ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার বিশাল প্রত্যাশাকে কার্যকর করে তুলতে ব্রাজিলিয়ান কোচ লুইস ফিলিপ স্কলারি খেলোয়াড়দের জন্য মনোবিদ ডেকে পাঠিয়েছেন। আর অনুশীলনের ফাঁকে এই ধরনের উদ্যোগ দলের জন্য বেশ উপকারে এসেছে বলেই নেইমার মনে করেন। মঙ্গলবার দলের অনুশীলনে স্কলারি ক্রীড়া মনোবিদ রেগিনা ব্রানডাওকে নিয়ে আসেন।
চিলির বিপক্ষে গত সপ্তাহে নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি শুট আউটে জেতার পরে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা যেভাবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল তাতেই কোচ এই মনোবিদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। চিলির বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ঐ জয়ের পরে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দারুণভাবে আবেগে আপ্লুত হতে দেখা গেছে যাদের মধ্যে অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা, গোলরক্ষক জুলিও সিজার এবং নেইমার অন্যতম। চিলির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে না পারায় ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক রবার্তো আলবার্তোও খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
কিন্তু নেইমার জানিয়েছেন, ব্রানডাওয়ের সাথে ক্লাস করার বিষয়টি সত্যিকার অর্থেই পুরো দলের বেশ কাজে এসেছে। তিনি বলেন, ‘এর আগে কখনোই আমি এ ধরনের কোন কাজের সুযোগ পাইনি। আমি এটা বেশ উপভোগ করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, ফুটবলে নয়, প্রত্যেক দিনই বিভিন্নভাবে আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হই। এ কারণে আমাদের সকলের জীবনেই মনোবিদের প্রয়োজন রয়েছে। আমি মনে করি এই ধরনের উদ্যোগ একজন মানুষকে অনেক বেশি স্বস্তি এনে দিতে পারে। আমাদের সাথে রেগিনা ব্রানডাওয়ের দারুণ সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি ব্যক্তি হিসাবে দারুণ। আমি তার কাছ থেকে অনেককিছু শিখতে পেরেছি, আশা করছি ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারটি গোল করেছেন নেইমার। একইসাথে সেলেসাওদের এগিয়ে নেবার জন্য তার উপরই মূলত ভরসা করে আছে পুরো দল। কিন্তু প্রত্যাশার এই চাপকে অতিরিক্ত হিসাবে মনে করছেন না নেইমার। সতীর্থরাও বিভিন্নভাবে তাকে সহযোগিতা করছে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তার মতে, ব্রাজিল দল কখনই একজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীল ছিল না এবং এখনো নেই।
