গোলবারের নিচের তার অসামান্য দক্ষতার কথা কারোই অজানা নয়। প্রতিভার জোরে তিনি গোলরক্ষকদের মধ্যে নিজেকে এক আলাদা অবস্থানে নিয়ে গিয়েছেন। গোলবারের নিচে এখন সেই ম্যানুয়েল নয়্যারকেই অন্যতম সেরা বলে বিবেচনা করা হয়। গোল আটকে দেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ও ডি-বক্সের ভিতর তার ক্ষীপ্রতা বিশ্বের নামি-দামি স্ট্রাইকারদের জন্যও হয়ে উঠতে পারে ভয়ের কারণ।
পোর্তো অ্যালেগ্রেতে গত সোমবার অবশ্য নতুন এক পরিচয় নিয়ে হাজির হলেন জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের এই এক নম্বর গোলরক্ষক। স্ট্যাডিও বেইরা-রিও’র মাঠে আলজেরিয়ার বিপক্ষে কাজে লাগলো ২৮ বছর বয়সী গোলরক্ষকের হাঁটুও। আলজেরিয়ানদের আক্রমণ প্রতিহত করতে বারবারই নেমে আসছিলেন ডি বক্সের বাইরে। অনেকটা দৌড়ে এসে বল স্ট্রাইকারদের নাগালের বাইরে সরিয়ে দিয়েছেন।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, ম্যাচে যতগুলো সেভ করেছেন, তার চেয়ে বেশি ট্যাকল করেছেন নয়্যার। পরিসংখ্যান বলছে গোটা ম্যাচে ২১ বার নিজের জায়গা ছেড়ে ডি-বক্সের বাইরে চলে এসে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করেছেন নয়্যার। প্রথমার্ধ্বে ডি-বক্সের ভিতরেই বা ছিলেন কতক্ষণ!
জার্মান ফুটবল ইতিহাসে জন্ম হয়েছিল বিশ্বখ্যাত বেশ কয়েকজন সুইপারের। এদের মধ্যে অন্যতম দু’জন হলেন বিশ্বকাপ জয়ী দুই অধিনায়ক — ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও লোথার ম্যাথুস। নক আউট পর্বের ম্যাচে যেন তাদের কাতারেই চলে এলেন নয়্যার। সাথে গোলপোস্ট আগলে রাখার বাড়তি দায়িত্ব তো আছেই।
শুধু আক্রমণ প্রতিহত করেই ক্ষান্ত ছিলেন না নয়্যার, বল বানিয়ে সামনে দিতেও দেখা যায় তাকে। লম্বা করে তার নিক্ষিপ্ত বল থেকে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির ফরোয়ার্ড আন্দ্রে শুরলে। ম্যাচ শেষে খেলার এই অভিনব ধরনকে মোটেই নতুন বলে মানছেন না নয়্যার। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম নব্বই মিনিটে আমি কোন গোল হজম করতে চাইনি। আর এমন না যে আমি নিজের খেলার ধরনে অনেক বড় একটা পরিবর্তন এনেছি। এভাবে বায়ার্ন মিউনিখে বা জাতীয় দলের হয়েও আমি খেলেছি। ফলে ব্যাপারটার সাথে আমি ভাল ভাবেই অভ্যস্ত ছিলাম। কোন সমস্যা ছাড়াই তাই করতে পেরেছি।’
ম্যাচ শেষে কোচ জোয়াকিম লোও সন্তুষ্ট নয়্যারের এই নতুন রূপে, ‘ম্যানুয়েল ছিল অসাধারণ। যেভাবে ও ঝুঁকি নিয়ে নিচে নেমেছে আর লম্বা করে বল ছুঁড়ে ফেলেছে বিপক্ষ দলের বিপজ্জনক অঞ্চলে সেটা সত্যি অন্যরকম একটা সুবিধা দিয়েছে আমাদের। বল ক্লিয়ার করার ক্ষেত্রেও ও ছিল বেশ ভাল।’
ম্যাচের একদম শেষ পর্যায়ে এসে হজম করেছেন একটি গোল। তাতে অবশ্য ৩২ বছর পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে পাড়ি জমানো আলজেরিয়ানদের বিপক্ষে জয় পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি জার্মানদের। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকলে, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
৯২ মিনিটে আন্দ্রে শুরলে ও ১১৯ মিনিটে মেসুত ওজিলের গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। শেষ মিনিটে আবদেলমোউমিনি ডেজাবোউ গোল করলে তাই ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনই লাভ হয় না আলজেরিয়ানদের। আফ্রিকান দেশটির ঐতিহাসিক যাত্রারও এখানেই ইতি ঘটে। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিও চলে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।
