অসম প্রতিপক্ষ ব্রাজিল বিশ্বকাপে এবারও অধরা রইল চিলির কাছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ষোলর লড়াইয়ে গত শনিবার জয়ের আশা জাগিয়েও টাইব্রেকারে সেলেচাওদের কাছে হারতে হয়েছে চিলিয়ানদের। এটাই তাদের প্রথম হার নয়, বিশ্বকাপে এ নিয়ে চারবার ব্রাজিলের কাছে পরাস্ত হলো পৃথিবীর সবচাইতে সরু দেশটি। এর আগে ১৯৬২ সালের আসরে সেমিফাইনালে, ১৯৯৮ এবং ২০১০ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে আসরে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
দল দু’টির অতীত লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও একপেশে। এবার নিয়ে ৬৯ বার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-চিলি। এর মধ্যে চিলির জয় কেবল সাতটিতে।
ব্রাজিলের বেলো হরাইজোন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে প্রথম ১২০ মিনিটে ১-১ এবং এরপর টাইব্রেকে ৩-২ গোলে ফয়সালা হয় শ্বাসরুদ্ধকর খেলাটি। চিলির কোচ জর্জ স্যামপাওলি খেলা শেষে বলেন, ‘আমি তাদের (চিলির খেলোয়াড়দের) যুদ্ধ করতে বলেছিলাম। সাহসী হতে বলেছিলাম। ইতিহাস মুছে দিতে বলেছিলাম। আমরা লক্ষ্যের খুবই নিকটে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, শেষ পর্যন্ত এটা সম্ভব হয়নি।’
শিরোপা প্রত্যাশী ও স্বাগতিক ব্রাজিলের সাথে এই রাতে কোচের কথামতোই দারুণ লড়েছে চিলি। কিন্তু টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায় শেষ শটে হেরে যাওয়া হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এমন পরাজয়কে তীরে এসে তরী ডুবার মতোই দেখছেন কোচ স্যামপাওলি, ‘জয়ের একেবারে নিকটেই চলে এসেছিলাম আমরা। মুহূর্তটি খুবই বাজে ছিল। গোল করতে পারলে আমরা চিরদিনের জন্য ইতিহাস রচনা করতে পারতাম।’ সামপাওলির মতে, ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে মারকানায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে স্বাগতিক ব্রাজিলের হার যেমন ‘মারকানাজো’ নামে পরিচিত, শনিবার রাতেও এমনই এক ইতিহাস ‘মিনেইরেজো’ রচনা করতে পারতো চিলি।
তার মতে চিলির খেলোয়াড়দের এর চাইতে বেশি উজাড় করে দেয়ার সুযোগ ছিল না। তার দল নেইমারকে যেভাবে অকার্যকর করে দিয়েছিলেন সেটিরও প্রশংসা করেন সাম্পাওলি। এছাড়া মিডফিল্ডার আরচুরো ভিদাল পুরোপুরি ফিট না হয়েও যে খেলা দেখিয়েছেন তারও প্রশংসা করেন চিলি কোচ।
দুর্দান্ত লড়াই উপহার দেয়ার জন্য শীর্ষদের প্রশংসা করে স্যামপাওলি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক গর্বিত। চিলিকে নিয়েও গর্ব করি আমি। স্টেডিয়ামে সবাই আমাদের বিপক্ষে ছিল। এরপরও আমরা সবটুকু দিয়ে খেলেছি। কঠিনভাবে লড়েছি। আমাদের দল জিতেই গিয়েছিল। যদিও নৈতিক জয়কে এই ধরনের পরিস্থিতি দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। আমরা হতাশ, আহত; কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের পারফরম্যান্সের জন্য আমরা প্রশংসিত হতে পারি।’
টাইব্রেকারকে ভাগ্যের সঙ্গেই তুলনা করলেন আর্জেন্টাইন কোচ স্যামপাওলি। তিনি বলেন, ‘টাইব্রেকার এমন কিছু যার জন্য সবসময় অনুশীলন করতে হয়। কিন্তু আপনি যখনই মাঠে নামবেন তখন পরিস্থিতিও ভিন্ন হয়ে যায়। এই অবস্থায় কিছু করে দেখানোর চেয়ে ভাগ্যের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয়। আমরা ব্রাজিলকে ভয় দেখাতে সক্ষম হয়েছি। বড় একটি দলের সঙ্গে আমরা আমাদের অবস্থানটা দেখাতে পেরেছি। আমি মনে করি খেলাটির পর ব্রাজিলিয়ানরা ভাল অনুভব করছে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।’
