চট্টগ্রামে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে সমপ্রতি বন্ধ করে দেয়া ৭টি গার্মেন্টস কারখানার মালিককে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ডিটেইল প্ল্যান’ (বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা) জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দিয়েছে তৈরী পোশাক শিল্পের বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধি সংস্থা ‘একর্ড’ ও ‘এলায়েন্স’ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন টিম।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, কমপ্লায়েন্স বা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত চিহ্নিত ওই ৭ ভবনে মালিকরা উত্পাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। কারখানাগুলো হলো মেনস এপারেলস, ডে এপারেলস, বায়েজিদ এপারেলস, ডে ফ্যাশন, আর এম আই এপারেলস, শাহচান্দ এপারেলস এবং কেন্ট এপারেলস।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, পরিদর্শন টিম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ব্যাপারে আপত্তি করেছে। তবে নিরাপদ পরিবেশে তাদের কারখানা কার্যক্রম পরিচালনা এবং রপ্তানিযোগ্য পোশাক উত্পাদনের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যারা সংস্কার করতে পারবে তারা সেই ভবনেই উত্পাদন পরিচালনা করতে পারবে। যারা পারবে না, তাদেরকে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইত্তেফাককে তিনি জানান, কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে অনিয়ম এবং কাজের অর্ডার নিয়ে যারা বিদেশি ক্রেতাদের কষ্ট দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে গার্মেন্টস কারখানাসমূহের শ্রেণিকরণ (ক্যাটাগরি লিস্ট) করা প্রয়োজন। এদের কারণে দেশের এই সম্ভাবনাময় সেক্টরটির বদনাম হচ্ছে।
বিজিএমইএ-র অপর একটি সূত্র মতে, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে ৭০ শতাংশ গার্মেন্টস শিল্প কোনো না কোনো আবাসিক ভবনে বা মার্কেটের উপরে অবস্থিত। বর্তমানে যা ‘নন-কমপ্লায়েন্স’ বলে চিহ্নিত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শীঘ্রই বিদ্যুত্, গ্যাস এবং যোগাযোগ সুবিধা সম্পন্ন জায়গায় গার্মেন্টস পল্লী গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে বর্তমানে ৪৫০টি গার্মেন্টস কারখানা পোশাক উত্পাদনে সক্রিয়। মোট ৫ লাখ নারী ও পুরুষ শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত।
