নেইমার রড্রিগেজের অভিন্ন লড়াই

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৫
বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠার আগে লিওনেল, মেসি নেইমার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়েই ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনা ছিল। সিআর সেভেন বাড়ি আগাম বাড়ি ফিরে গেছেন। রয়ে গেছেন নেইমার আর মেসি। তবে দু’জনের সাথে শুধু আলোচনাতেই যোগ দেননি, উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছেন কলম্বিয়ার জেমস রড্রিগেজ। আজ ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালেও দর্শকদের চোখ থাকবে দুইজনের দিকে। উভয়েই নিজ নিজ দলের বড় অস্ত্র। দুজনের লক্ষ্য থাকবে দলকে জেতানোর পাশাপাশি গোলের লড়াইয়েও একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়া। জেমস চার ম্যাচে ৫ গোল করে সবার উপরে দাঁড়িয়ে আছেন। দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন এই স্ট্রাইকার। গ্রুপের প্রথম তিন ম্যাচে বদলী হিসাবে নামতেন। আইভরি কোস্ট, গ্রীস ও জাপানের বিরুদ্ধে বদলী খেলতে নেমে তিন গোল করেছিলেন। এরপর কলম্বিয়া দলের আর্জেন্টাইন কোচ হোসে পেকারম্যান প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে সেরা একাদশে জায়গা করে দিয়েছিলেন তাকে। ওই ম্যাচেই জেমস দুই গোল করে কলম্বিয়াকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে আনলেন। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সঙ্গত কারণেই এখন অন্যদের চাইতে এগিয়ে কলম্বিয়ানটি। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে তার গোলটিকে বলা হচ্ছে ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য গোল। উরুগুয়ের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলটা বুকে রিসিভ করে হাঁটুর উপরে রাখেন। এরপর বডিডজ দেন জায়গায় দাঁড়িয়ে। বলটা মাটিতে পড়ার আগেই চোখের পলকে ভলি করে গোল করেন জেমস রড্রিগেজ। এরপরও উরুগুয়ের ৫ ফুটবলারকে কাটিয়ে পোষ্টে শট করেছিলেন জেমস। দুর্ভাগ্যবশত সেটা ক্রসবারে লেগে গোল হয়নি। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটাও করেছেন জেমস রড্রিগেজ। তার দুই গোলের উপর ভর করে কলম্বিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ফুটবল পণ্ডিতদের চোখে জেমস অনেক বড় তারকাকেও ছাড়িয়ে যাবে। মেসি চারটা ম্যাচে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন। আর জেমস পেয়েছেন তিনটি ম্যাচে। রডরিগেজের জন্মের আগেই এই কলম্বিয়ার ফুটবল, কতো তারকার জন্ম দিয়েছিল। সেই তারকারা নিজেদের দেশকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেননি। দুই গোল করিয়েছেন আর নিজে চার ম্যাচে ৫ গোল করে জেমস রড্রিগেজ কলম্বিয়ানদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কলম্বিয়ান হিরো জেমস বলছেন, আমরা খুবই খুশি। এখন সেটা ইতিহাস হয়ে গেছে। এই ইতিহাস পেছনে ফেলে আমরা ফোর্তালেজার মাঠে ব্রাজিলকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চাই।’ এই ছেলের মুখে কথাগুলো শুনে সবাই হতবাক। খুব সাহস নিয়ে বললেন আমরা ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারাতে চাই।’ মাত্র দুই বছর আগে জাতীয় দলে ঢুকেছেন। এখনই বিশ্বফুটবল মহলে আলোচনা ফ্রান্সের মোনাকো ক্লাবের জেমসকে নিয়ে। ১৯৯১ সালের ১২ জুলাই জেমসের জন্ম। আর ব্রাজিলের নেইমারের জন্ম ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। জেমসের চেয়ে ৬ মাস ২৪ দিনের ছোট নেইমার। অথচ প্রতিভাগুণে নেইমার অনেক আগেই ফুটবল বিশ্বের নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন। ব্রাজিলকে এই পর্যন্ত টেনে আনার পেছনে নেইমারই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখছেন। নেইমার যে ম্যাচে গোল করেছেন সেই ম্য্যাচ জিতেছে বাজিল। আর যে ম্যাচে নেইমার গোল করেননি সেই ম্যাচই জিতেনি ব্রাজিল। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গোল শূন্য ড্র আর চিলির বিরুদ্ধে ১-১ হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিততে হয়েছে ব্রাজিলকে। কথাটা ভালো জানা আছে কলম্বিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ পেকারম্যানের। আমাদের প্রত্যেকটা জয়ের পেছনে জেমসের ভূমিকা রয়েছে। আমি জানতাম বিশ্বকাপটি হবে জেমসের জন্য। দারুণ খেলেছে ছেলেটি। এখন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আসল খেলাটি আমরা দেখাতে চাই।’ কিন্তু জেমস কী পারবে এতো বড় চাপ মাথায় নিতে ? নেইমার ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ২ গোল, ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ২ গোল করেছেন। গোল সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও শারীরিক সুস্থতায় পিছিয়ে আছেন নেইমার। চিলি বিরুদ্ধে হাঁটুতে আঘাত পাওয়া নেইমারকে নিয়ে সংশয় এখানো কাটেনি। নেইমার বলেছেন তিনি খেলবেন। সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, কারো সাথে গোল সংখ্যায় এগিয়ে থাকার ম্যাচ এটা না। এখানে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলের লড়াইটা আগে। কারণ দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে দলের দিকে। আমি গোল না করলেও ম্যাচ জিততে হবে। মেসি গোল করেননি ডি মারিয়াকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। আপনারা কোনটাকে বড় করে দেখবেন? আমি গোল করলাম নাকি ব্রাজিল জয়ে পেলে সবাই খুশি সেটাই বড় কথা।’ নেইমার যত কথাই বলুন না কেন, চোট পাওয়া নেইমার কি পারবেন মাঠে নামতে। ম্যাচ শুরু হতে এখানো অনেক সময় বাকি। এরই মধ্যে নেইমারকে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেইমার বলছেন তিনি সুস্থ বোধ করছেন। আর ব্রাজিল ফুটবল কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ মিনিট পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে নেইমার খেলতে পারবেন কিনা। ব্রাজিলে নেইমারকে নিয়ে ধোয়শা রয়েছে। তার খেলা না খেলার ব্যপারে। নেইমার যে চোট পেয়েছেন তা কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটাই ঠিক ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের রাতে দলের সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে দলের ভেতর থেকেই নানা কথার গুঞ্জন ছড়িয়ে দেয়া হয়। গুঞ্জনের ডাল পালা ছড়িয়ে প্রতিপক্ষের ঘরে ঢুকে পড়ে। তাতে প্রতিপক্ষকে ধোকা দেয়ার জন্যই এমনটি করা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটা নুতন কিছু নয়। মাঠে নামার আগ পর্যন্ত এসব চলে। এখন দেখা যাক নেইমারের বেলায় কোনটা হয়। তবে ব্রাজিলিয়ানরা নিশ্চিত নেইমার খেলছেন। স্কোলারি নেইমারকে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চিন্তায় রেখেছেন।