লক্ষ্য ব্রাজিল বধ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৪, ২২:০০
বিশ্বকাপের আগেও বোধ হয় জেমস রড্রিগেজের নামটা অপরিচিতই ছিল। ক্লাব ফুটবলে খেলেন ফ্রান্সের মোনাকোর হয়ে। সেখানেও স্বদেশি রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন তিনি। ফ্যালকাওয়ের পর দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় দামী খেলোয়াড় তিনি। এবার ফ্যালকাও না থাকাতেই কি না জ্বলে উঠলেন তিনি! উরুগুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ নক আউট পর্বের ম্যাচে দুই গোল করে প্রায় একাই দলকে নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। কলম্বিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারী এই খেলোয়াড়কে বলা হচ্ছে চলমান বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকা। ইউরোপিয়ান দলগুলো এর মধ্যে তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি নিজে অবশ্য বিশ্বকাপের বাইরে অন্য কোন কিছু নিয়ে ভাবতে চাইছেন না। আগামী ম্যাচ নিয়েই তার সকল ভাবনা। কোয়র্টার ফাইনালে আগামী চার জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ব্রাজিল। স্বপ্ন-যাত্রাটা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় কলম্বিয়া। পথে কোয়ার্টার-ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল বাধাকে পরোয়া করছে না এবারের বিশ্বকাপে দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা ও লাতিনদের প্রিয় হামেস রড্রিগেজ। ২২ বছর বয়সী রড্রিগেজের পায়ে ভর করে জয় পাওয়া কলম্বিয়া আগামী শুক্রবার টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ফোর্তালেজায় স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে। এ ম্যাচেও স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় ছাড়া কিছু ভাবছেন না রড্রিগুয়েজ। টুর্নামেন্টে তৃতীয় বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়া রড্রিগেজ বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি। এরই মধ্যে আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে সব সময়ই আমি এখানে খেলতে চেয়েছি। এটা আমার বড় একটা স্বপ্ন ছিল এবং আশা করছি ভবিষ্যতেও আমরা এটা করতে পারব।’ ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মোটেই চাপ নিচ্ছে না কলম্বিয়া। রড্রিগেজের ভাষায়, ‘এটা একটা স্বপ্ন, আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছি এবং আমরা আরো কিছু করতে চাই কারণ এটা এমন একটা দল যারা আরো অনেক কিছু জয় করতে চায়। এ ম্যাচে আমাদের ওপর কোন চাপ নেই। অবশ্যই তাদের দলে অনেক ভাল খেলোয়াড় রয়েছে এবং তারা ভাল খেলে। তবে আমার বিশ্বাস—তারাও অবশ্যই তীক্ষভাবে আমাদের ওপর নজর রাখবে। আমাদের দলে ভাল খেলোয়াড় আছে এবং আমরা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারি। সুতরাং খুবই সুন্দর একটি ম্যাচ হবে এটি। এটা আমাদের জন্য আহামরি কিছু হবে।’ জেমস রড্রিগেজের জন্ম হয় ১৯৯১ সালে, কলম্বিয়ার কুকুটা শহুরে। স্থানীয় ক্লাব এনভিগাডোতে শুরু করেন ক্যারিযার। সেখান থেকে ২০০৯ সালে চলে আসেন আর্জেন্টাইন ক্লাব ব্যানফিল্ডে। এরপরই পাড়ি জমান ইউরোপে। চলে আসেন পর্তুগালের পোর্তোতে। ২০১২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে জয় করেন পর্তুগিজ গোল্ডেন বলের খেতাব। সর্ব কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এমন অর্জনের পর নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ২১ বছর বয়সেই তিনটি লিগ শিরোপাও জিতে নেন। এরপর ২০১৩ সালে মোনাকোতে আসেন। এরপর সেখান থেকে বিশ্বকাপ। বাকিটা ইতিহাস! এই বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন চার গোল করা মেসি, নেইমার ও টমাস মুলারকে। বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল। আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন কেবল দুই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী— রোনালদো ও রিভালদো। তালিকায় তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে যুক্ত হয়ে গেলেন জেমস রড্রিগেজ। সেই রেকর্ডটা কি তাহলে আরো লম্বা হবে ব্রাজিলের বিপক্ষে!