বোয়েটাংয়ের বোমা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:১৭
ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (জিএফএ) ‘অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির তারকা খেলোয়াড় কেভিন-প্রিন্স বোয়েটাং। জাতীয় দল থেকে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করার পর গত রবিবার রাতে প্রায় বোমাই ফাটালেন বোয়েটাং। বিখ্যাত জার্মান সংবাদপত্র বিল্ডের সাথে এক সাক্ষাত্কারে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিজ দেশের ফেডারেশনের অব্যবস্থাপনার নানা দিক তুলে ধরেন তিনি। জিএফএ-এর প্রতি উদ্দেশ করে বোয়েটাং বলেন, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং দলের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। হোটেল, বিমান- সব জায়গায় তারা অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।’ ২৭ বছর বয়সী এ তারকা অভিযোগ করেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গেরও। তিনি বলেন, ‘আমি মিলানে থাকাকালীন জিএফএ সভাপতি সেখানে গিয়ে ঘানার হয়ে পুনরায় খেলার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমাদের ভ্রমণ, ব্যবস্থাপনা এবং প্রস্তুতি আরো ভাল হবে বলে তিনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি তার কথা রাখেননি।সবকিছু মিলিয়ে আমি এখনো অসন্তুষ্ট। অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল একটা দুঃস্বপ্ন।’ বোয়েটাং আরো বলেন, ‘প্রথম অনুশীলন ক্যাম্পে আমরা আমস্টারডাম থেকে মিয়ামি উড়ে গেছি। আসন স্বল্পতার কারণে আমাদের সেখানে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে হয়েছে। এক গ্রুপ গেছে আটলান্টা থেকে আরেক গ্রুপ গেছে নিউইয়র্ক থেকে। ১৯ ঘণ্টার পথ যেতে আমাদের ৯ ঘণ্টা বিমান বন্দরে বসে থাকতে হয়েছে।’ ভ্রমণ ঝক্কির সেখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপের মতো একটা টুর্নামেন্টে যাওয়ার পথে বিমানে বোয়েটাংদের আসনও ছিল নিম্নমানের। সাবেক এসি মিলান তারকার অভিযোগেই স্পষ্ট সেটা, ‘এক সপ্তাহ পর মিয়ামি থেকে ব্রাজিল যেতে ১২ ঘণ্টা লেগেছে এবং ইকোনোমি ক্লাসে গাদাগাদি করে আমাদের বসতে হয়েছে।’ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া কোন খেলোয়াড়ের জন্য এটা চূড়ান্ত অপমান জানিয়ে বোয়েটাং বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য এটা যথেষ্ট হতে পারে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া একজন অ্যাথলেটের জন্য এটা অসম্মানের। জিএফএ সভাপতি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বিজনেস ক্লাসে বসেছেন। এবং ব্রাজিলে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত আমরা একটা চার্টার বিমান পেয়েছি; কিন্তু আমার লাগেজ হারিয়ে গেছে। দুই দিন ফুটবল বুট ছাড়াই আমাকে কাটাতে হয়েছে— এটা ছিল অসহ্য।’ ব্রাজিলে ঘানা দলের বোনাস নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রপতি জন ড্রামানি মাহামার নির্দেশে সমস্যার সমাধান হয়। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল খুবই ছোট একটা সমস্যা। এক মাস যাবত্ সবকিছুই আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। যা ছিল সত্যিকারের অসহনীয়। দুর্বল অনুশীলন ব্যবস্থা এবং ঘুমানোর সমস্যা ছিল। আমার কেবল একটাই জিজ্ঞাসা ছিল- টাকাগুলো যাচ্ছে কোথায়। স্পন্সর এবং ফিফার কাছ থেকে এসোসিয়েশন অনেক টাকা পেয়েছে- আমি নিশ্চিত যে— হোটেল, বিমান, দল এবং প্রস্তুতির জন্য এগুলো খরচ করা হয়নি।’ ব্রাজিলে চলমান ফিফা বিশ্বকাপে জি-গ্রুপে পর্তুগালের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচের আগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে দলের অন্যতম সেরা দুই তারকা বোয়েটাং ও সুলে মুনতারির উপর। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয় দুই জনকেই। দলের একটি অনুশীলন সেশনে কোচ কেশি আপিয়াহকে অকথ্য ভাষায় অপমান করায় বোয়েটাংকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে দুই বছর পর আবার ফিরে আসা এ মিডফিল্ডার বর্তমানে জার্মানির শালকে ০৪ দলের হয়ে খেলছেন। আর জিএফএ নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঘানা দলের ম্যানেজারকে আক্রমণের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয় মুনতারিকে। -বাসস