মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন রড্রিগেজ

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২১:৫৫
বয়স মাত্র ২২, প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন জেমস রড্রিগেজ। লাতিনদের আদরের হামেস রড্রিগেজ। বাজিমাত্ করে দেয়াটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু অসম্ভব কাজটা ঠিকই করে বসলেন তিনি। চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে বিশ্বকাপেরই নায়ক বনে গেলেন কলম্বিয়ান এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপের আগেও বোধ হয় জেমস রড্রিগেজের নামটা অপরিচিতই ছিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে। ক্লাব ফুটবলে খেলেন ফ্রান্সের মোনাকোর হয়ে। সেখানেও স্বদেশি রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন তিনি। ফ্যালকাওয়ের পর দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় দামী খেলোয়াড় তিনি। এবার ফ্যালকাও না থাকাতেই কি না জ্বলে উঠলেন তিনি! উরুগুয়ের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে দু’গোল করে প্রায় একাই দলকে নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। গোল নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন চার গোল করা মেসি, নেইমার ও টমাস মুলারকে। মারাকানা স্টেডিয়ামে ১৬ মিনিটে দলকে প্রথম এগিয়ে দেন রড্রিগেজ। বলা হচ্ছে গোলটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল। ডি বক্সের ভেতর বাঁ কাঁধ দিয়ে বল নামিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো ভলিতে উরুগুয়ের জাল খুঁজে নেন মোনাকোর এই মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাঠে গড়ানোর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আবারও গোলের দেখা পায় কলম্বিয়া। আবারও জেমস রড্রিগেজ। পাবলো আরমেরোর ক্রস থেকে হুয়ান কাদরাদোর হেড বিপজ্জনক জায়গায় খুঁজে পেয়েছিল রড্রিগেজকে। ফিরতি হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দেন পোর্তো থেকে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে গত মৌসুমে মোনাকোতে পাড়ি জমানো এই তারকা। বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে পাঁচ গোল। আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন কেবল দুই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী— রোনালদো ও রিভালদো। তালিকায় তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে যুক্ত হয়ে গেলেন জেমস রড্রিগেজ। এতো অর্জনের ম্যাচে প্রতিপক্ষ শিবির থেকেও তাই প্রশংসা পাচ্ছেন ক্ষুদে এই তারকা। উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ তার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে রড্রিগেজকে চিনি না। তবে তাকে অনেকদিন ধরেই জানি। অনেকবার দেখেছি। ও কতটা প্রতিভাবান ফুটবলার তা ইতিমধ্যেই দেখিয়েছে।’ এক রড্রিগেজের কাছেই উরুগুয়ে হেরে গেছে বলে মনে করছেন এই কোচ, ‘ফর্মের বিচারে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার রড্রিগেজ। অতিরঞ্জিত কোনো কথা বলছি না। নিজেদের সেরাটা ঢেলে তাকে রুখে দেয়ার চেষ্টা করেছে উরুগুয়ে। কিন্তু ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই রড্রিগেজ। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জেমস রড্রিগেজের মত খেলোয়াড়রা ঈশ্বরের উপহার। তারা অন্য সবার থেকে আলাদা।’ রডিগেজের জন্ম হয় ১৯৯১ সালে, কলম্বিয়ার কুকুটা শহরে। স্থানীয় ক্লাব এনভিগাডোতে শুরু করেন ক্যারিয়ার। সেখান থেকে ২০০৯ সালে চলে আসেন আর্জেন্টাইন ক্লাব ব্যানফিল্ডে। এরপরই পাড়ি জমান ইউরোপে। চলে আসেন পর্তুগালের পোর্তোতে। ২০১২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে জয় করেন পর্তুগিজ গোল্ডেন বলের খেতাব। সর্ব কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এমন অর্জনের পর নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ২১ বছর বয়সেই তিনটি লিগ শিরোপাও জিতে নেন। ২০১৩ সালে মোনাকোতে আসেন। এরপর সেখান থেকে বিশ্বকাপ। বাকিটা ইতিহাস!