সাম্প্রদায়িক শক্তি নির্মূলে চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:৪৪
সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সামপ্রদায়িকতা ও গণতন্ত্র একসাথে চলতে পারে না। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কাগজে-কলমে থাকলেও দেশ থেকে আজ দুটোই নির্বাসিত। সামপ্রদায়িক অপশক্তিকে নির্মূল করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। তারা বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশে ডজন ডজন জঙ্গি সংগঠনের উদ্ভব ঘটেছে। এই জঙ্গিদের কেউ আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, কেউ বা পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশে দীক্ষা লাভ করেছে। যার নানামুখী তত্পরতা দেশকে এক জটিল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বের হতে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, এক্ষেত্রে কারো আপোষ করার অবকাশ নেই। শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। মঞ্চের সভাপতি রাজনীতিবিদ অজয় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কলামিস্ট সোহরাব হাসান। আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডাঃ সারওয়ার আলী, ড. রমনী মোহন দেবনাথ প্রমুখ। সূচনা বক্তব্যে অজয় রায় বলেন, আমরা যে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি তা ধরে রাখতে পারিনি। ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার চেতনা হাতছাড়া হয়েছিল। তারপর যে গণতন্ত্রের কথা বলা হয় তা কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এখন পরিস্থিতি কি বলছে? তবে আমাদের হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। সোহরাব হাসান বলেন, আমরা ধর্মীয় জঙ্গিবাদের কথা বলছি। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে আরও নানা রকম জঙ্গিবাদ রয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য সমান বিপজ্জনক। গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনার সময় আমরা কেন অর্থনৈতিক জঙ্গিবাদ, আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ, জাতিগত বা সমপ্রদায়গত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলবো না। এ সকল ক্ষেত্রে যুদ্ধটা সমান হবে না কেন। রমনী মোহন দেবনাথ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল, আজ সম্পূর্ণ তার উল্টোভাবে দেশ চলছে। অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে, যার কোনো রাষ্ট্রধর্ম থাকবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগই রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্ম নিরপেক্ষতা একসাথে স্থান দিয়ে স্ববিরোধিতা করছে। ডাঃ সারওয়ার আলী বলেন, ২০১৩ সাল থেকে যতগুলো দাঙ্গা হয়েছে তার তিনটি ছাড়া কোনো স্থানে জনপ্রতিনিধি যাননি। প্রতিবেশিরাও পাশে দাঁড়ায়নি। আমরা দেখছি, জামায়াত জঙ্গিবাদের পরিকল্পনা করে, বিএনপি তা বাস্তবায়িত করে, লুটপাট করে আওয়ামী লীগ। খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, আমাদের বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করলে চলবে না। জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আমাদের একটু কঠোর হয়েও বঙ্গবন্ধুকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।