নেইমার কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আগামীকালের ম্যাচের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের দলীয় চিকিত্সক। চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচে চোট পাওয়া নেইমার গতকাল সতীর্থদের সাথে অনুশীলনও করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
চিলির বিরুদ্ধে গত ২৮ জুনের ম্যাচে উরু এবং হাঁটুতে চোট পান নেইমার। পুরো খেলায় মাঠে থাকলেও শেষদিকে নেইমারের খেলায় চোটের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। যদিও, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী হয়ে ওঠা টাইব্রেকারের পঞ্চম শটে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই বার্সেলোনা সুপারস্টারই।
চোট কাটাতে সেদিন রাতেই ব্রাজিল দলের বেস ক্যাম্প টেরেসোপলিসে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয় নেইমারকে। এরপর গত বুধবার দলের সাথে অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। ব্রাজিল সমর্থকদের আশ্বস্ত করে ব্রাজিলের চিকিত্সক দলের প্রধান লুইজ রাঙ্কো সাংবাদিকদের বলেন, ‘সে বাম উরুতে এবং ডান হাঁটুতে চোট পেয়েছে। তবে দলের অন্য সবার সাথেই সে অনুশীলন করেছে। খুব দ্রুতই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠছে সে।’
এদিকে, প্রায় চল্লিশ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চিলির বিরুদ্ধে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া ব্রাজিলিয়ানরা গত বুধবার দিনটিও কাটিয়েছে কেবল ইনডোর অনুশীলন করে। ক্লান্তিকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে এদিন চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম একাদশের সবাইকে বল পায়ে অনুশীলন থেকে বিরত রাখেন লুইস ফেলিপ স্কলারি-রাঙ্কোরা।
কোয়ার্টার ফাইনালের মাত্র একদিন আগে খেলোয়াড়দের কেবল ফিটনেস অনুশীলন করানোটা বেশী ঝুঁকি নেয়া হলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কো বলেন, ‘আমার প্রয়োজন দলকে মাঠে খেলানো, অনুশীলন করানো নয়। তাদের বিশ্রাম প্রয়োজন। তারা মাত্র ১২০ মিনিটের একটা ম্যাচ খেলে এসেছে। যেটি কিনা আপনাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নিঃশেষ করে দিতে পারে।’
এদিকে, গ্রুপপর্বের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচে সুযোগ না পেলেও পলিনহো অনুশীলন ম্যাচে দুই গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে দলে ফেরার দাবি জোরালো করেছেন। এই টটেনহ্যাম হটস্পার মিডফিল্ডারের দুই গোলেই ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পায় জাতীয় দলে। অবশ্য, চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচে ছিলেন না এমন খেলোয়াড়রাই কেবল ব্রাজিল দলে খেলেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল মিস করতে যাওয়া লুইস গুস্তাভোর জায়গা নেবেন পলিনহো।
তবে গুস্তাভোর জায়গা নিতে প্রস্তুত হার্নানেসও। ক্লাবে দুইজনের পজিশন প্রায় এক রকম হওয়ায় কপাল খুলে যেতে পারে এই ইন্টারমিলান তারকার। আর পলিনহো-হার্নানেস কেউই যদি না খেলেন, সেক্ষেত্রে ডেভিড লুইজকে খেলানো হতে পারে হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। রক্ষণে তার জায়গা নেবেন বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডার দান্তে।
এদিকে, চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচটি ব্রাজিলকে শারীরিকভাবে দুর্বল করলেও মানসিকভাবে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন আরেক মিডফিল্ডার রামিরেজ। কোয়ার্টার ফাইনালেও কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে জানিয়ে এই চেলসি তারকা সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের যদি আবারও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাহলে আমাদের উচিত হবে নিজেদের তৈরী করে নেয়া। কারণ এটা শুধু শারীরিক লড়াই নয়, বিশাল একটা মানসিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেটা। নব্বই মিনিট খেলার পর অতিরিক্ত সময় এবং তারপরে পেনাল্টি, আপনি যখন জানবেন বিশ কোটি মানুষের চোখ আপনার উপর তখন সেটা খুব কঠিন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’
উল্লেখ্য, চিলির বিরুদ্ধে টাইব্রেকার শুটআউটের আগে পড়ে চাপ সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নেইমার-লুইজ, এমনকি অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাও। -ওয়েবসাইট
