বিশ্বকাপের চলতি আসরের একমাত্র ‘অল ইউরোপিয়ান’ কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাত দশটায় মারাকানা স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি। শেষ তিন ম্যাচের পারফরম্যান্স বিচারে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তির এই লড়াইয়ে কিছুটা চাপে থাকবে জার্মানিই। অন্যদিকে করিম বেনজামা-পল পোগবাদের উজ্জীবিত নৈপুণ্যে দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্স সেই তুলনায় অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একেবারে বিপরীত অবস্থানে ছিল দুই দল। এক ঝাঁক তারকা খেলোয়াড় থাকলেও ফ্রান্স দলে ঐক্যের অভাব ছিল স্পষ্ট। কোচ দিদিয়ের দেশম সামির নাসরিকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে ঠাঁই না দেয়ায় আরো প্রকট রূপ ধারণ করে বিভাজন। এরপর টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে দলের সেরা খেলোয়াড় ফ্রাঙ্ক রিবেরির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া। সবকিছু মিলে এবারের আসরে জিনেদিন জিদানের উত্তরসুরীদের নিয়ে বাজি ধরার মানুষ খুব বেশি হয়তো ছিলেন না। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর পরই কি এক জাদুমন্ত্রবলে পাল্টে গেল সবকিছু।
রিবেরির অবর্তমানে দলের অঘোষিত নেতার দায়িত্ব নিলেন বেনজামা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়েও গোল করিয়ে চলেছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। পোগবা-অলিভার গেরুদ-গ্রিজম্যানরাও নিয়মিত আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ শিবিরে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি নজর কেড়েছে ফরাসিদের দলীয় সমঝোতাও। কে বলবে বিশ্বকাপের আগেও এই দলে খুব বড় ধরনের বিভেদ কাজ করছিল!
ফ্রান্সের ঠিক উল্টো অবস্থায় আছে জার্মানি। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসাবে বিশ্বকাপ শুরু করা দলটি শেষ আটে জায়গা করে নিলেও তাদের খেলা মন ভরাতে পারছে না সমর্থকদের। একের পর এক পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়া যে জার্মান পরাশক্তিকে দেখে সবাই অভ্যস্ত, জোয়াকিম লোয়ের এই দলে সে রূপটি যেন অনুপস্থিত। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, পরের তিনটি ম্যাচে যেন ধারাবাহিক অবনমন হচ্ছে ফিলিপ লাম-টমাস মুলারদের।
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে তো জিততে, অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করছে হয়েছে তাদের। ঐ ম্যাচের পর লো’র কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেকদের অনেকেই। প্লে-মেকার হিসেবে কার্যকারিতা প্রমাণের পরও কেন মেসুত ওজিলকে সেই ভূমিকায় খেলানো হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলেছেন মাইকেল বালাক। দুই সেন্টার ব্যাক জেরোম বোয়েটাং এবং বেনেডিক্ট হোয়েডেসকে উইঙ্গার হিসাবে খেলানোতেও আপত্তি আছে তার। সাবেক চেলসি এবং বায়ার্ন মিউনিখ তারকা বলেন, ‘বহু বছরের মধ্যে এটাই ছিল দলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স।’
বালাকের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল আরেক সাবেক অধিনায়ক অলিভার কানের কণ্ঠেও। ২০০২ বিশ্বকাপের সেরা তারকাটি বলেন, ‘(লো’র) এই কৌশলের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে।’
তবে দলটি জার্মানি বলেই হয়তো এত কিছুর পরেও আজ ফ্রান্সের চাইতে কিছুটা এগিয়ে রাখতে হচ্ছে তাদের। দুই দলের অতীত মুখোমুখিতার ইতিহাসও এগিয়ে রাখছে জার্মানিকেই। কিন্তু আজ রাতে সেসব তথ্য কোন ভূমিকা রাখবে না বলেই মনে করছেন লো। গত বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়া ফ্রান্স দলটি দেশমের অধীনে অনেক উন্নতি করেছে জানিয়ে লো বলেন, ‘দিদিয়ের দেশম ২০১০ সালের পর ফ্রান্সের অনেক উন্নতি করেছেন। আমি নিশ্চিত (আজ) আরেকটি ক্লাসিক অপেক্ষা করছে।’
দুই দলের সমর্থকরা না হোক, প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীরা তো সেরকম কিছুরই অপেক্ষা করছেন!
