বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৪, ২১:৫৮
বাংলা একাডেমি সোমবার একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সমপ্রতি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত তিন খড়ের বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান-এর প্রকাশনা-উত্তর আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান-এর প্রধান সম্পাদক ও সহযোগী সম্পাদকের বক্তব্য প্রদান করেন যথাক্রমে অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ এবং ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান-এর প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ‘বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান কর্মসূচি’র পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত কবি আবুল হোসেন স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান বাংলা একাডেমির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অত্যন্ত স্বল্পসময়ে এমন একটি অভিধান প্রণয়ন করে একাডেমি বাংলা ভাষা-সাহিত্যের গবেষণায় তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে। সহজ ও ব্যবহারোপযোগী পদ্ধতিতে বিন্যস্ত এই অভিধান গোটা বাংলা ভাষার ইতিহাসকে ধারণ করে আছে। বর্তমান জ্ঞান ও সংস্কৃতিবান্ধব সরকার বাংলা একাডেমির এ ধরনের গবেষণাকর্মে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এই অভিধানে যে বিপুল শব্দ-সমাবেশ ঘটেছে তা অভূতপূর্ব। ভাষা-সাহিত্যের গবেষণায় এমন অভিধানের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত হালনাগাদের মাধ্যমে একে আরো উন্নততর করতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক হায়াত্ মামুদ, ভাষাবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, ভাষাবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক জীনাত ইমতিয়াজ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. হাকিম আরিফ প্রমুখ। তারা বলেন, বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান বাংলা একাডেমির ভাষা বিষয়ক অনন্যসাধারণ গবেষণাকর্মে একটি নতুন মাত্রা যোজনা করেছে। পরবর্তী সংস্করণে একে আরো ত্রুটিমুক্ত ও পূর্ণাঙ্গতা প্রদানে বাংলা ভাষার গবেষক-লেখক এবং ভাষা বিষয়ে অনুসন্ধিত্সু সকলের সহায়তা প্রয়োজন।