পবিত্র রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে রোজা রাখাকে ফরজ করা হয়েছে। নবী করিম (স.) এর সময়কাল থেকে রোজার প্রচলন শুরু হয়। মহান আল্লাহতালা বলেন “রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।” পবিত্র রমজান মাসে ৩০ দিন শুধু রোজা রাখলেই চলবেনা, রোজা সঠিকভাবে পালনের ব্যাপারে কিছু নিয়মকানুন পালন না করলে রোজা শুদ্ধ হবে না। রোজার ফরজসমূহের মধ্যে রয়েছে :সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। রোজার নিয়ত করা। রোজার সুন্নত সমূহের মধ্যে রয়েছে : সর্বদা নেক কাজ করা। শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের তথা হাত, পা, নাক, কান, চোখ, মুখ, জিহ্বা এবং অন্তরের রোজা পালন করা। গরীবদেরকে এবং মসজিদে দান করা। রমজানের রাতে তারাবীহ নামাজ আদায় করা। তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরান শরীফ খতম করা অথবা শোনা। সর্বদা দোয়া, দরূদ, তাসবীহ তাহলীল ও কোরান শরীফ তেলাওয়াত করতে থাকা। পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে ইতেকাফ করা। রমজান মাসে রোজা রাখার সময় অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। না হয় রোজা ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হতে পারে তা এখানে উল্লেখ করা হল: রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে। ভূলবশত: পানাহার করে রোজা নষ্ট হয়েছে মনে করে পুনরায় পানাহার করলে। অচেতন অবস্থায় পানাহার করলে। ইচ্ছেকৃতভাবে ঔষধ সেবন করলে। মুখে অল্প বমি আসার পর তা গিলে ফেললে। দাঁত হতে বুট বা তদপেক্ষা বড় কোন জিনিষ বের করে তা গিলে ফেললে। কুলি করার সময় গলার ভেতর পানি চলে গেলে। থু-থুর সাথে বেশী রক্ত গিলে ফেললে। মুখের থু-থু বের করে তা পুনরায় গিলে ফেললে। নাকের সাহায্যে কোন নস্য টেনে নিলে। কানের ভেতরে কোন তরল ঔষধ দিলে ও যৌনাঙ্গের ভিতরে কোন তরল ঔষধ প্রবেশ করালে। যা শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। কেউ বলপূর্বক কিছু খাইয়ে দিলে। গুহ্যাদ্বারে পিচকারী নিলে। কোন অখাদ্য যেমন মাটি, কাঠ, পাথর খেয়ে ফেললে। স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে। কামোত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে চুম্বন করলে বা কোলে তুলে নেয়ার পর বীর্য্য বের হয়ে গেলে। স্পর্শ, মর্দন ইত্যাদিতে যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীর্য বের হয়ে যায়। রাত আছে মনে করে প্রভাতে সাহ্রী খেলে। কোন ঔষধ পেটের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দেয়ার পর যদি তার তেজ পেটের ভেতরে চলে যায়। বেলা থাকা অবস্থায় ইফতার করলে। খাদ্য জাতীয় ইনজেকশন নিলে। যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হল:রোজা রাখা অবস্থায় ভূলবশত: কোন কিছু পানাহার করে ফেললে। তবে রোজার কথা মনে পড়লেই মুখে যা কিছু আছে সব ফেলে দিতে হবে। তৈল মালিশ করলে। মুখের ভিতর থু-থু গিলে ফেললে। সামান্য পরিমাণে বমি হলে নাক কিংবা কানের ভেতর পানি প্রবেশ করলে। আতর, লোবান, আগরবাতি প্রভৃতি সুবাস গ্রহণ করলে। স্বপ্ন দোষ হলে। চোখের মধ্যে সুরমা লাগালে। টক ঢেকুর উঠলে। হঠাত্ করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মশা-মাছি বা ধূলো-বালি গলার ভেতর প্রবেশ করলে। দিনের বেলায় ফরয গোসল করলে। রোগবশত: বিনা উত্তেজনায় বীর্য্য নির্গত হলে রোজা নষ্ঠ হয় না। ইনহেলার (হাঁপানীর সেপ্র) ও এ জাতীয় বস্তু যা ফুসফুসে যায়, রোজাদার ব্যবহার করতে পারবে। এতে কোন সমস্যা হবে না। ঘ্রাণ যুক্ত তেল ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য সেপ্র ব্যবহার করা যাবে। অসুস্থতার জন্য সাবোজিটার (ডুশ) ব্যবহার করা যাবে। দাঁতের মাজন ব্যবহার করা যাবে। তবে পেটে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। গড়গড়ার ঔষুধের কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না। যদি তা গলধঃকরণ না হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কান ও চোখের ড্রপ ব্যবহার করা যাবে। যদিও স্বাদ অনুভব হয়। এ ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা বা তার ইঙ্গিত নেই। দ্বিতীয়ত: এগুলো খাদ্যনালী নয়। যেসব অবস্থায় রোজা ভঙ্গ করা যায় সেগুলো এখানে উল্লেখ করছি: অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখলে যদি রোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে তবে এক্ষেত্রে রোজা ভাঙ্গা জায়েজ আছে। রোজাদার মহিলারা যদি রোজা রাখার ফলে বুকের দুধ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং শিশুর কষ্ট হয়, তখন উক্ত মহিলা রোজা ভঙ্গ করতে পারবে। বয়স বেশী হওয়ার কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লে। রোজা রাখার ফলে গর্ভের সন্তানের যদি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ক্ষুধা, তৃষ্ণায় মৃত্যুর আশংঙ্কা থাকলে।মুসাফির অবস্থায় থাকলে। সাপে দংশন করলে। মহিলাদের মাসিক হলে রোজা ভঙ্গ করবে। রোজার নিয়ম কানুন মেনে সঠিকভাবে রোজা রাখা উত্তম। রোজা রেখে শুধু উপবাস থাকলেই হবে না। রোজার নিয়ম কানুন সর্ম্পকে আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূল (স.) সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে সহিভাবে রোজা রাখার তাওফিক দান করুন, আমিন।
