‘সরদার ফজলুল করিমের দর্শন ছিল মানবসেবা’

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:৪৪
দেশের সাহিত্যে ও রাজনীতিকে জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিমের অবদান অতুলনীয়। তিনি একাধারে দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দর্শন ছিলো মানুষের সেবা করা। বর্তমান প্রজন্ম তাঁর অনুকরণ করলে অনেকটা উপকৃত হবে। শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিমের মৃত্যুতে এক নাগরিক শোকসভায় দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন। সরদার ফজলুল করিম নাগরিক শোকসভা কমিটি ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে এ শোকসভার আয়োজন করে। জাতীয় অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, সরদার ফজলুল করিম ছিলেন একাধারে বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদক, দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর মাঝে ছিল শৃঙ্খলাবোধ। রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে তিনি বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েও যাননি। বাংলা সাহিত্যে অনুবাদক হিসেবে যে কাজটা তিনি করে গেছেন তা অবিস্মণীয়। তাই ভবিষ্যতে দেশ ও জাতি তাঁকে স্মরণ রাখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি সাহিত্যে লিখেছেন মধ্যবিত্তের জন্য। এ সীমা অতিক্রম করেন নি তিনি। অন্যদিকে তিনি একজন রাজনীতিবিদও ছিলেন। এজন্য তিন ধাপে ১১ বছর জেলে ছিলেন তিনি। তবে তিনি ছিলেন মহত্ ও বড় মাপের মানুষ। সব শ্রেণির মানুষ তাঁর কাছে গিয়ে উপকৃত হত। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, তিনি একাধারে দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ নন। তাকে আমরা জ্ঞান তাপস হিসেবেও দেখি। তাঁর দর্শন ছিলো মানুষের সেবা করা। বাংলা সাহিত্যে তার অবদান উল্ল্যখযোগ্য। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, দর্শনশাস্ত্র তাঁর মূলকাজ হলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। আমরা সবাই তাঁর অনুকরণ করতে পারি। বর্তমান প্রজন্ম তাঁর অনুকরণ করলে লাভবান হবে। কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, তিনি দেশের মেহনতী মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তাই তিনি ইতিহাসের বড় সম্পদ হয়ে থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশের পরিচালনায় শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, আওয়ামীলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেলিন প্রমুখ।