মাথা উঁচু করেই বিদায় নিল আলজেরিয়া

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:১৭
শেষ ষোলতে শিরোপা প্রত্যাশী জার্মানির বিপক্ষে হারলেও দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধি আলজেরিয়া। পোর্তো অ্যালেগ্রির বেইরা রিও স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত লড়াইটি এতটাই জমেছে; জয় পেতে শক্তিশালী জার্মানিকে নির্ধারিত সময়তো বটেই, অতিরিক্ত সময়ের শেষ পর্যন্তও লড়তে হয়েছে। প্রথমবার বিশ্বকাপে শেষ ষোলতে উঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন লড়াই উপহার দেয়ায় নিজেদের গর্বিত ভাবছে আলজেরিয়া। শিরোপা প্রত্যাশী জোয়াকিম লোর শিষ্যদের প্রায় আটকেই দিয়েছিল আফ্রিকার দলটি। যদিও অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল হজম করায় শেষ পর্যন্ত অবশ্য কাছে এসে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয় তাদের। আলজেরিয়া ‘অসাধারণ’ এক জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল বলে জানালেন দলটির রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মাদজিদ বগুয়েরা, ‘আমরা অসাধারণ একটি জয়ের খুবই কাছে চলে গিয়েছিলাম। পুরো ৯০ মিনিটই শক্তিশালী জার্মানির সঙ্গে ভাল তাল রেখে খেলেতে পেরেছি আমরা। দুর্দান্ত কোয়ালিটি এবং শক্তি দেখিয়েছি আমরা। আমাদের খেলায় আমি গর্বিত।’ নির্ধারিত সময়ের পুরো ৯০ মিনিট জার্মানিকে গোলশূন্য কাছাকাছি আলজেরিয়া। প্রথমার্ধে ফরোয়ার্ড ইসলাম স্লিমানি বেশ ক’বার এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন মরুভূমির সৈনিকদের। এই সময়ে একটি গোলও করেছিলেন স্লিমানি। কিন্তু অফ-সাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তার এই গোল। বগুয়েরা বলেন, ‘আমি মনে করি প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের আরও আত্মবিশ্বাসী করতে পারতাম। এই সময়টায় আমরা অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’ অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন আলজেরিয়ার গোলকিপার আদি রেইস কোবস আদ্রিয়ান এম’বলহি। তার বাধার মুখে নির্ধারিত সময়ে একবারও সাফল্য পায়নি জার্মান খেলোয়াড়রা। পুরো খেলায় প্রতিপক্ষের অন্তত দশটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে হারলেও আলজেরিয়ার এই দলটিকে ইতিহাসের অংশ বলেই মনে করছেন রেইস। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত এই গোলরক্ষক বলেন, ‘আমরা আলজেরিয়া ফুটবল ইতিহাসের অংশ। এর আগে কোনোবারই দল এতোদূর আসতে পারেনি। আমরা দেখিয়েছি, সর্বোচ্চ পর্যায়েও আমরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালেই খেলতে পারি।’ মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা রোজা রেখে খেলেছেন। প্রথার্ধের শেষে (ইফতারি হিসেবে) তাদেরকে শুধু পানি খেতেই দেখা গেছে। জার্মানির বিপক্ষে দীর্ঘ সময় খেলার ক্ষেত্রে রোজার কোনো প্রভাব ছিল কি-না জানতে চাইলে এম’বলহি বলেন, ‘না, এটা (রোজা) কোনো ব্যাপার ছিল বলে আমি মনে করি না। দীর্ঘ সময় খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম আমরা। আমরা এমন পারফরম্যান্স দেখাতে পারবো বলে কেউ বিশ্বাস করেনি। রোজার কারণে আমাদের শারীরিক শক্তি হ্রাস পায়নি, সবাই ফিট ছিল এবং খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শেষের দিকে এসে দু’টি গোল হজম করতে হয়েছে আমাদের।’ হারার পর প্রেস কনফারেন্সে আসেননি আলজেরিয়া কোচ ভাহিদ হ্যালিহোদজিক। গুজব রটে পদত্যাগ করেছেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে আসা ডিফেন্ডার বগুয়েরা কোচের প্রশংসা করে বলেন, ‘তার পদত্যাগ নিয়ে চারদিকে গুঞ্জন চলছে। কিন্তু দলের জন্য যা করেছেন এর জন্য তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই আমরা। তিনি আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। খেলা শেষে আমরা সবাই তাকে চুমু খেয়েছি। যদি দায়িত্ব ছেড়েই দেন তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা উচিত। হ্যাঁ, আমরা হতাশ। এরপরও বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি এর জন্য আমরা গর্বিত।’