বরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা অবলম্বনে মাসুদ পথিকের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ নিয়ে আলোচনার পূর্বে এখানে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলতে হয়। কবিতাকে অবলম্বন করে চলচ্চিত্র নির্মাণ আমরা ইতোপূর্বেও দেখেছি। এখানে বিষয়বস্তুই প্রধান। কবিতার পরস্ফুিটনের চাইতে চলচ্চিত্রে বিষয়বস্তু বা আখ্যান-তথ্য কত সূক্ষ্ম আঙ্গিকে, কত ডিটেইলে, কত আবেদনময়রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়, সাধারণত তা-ই বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া চলচ্চিত্র একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাধ্যম। অন্য কোনো মাধ্যম থেকে ভাবনাচিন্তা, আখ্যান বা প্লট যদি নিতে হয়, চারিত্র্য-চিত্রণের স্বার্থে তাকে চলচ্চিত্রায়িত করে নিতে হয়। সরাসরি তা এখানে অ্যাপ্লাই করা যায় না। যে সিনেমাগুলোকে আমরা সার্থক সিনেমা বলে জানি, সেগুলোর দিকে তাকালে আমরা তারই প্রতিফলন দেখি। সেখানে হুবহু সেই মূল-ভাবনাগুলোর প্রকাশ ঘটে না বা ঘটানো যায় না। তাই চলচ্চিত্রের প্রকাশভঙ্গি সবসময়ই একটু আলাদা মাত্রা দাবি করে।
বাংলাদেশে কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা অবলম্বনে আগেও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তানভীর মোকাম্মেলের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হুলিয়া’। বেশ সাড়া ফেলেছিল। সুতরাং আমরা চলচ্চিত্রের যে ধারার প্রতিনিধিত্ব করি বলে দাবি করি, স্বাধীন ও বিকল্পধারার ছবি, সে চলচ্চিত্রের যে আন্দোলন আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল, সে ধারার প্রধান দুটি ছবি ছিল ‘আগামী’ ও ‘হুলিয়া’। যাই হোক, এখানে মূল কথা হচ্ছে, কবিতার যে বিষয়ভাবনা ও সহজাত ভঙ্গিমা, কী করে তা একটা চলচ্চিত্রে রূপ দেয়া যায় এবং সেটা সার্থক চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে, সেটাই প্রধান বিচার্য বিষয়।
কবিতার যা স্বভাব বা প্রকাশধরন, তা অনেকটাই অ্যাবস্ট্রাক্ট। সংগীতও তা-ই। চলচ্চিত্রে সে সুযোগ কম। কারণ, চলচ্চিত্র অনেক বেশি প্রত্যক্ষ মাধ্যম। তা দেখা এবং শোনার বিষয়। অবয়ব ও দৃশ্যমানতার বিষয়। তবুও মজার বিষয় হচ্ছে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটা কথা বলা হয়ে থাকে, ‘সার্থক চলচ্চিত্র তাই, যা কবিতা হয়ে ওঠে।’
মাসুদ পথিকের ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ চলচ্চিত্রটি সরকারি অনুদানে নির্মিত। চলচ্চিত্র খাতে সরকারি অনুদানের এই রেওয়াজ হঠাত্ করেই চালু হয়নি। এর নেপথ্যে ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদগুলোর আন্দোলন-তত্পরতা। স্বাধীনতার পর থেকেই চলচ্চিত্র সংসদগুলো সে দাবি করে এসেছে; যেহেতু আমাদের দেশে মূল কাহিনিচিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র তৈরি—এ দু-ধরনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা চালু ছিল এবং এখনো আছে। কাহিনি-চিত্রকাররা সিনেমা বা চলচ্চিত্রকে ব্যবহার করতে চান প্রধানত মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে এবং সেখানে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা, শেষ পর্যন্ত তার টিকে থাকার স্বার্থেই হোক কিংবা তাকে ছবি বানাতে হবে—এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই হোক, বাণিজ্যিক পুঁজির কাছে আত্মসমর্পণ করে বসেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এর ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আছে। এর মাঝে হয়তো কোনো কোনো চলচ্চিত্রকার এটা নেগ্যুশিয়েট করতে পেরেছেন। কিন্তু তা খুবই কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বাণিজ্যিকতা তাদের ওপর আরোপিত হয়েছে। এ পথে নবীন চলচ্চিত্রকাররা আরো অনেক বেশি পরিস্থিতির শিকার।
অনুদানের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় বলে এসেছি যে, যারা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন যে, তারা ভালো চলচ্চিত্র বানাতে পারবেন, তারাই এ অনুদান পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন এবং প্রতি বছরের অনুদানে এক-দুজন সম্ভাবনাময় নবীন পরিচালককে (যারা হয়তো এর পূর্বে কোনো ছবি বানাননি, তাদের সদিচ্ছা দেখে, দৃঢ়-মনোবল বা আইডিয়া দেখে, সর্বোপরি চলচ্চিত্রের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট দেখে) অন্তত ২০-২৫ পার্সেন্ট বরাদ্দ দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। সুখের কথা হচ্ছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, গত পনেরো বছর ধরে অপেক্ষাকৃত তরুণরাই তাদের যোগ্যতা বলে সরকারের এই অনুদান পেয়ে আসছেন।
এবার ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ প্রসঙ্গে আসা যাক। প্রথমত, এটি নিঃসন্দেহে বাণিজ্যিক ধারার ছবি নয়। সেটি হওয়ারও কথা ছিল না। দ্বিতীয়ত, এখানে একজন নবীন চলচ্চিত্রকারকে অনুদান দেওয়া হয়েছে ওই আশা থেকে যে, তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন তার সৃজনশীলতা দিয়ে এবং চলচ্চিত্র বানানোর যে পারঙ্গমতা, যে ফিল্ড ওয়ার্কিং, যে তৃণমূলীয় বাস্তবতা, তা দিয়ে একটি সুস্থ সুন্দর চলচ্চিত্র বানাবেন। চলচ্চিত্রে চিন্তাগত বিষয়ের চেয়ে শরীর ও কসরতগত বিষয়টি অনেক মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। একটা যথাযথ শর্ট বা ছক ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে অনেক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হয়। দেখা যায় যে, একটি চরিত্রের প্রয়োজনে একবার-দুবার নয়, হয়তো দশবারও শট নিতে হয়, তার জন্যে একজন চলচ্চিত্রকারকে মানসিক স্থিতি রাখা চাই। সে স্থিতিশীলতা তুলনামূলকভাবে তরুণদেরই বেশি থাকে। মাসুদ পথিক চলচ্চিত্রে তা করতে পেরেছেন। আমি মনে করি যে, একজন নবীনের জন্য এ এক বড় সুযোগ। কারণ, একজন চলচ্চিত্রকার যদি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন, তাহলে প্রকারান্তরে তাকে মনে করা হচ্ছে যে, তিনি একজন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল চলচ্চিত্রকার, যাকে রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তখন তার দায়বদ্ধতা আরো অনেক বেড়ে যায় বৈকি। একজন মানুষের আকাঙ্ক্ষা বা ইনটেনশন ভালো থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা যে সবসময় কার্যকর থাকবে বা গুড আউটপুট দেবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর নানাবিধ কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের বেলায় এ সমস্যাটি প্রকটভাবে দেখা দেয়।
প্রথম কথা হচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা কম। দ্বিতীয়ত, যাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে তার একধরনের আস্থাশীল সম্পর্ক থাকার একটা ব্যাপার থাকে। আমি যতদূর দেখেছি, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ যেভাবে দৃশ্যায়িত হয়েছে বা এর ভেতরগত আখ্যান যে প্রক্রিয়ায় নির্মিত হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি টিমওয়ার্ক। এ ধরনের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে তার অন্যান্য যে সহযোগী, যিনি চিত্রগ্রহণ করেছেন, যিনি বা যারা অভিনয় করেছেন, যিনি সম্পাদনা করেছেন, যিনি সংগীত পরিচালনা করেছেন, যিনি দৃশ্যায়নের স্বার্থে পরিবেশ-পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করেছেন, সামগ্রিকভাবে যিনি এ সকল বিষয় মনিটরিং করেছেন, দায়বদ্ধতা তাদের ওপরও বর্তায়।
এই গ্রুপওয়ার্ক তৈরি বা এর সুসম্পন্নতা দান করতে নির্মাতারও একধরনের ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন পড়ে। এ ব্যক্তিত্ব যত না শৈল্পিক, তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি মানবিক হতে হয়। সুতরাং মাসুদ পথিকের তারুণ্যদীপ্ত সুন্দর ব্যক্তিত্ব ও হাই-ইনটেনশন সত্ত্বেও সামগ্রিক ছবিতে এসবের প্রতিচ্ছায়া দেখা যায়। বোঝা যায়। ছবির ভাবনা হয়তো অনেক উচ্চাঙ্গের; কিন্তু এর এক্সিকিউশন বা বাস্তবায়নটা সবক্ষেত্রে সে পর্যায়ের হয়ে উঠেনি। কিছু ক্ষেত্রে একধরনের তাড়াহুড়ো ভাব আছে। অভিনয় আরো ভালো হওয়া দরকার ছিল। দৃশ্য-পরিকল্পনার ধারা-পরম্পরা আরো যুতসই করা যেত। আমার মনে হয়েছে, সম্পাদনার মাধ্যমে এসব বিষয় কাটিয়ে ওঠা যেত। পরিমিতিবোধের অভাব রয়েছে। অনেক কষ্টে হয়তো একটা শর্ট নেয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা যে ছবির সঙ্গে জুড়ে দিতেই হবে, তা কিন্তু নয়। ফলে ছবির দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে বা ঘটনার ধারাবাহিকতায় তথ্যচিত্রের আবহ এসেছে।
এ ছবির একটা যে কাহিনি, সেটা বোঝা যায়। এমন না যে, এখানে মাল্টি-কাহিনির মাল্টি প্লট আছে। বরং একটি কাহিনির মাল্টি-প্লট চিত্রায়িত হয়েছে। যাকে একরৈখিক বর্ণনার বহুরৈখিক তাড়না বলা যেতে পারে। নেকাব্বর অনেকদিন ছিল না বা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল, আবার ফিরে এসেছে। সময়টা মুক্তিযুদ্ধের আগেকার। সাধারণ মানুষ আইডেন্টিফাই করছে। সে অতীত সময়ের কথা কিছু বলছে তো অনেক বলছে না। রহস্যময়তা রেখে দিচ্ছে। গল্পের বিবরণ-দৃশ্যে আরো সংহতি আনা যেত। দর্শক ঘটনার নাটকীয়তার চাইতে অসমাপ্তিসূচক নিরবধি-যাত্রায় হয়তো হোঁচট খাবেন। কিছুটা বিভ্রান্তও হবেন। সংগীত-সংখ্যা আরো কম হতে পারত। ঋত্বিক ঘটকের মতো গান জুড়ে দিলেই যে ছবি ভালো হয়ে যাবে, ব্যাপারটি তা না। কস্টিউম এবং মেকাপ আরো মনোযোগিতার দাবি রাখে। কারণ, এখানে একটা সময়ের রেশ আছে, যাকে ভিজ্যুয়ালি তৈরি করতে হয়েছে। তার আরো যথাযথ প্রতিফলন থাকতে পারতো। তবে বিষয়টা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং কঠিন। কারণ, সবকিছু পালটে গেছে। রাস্তাসড়ক পালটে গেছে। মাঠঘাট বদলে গেছে। সেই গ্রামীণ-চিত্র আর নেই। একটা মাঠের দৃশ্য নিতে গেলে দেখা যাবে যে, সেখানে একপাশে বৈদ্যুতিক তার ঝুলছে। সেসময় তো তা ছিল না। এদিকে আবার সে-সব বিষয়কে সমকালীনতার মধ্য দিয়ে জীবন্ত করে তোলা। সুতরাং বিষয়টা অত সহজ ছিল না।
আমরা জানি যে, মাসুদ পথিক এর আগে ছবি বানাননি। অবশ্য ছবি বানিয়েই যে ছবি বানাতে হবে, তা কিন্তু নয়। আমার মনে হয়েছে, অনেক হাই-ইন্টেলেকচুয়ালিটি সত্ত্বেও এ তার প্রথম ছবি, এটা ছবি দেখলেই বোঝা যায়। কেননা, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ছবিটিতে অনেক দার্শনিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যেমন মানুষ ও প্রকৃতির পরম্পরা বিষয়ে। এখানে তিনি অনেক বিষয় দ্বারা তাড়িত হয়েছেন। যেমন নির্মলেন্দু গুণের কবিতা অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত। তাই বলে এখানে অভিনয়ে গুণদাকে আনার বিষয়টি প্রশ্নাতীত থাকে না। কারণ, নির্মলদা একজন ন্যাশনাল নাউন-ফিগার। এটা গল্পের বা চরিত্রের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করেছে। এসব বিষয় নিয়ে আমাকে তেমন কিছু বলতে হবে না। ভবিষ্যতে পথিক নিজেই বুঝতে পারবেন। যেহেতু তিনি ফিল্মের পথে পা বাড়িয়েছেন। আরো ছবি বানাবেন। এ তো গেল ছবির টেকনিক বা শৈল্পিক দিক।
নির্মাণের পর ছবিটি কিভাবে দেখানো হবে সেটাও কিন্তু একটা বড় ব্যাপার। এগুলো পথিককে নতুন নতুন ইতিবাচক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ করে তুলবে নিশ্চয়ই। এতসব কথা বলার উদ্দেশ্য কিন্তু আমার একটাই, আর তা হচ্ছে, ছবির ব্যাপারে নির্মাতাকে নিষ্ঠাবান থাকতে হয়। আমি মাসুদ পথিকের মাঝে সেই নিষ্ঠা, সেই ডেডিকেশন দেখেছি। আমাদের দেশে স্তুতি এবং প্রশংসা আছে, সত্যিকার সমালোচনা বা পর্যালোচনা বলে যে একটা জিনিস আছে, সেটার কিন্তু চর্চা নেই। ছবি-সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কথা সবটাই যে রাখতে হবে বা শুনতে হবে তা কিন্তু না। ছবির একজন দর্শক হিসেবে আমার একটা স্বাধীন মতামত আছে, সেটা তো আমি ব্যক্ত করতেই পারি। একেকজনের অবজারবেশনে একেকরকম আপেক্ষিক বক্তব্য আসতে পারে। ভালো বা মন্দ—যেকোনো একটা তো আসবেই। মাসুদকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, তিনি শেষ পর্যন্ত একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছবি নির্মাণ করে আমাদের উপহার দিয়েছেন। হোক অনুদানের। একটা ছবি নির্মাণে অনুদানের পরবর্তী বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। সরকার কখনো একটি ছবি নির্মাণের পুরো অর্থ দেয় না। অনেক জোগাড়যন্ত্র করে নির্মাণকাজ শেষ করতে হয়। আমি যতটুকু জানি, মাসুদ পথিকের ক্ষেত্রে হয়েছে তা-ই। অনেক কষ্ট করে ছবিটি তৈরি করেছেন। এটাকে পুরোপুরি ফিকশন না বলে ডকু-ফিচার বলা যায়। অনেকেই শেষপর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছেন (অনুদানের ছবিতেও), এরকম নজির আছে। যা-ই হোক, এই ছবি দেখে বোঝা যায়, মাসুদ খেটেছেন অনেক। হাল ছাড়েননি কখনো। চলচ্চিত্রকার হিসেবে এখানেই একজন মাসুদ পথিকের জিত।
