ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার প্রাক্কালে রবিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। দেশটির পূর্বাঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় যৌথভাবে এক টেলিফোন সম্মেলনে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। এদিকে দেশটিতে দু’পক্ষের লড়াইয়ে রাশিয়ার এক ফটো সাংবাদিকসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছে।
সরকারি বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পথে। এমন সময়ে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দু’ঘন্টারও বেশি সময় ধরে নেতাদের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ চলে। এদিকে দোনেস্কে সামরিক ঘাঁটির কাছে রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর প্রতিবেদন করার সময় ঘাঁটির দিক থেকে গুলি এসে আনাতোলি ক্লাইয়ান, বয়স ৬৮, নামে এক ফটো সাংবাদিকের শরীরে আঘাত করে। এতে তার পাকস্থলী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি মারা যান। আনাতলি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড বলেছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও স্লোভিয়ানস্কে তল্লাশি কেন্দ্রের কাছে বিদ্রোহীরা ট্যাংক এবং মর্টারের গোলা হামলা করছে। ওদিকে দেশটির সেনারাও স্লোভিয়ানস্কের আশেপাশে বাজার এবং এপার্টমেন্ট ভবনে গোলা হামলা করছে বলে বিদ্রোহীদের উক্তি দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স। দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে ৫ জন সেনা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো ১৭ জন। তাছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দোনেস্কে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এছাড়া অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও বেসামরিক জনগণ হতাহত হলেও তা এখনো নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।
অন্যদিকে রবিবার দেশটিতে যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে প্রতিবাদ জানাতে প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোসেঙ্কোর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়। এসময় তারা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আবেদন জানায়। এক বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি কোন ফলাফল বয়ে আনবে না, শুধু আমাদের সৈন্যদের মৃত্যু ছাড়া। গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতির সময়কাল আরো তিনদিনের জন্য বাড়ানো হয়। সেই হিসেবে গতকাল সোমবার তা শেষ হওয়ার কথা। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা এটিকে প্রত্যাখ্যান করে পুরো সপ্তাহজুড়েই কিছু কিছু হামলা অব্যাহত রেখেছে।
