অভিনয়েই বেঁচে থাকা...

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ১৯:২৪
২০১২-তে লাক্স তারকাখ্যাতি যারা অর্জন করেন তাদের মধ্যে নিজের মেধা, শ্রম এবং অভিনয়শৈলী দিয়ে যিনি নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন তিনি ময়মনসিংহের মেয়ে প্রসূন আজাদ। নাটকে যেমন তিনি বেছে বেছে অভিনয় করেন ঠিক তেমনি তিনি অভিনয় করেন চলচ্চিত্রেও। গত শনিবার তিনি শুরু করেছেন তার তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নপোকা’র কাজ। এই চলচ্চিত্রে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। তারসঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি সেদিনও আকাশে বৃষ্টি ছিল। প্রসূনকে যখন ফোন করি তখন তিনি কাকরাইলে একটি হাউজে মেকাপ নিচ্ছিলেন। তার তৃতীয় ছবির শুটিং হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে। আমি সকাল ১০টায় সেখানে পৌঁছে গেলাম। বৃষ্টি তখন ঢাকার আকাশ ছেড়ে অন্য কোন শহরের আকাশে গিয়ে দানা বেঁধেছে। প্রসূন এলেন সেজেগুজে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে আমিসহ ইউনিটের সবার কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নিলেন তিনি। আজ শুধু গানেরই শুটিং হবে, জানালেন প্রসূন। আমি বললাম, আমাকে নিয়ে টেনশন করবেন না। আপনি আপনার কাজ করুন। আমি ফাঁকে ফাঁকে কথা বলে নেবো।’ একটি দৃশ্যের কাজ শেষে প্রসূন এসে পাশে বসলেন। কার্জন হলের মাঠে বসেই কথা হচ্ছিল তার সাথে। প্রসূন জানান, এবারের ঈদ উপলক্ষে খুব বেশি নাটকে তার কাজ করা হয়ে উঠেনি। বললাম কেন? জবাবে প্রসূন বলেন, ‘আমি জানি না আমার মতো স্ট্রাগল করে কেউ মিডিয়াতে কাজ করেন কি না। লাক্সতারকা হওয়ার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমি অনেক সংগ্রাম করে যাচ্ছি, প্রতিনিয়ত নিজের মেধা দিয়েই প্রমাণ করতে হচ্ছে আমি প্রসূন আজাদ একজন অভিনেত্রী। যারা আমার সম্পর্কে জানেন, তারাই কেবল আমাকে তাদের কাজে নিচ্ছেন। তাদের কাজ আমি অনেক যত্নে, মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করেছি। তারা আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এখানেই আমার ভালোলাগা, আমার অর্জন। দর্শক আমাকে ভালোবাসেন, তা পথে প্রান্তরে একটু চলতে ফিরতেই টের পাই। দর্শকই আমার কাজের অনুপ্রেরণা।’ কী হতে ইচ্ছে করে আপনার? ‘অভিনেত্রী হবো। আর কিছুই না। তবে সাধারণ কোনো অভিনেত্রী নয়; শবনম ম্যাডাম, শাবানা ম্যাডাম, কবরী ম্যাডাম কিংবা ববিতা ম্যাডামের মতো কালজয়ী নায়িকা হতে চাই। যেন দর্শক, দেশ আমার মৃত্যুর পরও আমাকে মনে রাখে।’ কিন্তু মনে রাখার মতো কাজ কী করতে পারছেন? ‘আপু, আমার তো সবেমাত্র শুরু। এই ধরুন এরমধ্যে দুটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছি। একটি ‘অচেনা হূদয়’ অন্যটি ‘সর্বনাশা ইয়াবা’। জানি না এ দুটি দর্শক কীভাবে নেবেন। তবে আমি আমার চরিত্র নিয়ে দারুণ আশাবাদী।’ আর ‘স্বপ্নপোকা’? ‘এটার কথা এখনই বলতে পারছি না। সবে তো শুরু হলো। দেখা যাক কী হয়!’ ঈদ উপলক্ষে কার কার নাটকের কাজ করেছেন? জবাব প্রসূনের, ‘খুব বেশি করা হয়নি। এর দুটো কারণ, একটি হচ্ছে আমি খুব বেছে কাজ করি, দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে আমি যোগাযোগ স্থাপন করে কাজ আদায় করি না। ঈদ উপলক্ষে সালাহ উদ্দিন লাভলুর ‘লায়েক খান দ্য গ্রেট’, তৌকীর আহমেদের ‘স্বর্ণলতা উপাখ্যান’, মেহেদী হাসান টিংকুর ‘দূর পরবাসিনী’ ও বিপু পালের ‘অটোগ্রাফ’ নাটকে কাজ করেছি। এছাড়া গৌতম কৈরীর গত ঈদে করা ‘কাগজের ক্যামেরা’ নাটকটি এবারের ঈদে প্রচার হবে এনটিভিতে।’ মাঝে একটি বিজ্ঞাপনেও আপনার নান্দনিক উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করেছে। ‘অমিতাভ রেজার কাজ সবসময়ই দর্শকের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়। আমিও প্যারাসুটের কাজটি করে অনেক রেসপন্স পেয়েছি। আগেই বললাম না যারা আসলে আমার সম্পর্কে জানেন, তারা আমাকে নিয়ে কাজ করতে চান এবং কাজ করেও তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটাই আমার প্রাপ্তি।’ ‘একটি মৃত্যুর স্বপ্ন’ অনিমেষ আইচের নির্দেশনায় আপনার অভিনীত প্রথম নাটক। এরপর ভালোলাগার কয়েকটি নাটকের নাম যদি বলতেন! ‘এরপর চয়নিকা চৌধুরীর ‘টকেটিভ’, সাজ্জাদ সুমনের ‘শহরে নতুন বালিকা’ আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত। এরপরও আরও অনেক ভালো ভালো নাটকে কাজ করেছি।’ আজাদ হোসেন ও শাহানা আজাদ দম্পতির মেয়ে প্রসূন আজাদ নিজেকে এখন অনেক গুছিয়ে নিয়েছেন। কালজয়ী অভিনেত্রী কিংবা নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন তার সফল হোক এই শুভ কামনা জানিয়ে সেদিন কার্জন হল থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলাম ইত্তেফাক ভবনে, তখনও আকাশে বৃষ্টি। কিন্তু থেমে ছিল না প্রসূনের নতুন চলচ্চিত্রের কাজ।