সাথে মেসির অর্থিক চুক্তি রয়েছে। সবারই টেনশন আছে ম্যাচটা নিয়ে।
মেসিকে নিয়ে এরই মধ্যে পরিকল্পনার ছক তৈরি করেছেন সুইজারল্যান্ডের জার্মান কোচ ওতমার। তারাও ধরে নিয়েছেন মেসিকে ঘিরে ফেলতে পারলে আর্জেন্টিনা শক্তিহীন হয়ে পড়বে। সেভাবেই জালাট বিছাবেন তারা। কিন্তু মেসি ছাড়াও তো আছেন ডি মারিয়া, হিগুয়েন, আগুয়েরা। তারা তো মেসিরই সহকারী। কিভাবে মেসিকে খেলাবেন এবং তার কাছ থেকে খেলাটা আদায় করে নিবেন সে জাদুটা যে তাদেরও জানা আছে। যদিও আগুয়েরা চোট পেয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবেন কিনা নিশ্চতয়তা নেই। কোচ সাবেলাও বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত না। কারণ তিনিও বলে দিয়েছেন তাদের সাইড বেঞ্চে এমন খেলোয়াড় রয়েছেন। যিনি জায়গা পূরণ করতে পারবেন।
আর্জেন্টিনার যেমন মেসি আছে। তেমনি সুইজারল্যান্ডের আছে জাদরান শাকিরি। সুইসদের জন্য আরেক মেসি তিনি। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে দলকে ঠেলে নিয়ে আসার কারিগর শাকিরি। দারুণ খেলছেন বিশ্বকাপে। হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছেন শাকিরি। বা পায়ের প্লেমেকার। নিজে খেলেন। অন্যদের খেলাতে দারুণ পটুত্ব আছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচের শুরুতে ফ্রান্সের কাছে ৫-২ গোলে হারলেও পরের দুই ম্যাচে ইকুয়েডর (২-১) এবং হন্ডুরাসকে (৩-০) হারিয়ে ই গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড। শাকিরি ছিলেন প্রতিপক্ষের ত্রাস। দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এটি। আর্জেন্টাইন কোচ সাবেলা এই শাকিরিকে নিয়ে মহা চিন্তায় আছেন। কারণ তার দুর্বলতা রক্ষণভাগে। সেটা কিভাবে সামাল দিবেন সেটাও বড় কথা। ম্যাচ নিয়ে যতো হিসাব নিকাষই করা হোক না কেনো, সুইসদের ভাবনা মেসিকে নিয়ে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
