নিত্যপণ্যের মূল্য ক্রয়ক্ষমতায় রাখতে সরকার সচেষ্ট

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২১:৩২
রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতায় রাখতে সরকার সচেষ্ট বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, রমজানকে সামনে রেখে ১০ জুন থেকে দেশব্যাপী ১৭৪টি স্থানে খোলা ট্রাকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় হচ্ছে। তবে সারাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহে টিসিবি’র প্রয়োজনীয় জনবল নেই। রবিবার সংসদে টেবিলে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। টিসিবিকে কাউন্টার গ্যারান্টি প্রদান এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, টিসিবি’র মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সচেষ্ট। এজন্যই টিসিবি’র সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে টিসিবি’র ক্রয়কার্য পরিচালনার সুবিধার্থে আটশ কোটি টাকা কাউন্টার গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। টিসিবি’র জনবল ২২৫ থেকে বাড়িয়ে ২৭৫ করা হবে। এছাড়া এর পণ্য গুদাম ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার ৬৪৫ টনে উন্নীত করার পাশাপাশি এর কার্যক্রম সমপ্রসারণে বরিশাল, রংপুর, মৌলভীবাজারে ৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ময়মনসিংহ শহরে একটি ক্যাম্প অফিস স্থাপন করা হয়েছে। জিএসপি স্থগিতে প্রভাব পড়েনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মার্কিন বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় দেশের রপ্তানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ইউএসএ- তে দেশের মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১শ দশমিক ৯১ ডলার, তার বিপরীতে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ৫ হাজার ৪১৯ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে জুন-মে সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ৫ হাজার ৮৪ দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন ডলার। জিএসপি সুবিধা পুনরায় পেতে বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। ২০১৫ সালে চিলিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজাউল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, বিশ্বের ৪৯টি দেশে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া ২০১৫ সালের ১ জুন থেকে চিলিতে বাংলাদেশি সব পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ, ব্রাজিল, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনাসহ ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং সিআইএসভুক্ত বিভিন্ন দেশ সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি সম্ভাবনায় বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ চুক্তির মাধ্যমে ওসব দেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতেও চেষ্টা করছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ভোজ্য তেলের চাহিদা ১৬-১৭ লক্ষ টন। ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, জার্মানি থেকে তেল আমদানি করা হয়।