বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

উদ্যানে কাটিয়েছি সারা বেলা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৯
শিক্ষা সফর সব সময়ই শিক্ষার্থীদের মনে একটি অন্য রকম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন জ্ঞান আহরণ করতে পারে তেমনি টানা একঘেয়েমি পড়ালেখার ফলে মনে যে ক্লান্তি আসে তাও দূর হয়। তাই প্রতি বছরের মত এ বছরেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম শিক্ষা সফরের আয়োজন করে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল উদ্যানতত্ত্ব খামার এবং বাকৃবির বোটানিক্যাল গার্ডেন। এ সফরটি ছিল কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের। শিক্ষকদের সহায়তা এবং প্রায় সকল শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণ সফরটিকে পরিপূর্ণ করে তুলেছিল। আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষক ড.মো. আলমগীর হোসেন ও ড.মো. নেছার উদ্দীন স্যারের অংশ গ্রহণ সফরের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। দিনটি ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা সকলে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে জমায়েত হই। এর আগে আমরা সকলেই সকালের নাস্তা সেরে নিয়েছিলাম। এরপর সকল শিক্ষক আমাদের সাথে যোগ দিলেন সকাল ৯টার দিকে। আমরা উদ্যানতত্ত্ব খামারের উদ্দেশ্যে বাসে উঠি। তখন থেকেই শুরু হয় শিক্ষা সফরের আসল মজা। বাসের ভিতর সারা রাস্তাই কাটে হাসি-ঠাট্টা আর গল্প-গুজব করে। এভাবে কখন যে আমরা খামারে পৌঁছে গিয়েছিলাম তা বুঝতেই পারলাম না। ঠিক ১০টার দিকে যখন আমরা উদ্যানতত্ত্ব খামারে পৌঁছালাম তখন থেকেই শুরু হয়েছিল শিক্ষা সফরের শেখার পর্ব। স্যাররা আমাদের নিয়ে গিয়েছিলেন কিভাবে মাশরুম কালচার করতে হয় তা দেখাতে। ওই খানে যাওয়ার পরে আমাদের সাথে পরিচয় হয় ঐ সেন্টারের এক কর্মকর্তার সাথে। তিনি আমাদের অতি সুন্দর, সাবলীল ভাবে দেখালেন কিভাবে মাশরুম চাষ করতে হয়। এর উপর তিনি প্রায় দুই ঘণ্টার ছোটখাট একটি ক্লাসই নিয়ে ফেললেন। এত সহজে এবং এত স্বল্প খরচে যে মাশরুম চাষ করা যায় তা আমাদের জানা ছিল না। এত সুস্বাদু মাশরুমের যে এত খাদ্য গুণ রয়েছে তা এ সফরটি না করলে আমাদের সকলের অজানাই থেকে যেত। এই মাশরুমকে বলা হয় পরিপূর্ণ আমিষ। এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল অ্যামাইনো এসিড এবং চর্বি নেই বললেই চলে। আমরা ইচ্ছা করলেই আমাদের বসত বাড়িতে খুব সহজেই মাশরুম চাষ করতে পারি। ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমরা বের হই ঘুরতে। ঘোরা শেষ হলে ওখান থেকে আমাদের বিদায় জানান উদ্যানতত্ত্ব খামারের কর্মরত পরিচালক। তিনি আমাদের অভিনন্দন জানান এবং হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরকে তার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ওখান থেকে বিদায় নেই। এরপর আমরা রওনা হই বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্দেশ্যে। প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা সেখানে পৌঁছাই। পৌঁছানোর পর আমরা প্রায় এক ঘণ্টার মত সময় পাই গার্ডেনটি ঘুরে দেখার জন্য। এই সময়ের মধ্যে আমরা পুরো গার্ডেনটি ঘুরে দেখতে না পারলেও অধিকাংশই দেখলাম। এখানে যে এত হাজার প্রজাতির বৃক্ষ আছে তা আমরা কেউই জানতাম না। এখানকার অধিকাংশ বৃক্ষই আমাদের অচেনা। তবুও নতুন নতুন বৃক্ষ দেখলাম এবং পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করলাম। এরপর স্যাররা আমাদের নিয়ে আবার ক্লাস নেয়া শুরু করলেন। সাধারণ ক্লাসগুলো সব সময়ই একঘেয়েমি লাগে। কিন্তু শিক্ষা সফরে এসে ক্লাসগুলো যেন আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠল। আসলে দেখতে দেখতে শেখার মজাই আলাদা।