দুপুর তখনও হারিয়ে যায়নি। তবে বিকেলের কাছে আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোদের ঠা-ঠা ভাবটা নিস্তেজ হয়ে এসেছে। এক দঙ্গল ঠাণ্ডা বাতাস শূন্যে সাঁতরে বেড়াতে শুরু করেছে। বৈশাখ এমনই। রোদ মেঘের দারুণ দোস্তি! আকাশ ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় শুরু হয়ে যেতে পারে বৈশাখের বৃষ্টি। আকাশের মুখ ভার দেখে গোন্দারদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দেওয়া হয়েছে একটু আগেভাগেই। ছুটির ঘণ্টা কর্ণকূহরে আছড়ে পড়তেই বইগুলো বগলদাবা করে ডার্বি ঘোড়ার মতো দৌড় লাগায় মিঠু। বৃষ্টি মাটি স্পর্শ করার আগেই বাড়ি পৌঁছাতে হবে নাকি পেটে ক্ষুধার শিকড় গজিয়েছে নাকি ছোট বোন পারুলকে নিয়ে দক্ষিণ বিলে মাছ ধরতে যেতে হবে—ঠিক কী কারণে মিঠু ছুট লাগায় তা অজানা। তবে জানা যায়, বড্ড ভুল করে ফেলেছে সে। এ ভুলের খেসারত দেওয়ার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না বারো বছরের মিঠু। মিঠু কেন, পৃথিবীর কোনো মানুষ; কোনো জীব বা প্রাণী—কেউই প্রস্তুত থাকে না।
ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে স্কুলের পাশ দিয়ে নদীর মতো এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পার হওয়ার সময় প্রকাণ্ড এক বাস মিঠুর ছোট্ট শরীরটাকে সজোরে ধাক্কায় ছিটকে ফেলে রাস্তার পাশে। খানিকটা শূন্যে ভেসে ভূপাতিত হওয়ার সময় তারস্বরে একবার মা বলে চিত্কার করে ওঠে বটে, কিন্তু যানের বিকট আওয়াজে সে চিত্কার মুহূর্তেই বাতাসে মিলিয়ে যায়।
মিঠুকে বাঁচাতে অবশ্য শেষ চেষ্টা চালায় ড্রাইভার মোকা মিয়া। এ কারণে বাস পাশের খাদে পড়ি পড়ি করেও পড়ে না। কেবল বাসের যাত্রীরা কড়া ব্রেকে সিট থেকে ছিটকে পড়ে। সহসাই শুরু হয় যাত্রীদের আর্তনাদ, চিত্কার-চেঁচামেচি। তবে সামনের দিককার দু-একজনের সামান্য কাটা-ছেঁড়া বাদে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। কিন্তু যেটা হয়—বাসটি আটকে যায়। উপস্থিত জনতা, বিশেষ করে স্কুলের ছেলেপুলেরা মুহূর্তেই আটকে ফেলে বাসটিকে। অনেকটা কাদায় গরুর গাড়ি আটকে যাওয়ার মতো। না পারে সামনে যেতে, না পারে পেছাতে। মোকা মিয়া হাত জানালা গলে উচ্চলম্ফে পালানোর একটি চেষ্টা চালায় বটে, কিন্তু তার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় যখন জনতা জাল দিয়ে মাছ ধরার মতো তাকে পাকড়াও করে ফেলে। সত্যি বলতে কি, মোকা মিয়া তার ১৮ বছরের চালকজীবনে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েনি, তাই এ ধরনের উচ্চলম্ফেরও প্রয়োজন হয়নি। এমনকি এহেন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সর্বশেষ কবে পড়েছে তাও মনে পড়ে না। ফলে মোকা মিয়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দারুণ হতচকিত হয়ে পড়ে। বাস চালাতে অভিজ্ঞ হলেও পালাতে অনভিজ্ঞ মোকা মিয়াকে ভালোভাবেই ধরে ফেলে জনতা। এ অবস্থায় ধরা পড়লে যা হয়—ছেলেবুড়োর হাতে পর্যাপ্ত উত্তম-মধ্যমের অভিজ্ঞতা হয়।
হয়েছেও তা-ই! সবাই অগ্নিগিরির লাভার মতো রাগের উদ্গীরণ ঘটাতে থাকে। সেই গলিত লাভা বজ মুষ্টি হয়ে মোকা মিয়ার নাক-মুখ-চোয়াল-বুক-পেটের ওপর উল্কাপিণ্ডের ন্যায় ঝরতে থাকে। পৃথিবীর আলো-হাওয়া ছেড়ে মহাকালের অংশ হয়ে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন যখন চোখ রাঙানি দিচ্ছে ঠিক তখন প্রকৃতি মোকা মিয়ার প্রতি খানিকটা করুণা দেখায়। আকাশ-পাতাল ভেঙে কালবৈশাখী এসে হাজির হয়। কড়াত্ কড়াত্ বাজ পড়তে শুরু করে। গাছের শিকড়ের মতো চিত্রল বিজলি চমকাতে শুরু করে চারপাশে। এতে করে জনতার মারধরে কিছুটা ছেদ পড়ে। সবাই ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে স্কুলের বারান্দার দিকে ছুট দেয়।
দুই
মোকা মিয়াকে পর্যাপ্ত ধোলাই দেওয়া হয়েছে। মুখ রক্তে মাখামাখি। ঠোঁটের কোথাও কোথাও কেটে গেছে। মোকা মিয়া টের পায়, গলার ভেতর মরা রক্ত হয়তো ফলের জেলির মতো জমে উঠেছে। মোকা মিয়াকে গলার রক্ত-জেলি ছাড়ানোর জন্য দু-বার কাশি দিতে হয়। তাকে গোন্দারদিয়া স্কুলের বারান্দায় বেঁধে রাখা হয়েছে। কুণ্ডলী মেরে মেঝেতে পড়ে আছে সে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে।
ঝড়-বৃষ্টি থামলে মোকা মিয়া শূন্য দৃষ্টিতে আকাশটাকে একবার দেখে। বৃষ্টিধোয়া আকাশে অদ্ভুত সুন্দর রংধনু উঠেছে। মোকা মিয়ার তখন মনে হয় জীবনটা খুব মায়ার জিনিস। বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয় অনেক দিন। কিন্তু আজ বাঁচা যাবে কি-না সন্দেহ। ঘোর প্যাঁচে পড়েছে সে।
কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ অকুস্থলে পৌঁছে অনবরত বাঁশি ফুঁ দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। পুলিশের বাঁশির শব্দ শোনামাত্র উত্তেজিত জনতার চিত্কার-চেঁচামেচি কিছুটা মিইয়ে আসে। জনতার ভিড় ফুঁড়ে মোকা মিয়ার সামনে সিনেমার নায়কের মতন উপস্থিত হন এসআই সাদেক। মোকা মিয়ার বিধ্বস্ত মুখখানি ডান হাতের তর্জনি ও মধ্যমা দিয়ে উঁচু করে একবার দেখেন তিনি।
পাবলিক তো ভালোই ডলা দিছে! মোকা মিয়ার বিপর্যস্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললেন।
মোকা মিয়া ঘোলাটে দৃষ্টিতে এসআই সাদেকের কথা শুনল। কিন্তু কোনো জবাব দিতে পারল না। জবাব দেওয়ার শক্তি বা উপায় ছিল না।
এসআই সাদেক জনতাকে ঠাণ্ডা করতে ছোটখাটো একটা ভাষণ দিলেন—
ড্রাইভারকে অ্যারেস্ট করে থানায় নিতে হইব। আপনারা উত্তেজিত হইয়েন না। এরপর কনস্ট্যাবলকে নিচু স্বরে বললেন, ওরে গাড়িতে ওঠাও। আর বাসটারে থানায় নেয়ার ব্যবস্থা করো।
তিন
বাসের ধাক্কায় শরীরের বাম পাশটার বেশিরভাগ অংশ থেতলে গিয়েছে মিঠুর। তাকে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিলেন। সবাই অপেক্ষা করতে লাগল মিঠুর বাবা-মায়ের জন্য।
স্বল্প সময়ের মধ্যে আহাজারি করতে করতে মিঠুর বাবা-মা হাসপাতালে হাজির হলো। মিঠুর পুরো শরীরে প্যাঁচানো ব্যান্ডেজ রক্তে ভিজে গেছে। মনে হচ্ছে টকটকে লাল চাদরে তাকে মুড়ে রাখা হয়েছে। মিঠুর মা আছারি-বাছারি করে কাঁদছে আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছে। বাবা রাশিদুল একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলের দিকে। অনিশ্চয়তার কালো ছায়া তাকে গিলে খাচ্ছে। এ ঘটনা কেন ঘটল কিংবা ঈশ্বর কেন তাকে এ শাস্তি দিলেন?—এ প্রশ্নের চেয়েও তার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল—ছেলেকে কী করে চিকিত্সা করাবে? এত টাকা কোত্থেকে জোগাড় হবে? ভাবনাগুলো মগজে কাঠঠোকরার মতো বারবার ঠোকরাতে লাগল।
বিপত্তি দীর্ঘায়িত করতে কিছুক্ষণের মধ্যে খবর এল, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদরে যেতে পারবে না। অ্যাম্বুলেন্স বিকল। সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স বিকল, অবাক করার মতো কোনো বিষয় নয় নিশ্চয়। কিন্তু অবাক হতে হলো তখন—যখন জানা গেল, আসলে অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়নি, চালকের আমাশয় হয়েছে। এ অবস্থায় সে কিছুতেই জেলা সদরে যেতে পারবে না! অগত্যা বিকল্প যানের সন্ধানে বের হতে হলো রাশিদুলের। আরেকটি মাইক্রোবাস পেতে খানিকটা বিলম্ব হলো। মাইক্রোবাস যখন মিলল, তখন বিকেল যাব যাব করছে।
জেলা সদরে রওনা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উল্কাপিণ্ডের মতো হাজির হলো মিঠুর দূর-সম্পর্কের মামা তছির আলী। বাসস্ট্যান্ডেই থাকে সে। খবর পেয়ে ছুটে এসেছে। দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রী উঠিয়ে বাসের কন্ডাক্টর কিংবা সুপারভাইজরদের কাছ থেকে কমিশন খায় বলে সবাই তাকে দালাল তছির বলেই চেনে।
চার
তছির আলী রাশিদুলকে বোঝাতে সক্ষম হলো—বাস মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় না করে ছেলেকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরে কোনো টাকা-পয়সা পাওয়া যাবে না। এখান থেকেই টাকা আদায় করা গেলে চিকিত্সার খরচটা উঠে আসবে। মিঠুর হতদরিদ্র বাবা তছির আলীর এ প্রস্তাবে প্রথমে রাজি না হলেও পরে ছেলের উন্নত চিকিত্সার আশায় রাজি হলো।
তছির আলী বলল, আপনেরও থানায় যাইতে হইব।
এহন থানা-পুলিশ ক্যান? পোলার অবস্থা তো খুব খারাপ... ক্ষীণ স্বরে বলল রাশিদুল।
আরে এতক্ষণ যখন দেরি হইল, আর দশ-বিশ মিনিট অপেক্ষা করলে কিছু হইব না! আর টাকা না জোগাড় হইলে পোলারে চিকিত্সা করাবেন ক্যামনে? হাসপাতালে নেয়া মাত্র ওরে বারান্দায় ফালাই রাখব। সময় নষ্ট কইরেন না। তাড়াতাড়ি চলেন।
পাঁচ
বাস মালিকের অপেক্ষায় বসে আছে সবাই। পাশে কাতরাচ্ছে চরম ধোলাই খেয়ে শুকনো কিসমিসের মতো চুপসে যাওয়া মোকা মিয়া। এসআই সাদেক সিগারেটের শেষ আগুনটার ঘাড় মুচড়ে দিতে দিতে তছির আলীকে চোখের ইশারায় বাইরে আসতে বললেন।
তছির আলী, পোলাডা সম্পর্কে তোমার ভাইগ্না হয় না?
হুঁ।
এইহানেও ধান্দাবাজি করতাছ!
কী যে কন স্যার! ভাইগ্নার চিকিত্সা করাতে টাকা লাগব না?
তা তো লাগবই, কিন্তু তুমি নিজেও তো সেই টাকায় কামড় বসাইবা! কী, ভুল কইলাম?
তওবা স্যার! এইটা কী কন! ভাইগ্নার জীবন-মরণের প্রশ্ন। আর আমি করুম ধান্দাবাজি!! চোখ গোল্লা গোল্লা করে বলল তছির আলী। এসআই সাদেক কোনো কথা বললেন না, অস্ফুটস্বরে কেবল একটা গালি দিলেন—শালার বাঞ্চোত!
তছির আলী গালিটা শুনল, কিন্তু গায়ে মাখল না। তবে সেও মনে মনে পাল্টা গালি ছুড়ল—মাঙ্গের পো! সঙ্গে এও বলল, আর তুমি বইসা বইসা বুঝি আঙ্গুল চুষবা!
বাসের মালিক মেরাজ আলী থানায় এলেন ঝড়ো বেগে। এরপর শুরু হলো সমঝোতা বৈঠক।
এসআই সাদেক গলা ঝাড়া দিয়ে বিষয়টা শুরুতেই পরিষ্কার করলেন, মেরাজ সাব কেইস মারাত্মক। আপনের কপাল ভালো, পোলা বাঁইচা আছে! স্পটডেথ হলে তো আপনের কথা কওনেরই সুযোগ ছিল না।
তবুও স্যার, আমার দিকটাও তো দ্যাখবেন।
ঠিক আছে, বলেন কত পারবেন।
তিন লাখ থেকে শুরু হলো দর কষাকষি। দুই লাখ, এক লাখ... অবশেষে সত্তর হাজার টাকায় রফা হলো। রিজন্যাবল রেট। এর মধ্যে দশ হাজার যাবে পুলিশের পকেটে। এসআই সাদেকের ডিমান্ড অবশ্য আরো বেশি ছিল, কিন্তু ‘মানবিক’ কারণে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন! ষাট হাজার থেকে দশ হাজার যাবে তছির আলীর পকেটে। টাকার কথা চিন্তা করতেই তছির আলীর মুখে একটা ঝকঝকে আলো খেলতে থাকল, সেই সঙ্গে মুখের পেশিসমূহে একটা তৃপ্তি ও স্বস্তির হাসি ফুটে উঠল।
মেরাজ আলী নগদ টাকা গুনে দিয়ে বাস ও ড্রাইভার মোকা মিয়াকে ছাড়িয়ে নিল। থানা গেটে মোকা মিয়া কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে মেরাজ আলীকে বলল, ভাই বড় বাঁচা বাঁচাইলেন...
মেরাজ আলী সিগারেট ধরালেন, মোকা মিয়াকেও একটা দিলেন। বললেন, থাউক আর ডায়লগ মারতে হইব না! মাঝখান থিকা আমার সত্তর হাজার টাকা হোগা মারা গেল! চক্ষু বন্ধ কইরা বাস চালাননি?
না ভাই, দেইখ্যা চালাইতেছিলাম। হুট কইরা পোলাডা কই থিকা যে ঢুইক্যা পড়ল বোঝার টাইম পাই নাই...
টাইম পান নাই মানে? বাল ছিঁড়তে আঠারো বছর ধরে বাস চালাইতেছেন? আমি এতগুলো টাকা জলে ঢাললাম ক্যান জানেন?
ক্যান? খানিকটা বিস্ময়ে ঠোঁট দুটো কিঞ্চিত ফাঁক হয়ে যায় মোকা মিয়ার। পরক্ষণে ফাঁক হওয়া ঠোঁটে আলতো করে সিগারেটের ফিল্টার চালান করে দেয় সে।
আপনের লাইগা না, বাসের লাইগা! যাউকগা যা হওয়ার হইছে। আমার বাস আপনের আর চালানোর দরকার নেই! মজনুরে কইছি; ও কাল থেইকা আমার বাস চালাইব। আপনি বাড়িত গিয়া রেস্ট নেন। বলেই সিগারেটে গাঁজার মতো একটা টান মারেন মেরাজ আলী। মোকা মিয়া নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মেরাজ আলীর দিকে। ঠোঁটে গুঁজে রাখা সিগারেটটি ধরানোর কথা আর মনে থাকে না।
ছয়
রাশিদুল এবং তছির আলী থানা থেকে যখন ফিরে এল ততক্ষণে পৃথিবী অন্ধকারের পেটে ঢুকে পড়েছে। মাইক্রোবাস ছুটতে লাগল রকেটগতিতে। মিঠুকে একুশ কিলোমিটার দূরের সদর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে দেখামাত্র কর্তব্যরত ডাক্তারদের মুখে মেঘ করে এল। সে মেঘের ছায়া পড়ল রাশিদুলের চোখে-মুখেও।
কর্তব্যরত ডাক্তার কণ্ঠে ঝাঁজ মিশিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, পেশেন্ট অ্যাকসিডেন্ট করেছে কখন?
রাশিদুল কাঁপা গলায় বলল, বিকেল তিনটার দিকে।
একরাশ বিরক্তি এনে হাতের ঘড়িটা দেখিয়ে ডাক্তার বললেন, এত দেরি করেছেন কেন অ্যাঁ? রাশিদুল কোনো কথা বলতে পারল না। শুকনো চোখে তাকিয়ে থাকল।
ডাক্তার বললেন, আপনি আমার সঙ্গে আসেন। কিছু কাগজপত্র সাইন করতে হবে।
