ছুটি কাটিয়ে আবার অনুশীলনে নেইমাররা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৪
আবার ক্যাম্পে ফিরে অনুশীলন শুরুর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে মনোযোগী হলেন নেইমাররা। কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারি চিলিকে হারানোর পর তার খেলোয়াড়দের দুই দিনের ছুটি দিয়েছিলেন যাতে বাড়ির পরিবেশে সময় কাটিয়ে, বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা করে আবার নতুন করে খেলায় মনোযোগী হতে পারেন। মাঠে ফিরতে পারেন ফুরফুরে মেজাজে। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে চিলির বিরুদ্ধে জয়ের নায়ক গোলকিপার হুলিও সিজার টাইব্রেকারে প্রথম দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন। টাইব্রেকার সম্পর্কে সেদিন বলেছিলেন, ‘ম্যাচটা এমন পর্যায়ে গিয়েছিলে যে আমার পরিবারের সদস্যরা হার্টবিট বেড়ে মারা যেতে পারতো।’ হঠাত্ ছুটি পেয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে চলে গিয়েছিলেন গোলকিপার সিজার। মেয়েকে নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ক্যাম্পে ফিরে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘নতুন করে শক্তি পাচ্ছি। ধন্যবাদ আমার বস স্কোলারিকে।’ ব্রাজিলের স্ট্রাইকার ফ্রেডের বাড়ি বেলে হরিজোন্তের শহরেই। এই শহরেই তার বেড়ে উঠা। ক্লাব ফুটবলে তার শুরু। এই মাঠে ফ্রেড প্রচুর গোল করেছেন। কিন্তু চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচে ফ্রেডের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল। সেটা ভালোই বুঝতে পারছেন ফ্রেড। তাই নিজের বাসা থেকে বের হননি ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকার। জানা গেছে ফ্রেড বাড়িতে ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। ঘুমের বাইরে সময় দিয়েছেন চার বছরের কন্যা যিওভানাকে। বাবা ঘুমিয়ে থাকলে বুকের উপর গিয়ে কন্যা ঘুমিয়ে পড়ে। বাবা আর কন্যার ভালোবাসার ছবি ফ্রেডের পরিবার থেকেই পোষ্ট করা হয়েছে। খেলায় ব্যস্ত থাকেন বাবা ফ্রেড। তাই বাবাকে সব সময় কাছে পায় না কন্যা। বাবার কাঁধে অনেক দায়িত্ব। সেটা নাকি বুঝতে পারে যিওভানা। তাই ফ্রেড বাসা থেকে ক্যাম্পে যাওয়ার সময় কান্না করেননি এই শিশু। ব্রাজিল দলে যাদের বাড়ি বেলে হরিজোন্তের বাইরে তাদের অনেকেই বাড়ি যাননি। অনেকের বাবা মা ভাই বোন বন্ধু বান্ধব এসেছিলেন বেলেতে। ব্রাজিলের ফুটবলারদের প্রায় সবারই বান্ধবী আছে। এরা বাবা মায়ের চেয়ে বান্ধবীর সান্নিধ্যটাই বেশি পছন্দ করেন। অনেক দিন ক্যাম্পে থাকতে হচ্ছে। বান্ধবীদের ক্যাম্পে এসে থাকার নিয়ম নেই। ফুটবল দলের ক্যাম্পে কড়া নিয়ম মেনে চলতে হয়। চাল চলনে সব ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব। জাতীয় দলের ক্যাম্পে কড়া শাসন থাকলেও কানে হেড ফোন গুঁজে দিয়ে শরীর দুলাতে দুলাতে চলা ফেরায় বাধা নেই। ক্যাম্পে উত্ফুল্লতার কমতি থাকে না। তারপরও খেলায় মানসিক চাপ থাকে। ভালো খেলার চাপ থাকে। ম্যাচ জেতার চাপ থাকে। ব্রাজিলের প্রায় ২০ কোটি মানুষের তরফে নেইমাররা চাপে আছে শিরোপা জয়ের জন্য। সবাই তাকিয়ে আছে ঘরের মাঠে খেলা হচ্ছে বলে। এবার হয়তো ১৯৫০ বিশ্বকাপের দুঃখ মুছে যাবে। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলতে নেমে ব্রাজিল দল এখনও আস্থার প্রমাণ দিতে পারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার পরও সামনের পথগুলো মসৃণ হবে এমনটা বিশ্বাস করতে চান না নেইমারদের বস স্কোলারি। তার ছেলেরা নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন না। স্কোলারি যেভাবে দলটাকে খেলাতে চাইছেন, সেটা তার মনঃপুত হচ্ছে না। ম্যাচ জিতে আসলেও নেইমার, অস্কার, ফ্রেডদের কাছ থেকে যে খেলাটা আদায় করতে চেয়েছিলেন সেটা হয়নি। ডিফেন্স ঠিক থাকলে, আক্রমণ ভাগ ঠিক থাকে না। আবার আক্রমণ ভাগ ঠিক থাকলে ডিফেন্স ঠিক থাকে না। ধারাবাহিকতা নেই। শনিবার রাতে চিলির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ম্যাচটা শেষ করেই স্কোলারি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের ক্যাম্প থেকে ছুটি দিয়ে দেবেন। পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে আসুক। সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুমেই নাকি খেলোয়াড়দের বলে দিয়েছেন, ‘বাড়ি যাও। পরিবারের সাথে সময় কাটাও। দুই দিন সময় আছে। বিশ্রাম নাও।’ নেইমারও ছুটে গেলেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। আর বিশ্বকাপ মানেই দেশের সাথে দেশের লড়াই। মর্যাদার লড়াই। শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। ফুটবল যুদ্ধে নেমে কেউ বিশ্রামে যায় না। তার পরও খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে স্কোলারি টনিক দিলেন ছুটি কাটাও। ফ্রেস হয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ো।