‘আমরা এক অভিযানে এসেছি’

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩৮
বিশ্বকাপটা বরাবরই নেদারল্যান্ডসের জন্য ব্যর্থতার এক মিশন। চার বছর আগের ঘটনাই দেখা যাক না। গোটা টুর্নামেন্ট দারুণ খেলেও বিদায় নিতে হল সেই শেষ ম্যাচে গিয়ে। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর শিরোপা স্বপ্নের মৃত্যু ঘটলো কমলা দস্যুদের। এবার এখন পর্যন্ত যে পারফরম্যান্স তা দিয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার নেদারল্যান্ডস। তাহলে এবারই কি প্রথমবারের মত ট্রফি তুলে ধরতে পারবে ইউরোপিয়ান দলটি? প্রশ্নের উত্তরটা সময়ই বলে দেবে। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ দলটি। ফিফা ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে দলের প্রাণভোমরা অ্যারিয়েন রোবেন যেন সেই মনোভাবের কথাই জানালেন নতুন করে। সাক্ষাত্কারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল ইত্তেফাকের পাঠকদের জন্য। প্রশ্ন :মেক্সিকোর বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ আপনাদের জন্য দারুণ ছিল। অভিজ্ঞতাটি আপনার জন্য কেমন ছিল? আরিয়েন রোবেন: হ্যাঁ, সত্যি অবিশ্বাস্য! ম্যাচের ঠিক পরপর আসলে বলা মুশকিল, কী যে আমরা অর্জন করলাম! তিন-চার মিনিট বাকি থাকতে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পথে ছিলাম। এরপর দেখা গেল, এই ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার জন্য অতিরিক্ত সময়েরও প্রয়োজন পর্যন্ত হয়নি। শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল- পিছিয়ে পড়ার পর সত্যি দারুণ প্রত্যাবর্তন। প্রশ্ন: আপনি কি সবসময় ভেবেছেন যে, শেষদিকে ঠিকই ফিরে আসতে পারবেন? রোবেন: সত্যি বলতে, না। প্রথমার্ধেই আমার মনে হয়েছে, মেক্সিকোর দখলে বল থাকায় আমরা আসলে ভালো খেলতে পারছিলাম না। প্রথম তিন ম্যাচে এই বল পজেশনে আধিপত্য ছিল আমাদের। এখন কোস্টারিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে এই জায়গায় উন্নতি করতে হবে। সাধারণভাবে আমি বুঝি, নিজেদের পায়ে বল থাকার সময়টায় আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলাম। প্রথমার্ধে মেক্সিকো যেমন আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল। ওদেরকে একটু বেশিই খেলার সুযোগ দিয়েছিলাম আমরা। প্রশ্ন: মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলার ধারা আপনার কিভাবে বদলে দিলেন, একটু ব্যাখ্যা করবেন? রোবেন: একটা পর্যায়ে গিয়ে খেলার ফর্মেশন বদলে ফেলি। ওদের দিক থেকেও এমনটা হয়েছিল। আমরা ওই সময় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। তিন, এমনকি চারজন ফরোয়ার্ড নিয়ে পর্যন্ত খেলছিলাম শেষদিকে। ওদিকে মেক্সিকোও একটু খোলসে ঢুকে পড়ে। স্ট্রাইকার তুলে নিয়ে ক্রমশ হয়ে যায় আরো বেশি রক্ষণাত্মক। ওদের এই খেলার ধরনের কারণে আমাদের সামনে সুযোগ আসে। সেটি কাজে লাগিয়ে তৈরি করি গোলের অনেক সুযোগ। প্রশ্ন: আরো একবার নেদারল্যান্ডসের বদলি খেলোয়াড়রা ম্যাচে ইতিবাচক প্রভাব রাখল। অন্যান্য ম্যাচে মেমফিস ডিপে গোল করেছিলেন, মেক্সিকোর বিপক্ষে করলেন ক্লাস-ইয়ান হুন্টেলার। স্কোয়াডের গভীরতা ও কোচ লুই ফন গালের সামর্থ্য সম্পর্কে কি এটি আমাদের ধারণা দিচ্ছে? রোবেন: হ্যাঁ, আমাদের দুর্দান্ত এক কোচ আছেন। যিনি জানেন, ম্যাচের ঠিক কোন পর্যায়ে কোন খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতে হবে এবং কিভাবে পাল্টাতে হবে খেলার ধরন। এটি দারুণ ব্যাপার। এখন পর্যন্ত বদলি নেমে ক্লাস জ্যান হান্টলার ও মেমফিস গোল করেছে তো। তবে আমি মনে করি, যারাই বদলি হিসেবে নেমেছেন, প্রত্যেকেরই ম্যাচে প্রভাব ছিল। আর নিজেদের কাজটি তারা ঠিকঠাক করতে পেরেছে। বিশ্বকাপ জিতলে হলে স্কোয়াডের এই ধরনের গভীরতাই লাগে। প্রশ্ন: মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি নিয়ে কী বলবেন? হান্টলার শটটি নিলেন কেন? রোবেন: আমি মনে করি, সেটি ছিল খুব বিজ্ঞের মতো সিদ্ধান্ত। ও কিছুক্ষণ আগে মাত্র বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামে। তখনো একেবারে সতেজ ও মনোযোগী। আর স্যুটিংয়ের টেকনিকের কারণে ক্লাস-ইয়ান গোল করে অনায়াসে, পেনাল্টি স্পট থেকেও। ওর উপর আমার অনেক আস্থা ছিল। আর ও নিজেও খুব নিশ্চিত ছিল যে, গোল করবেই। প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের প্রতিটি ম্যাচে আপনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। অনেকে তো বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা ফুটবলার হিসেবেও আপনার নাম বলছেন। এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতিটা আসলে কেমন? রোবেন: নিজের ভেতরে শক্তিশালী এক অনুভূতি টের পাচ্ছি। ভালো লাগছে, নিজেকে ফিট মনে হচ্ছে- এসব আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন আমি এই অনুভূতির অনুবাদ মাঠে করতে পারব। খেলে খুব আনন্দ পাচ্ছি, খেলাটা খুব উপভোগ করছি। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আমার পায়ে বল আসছিল বেশি বেশি, সামনে এগিয়ে প্রতিপক্ষে ভীতি ছড়িয়ে দিতে পারছিলাম- এই অনুভূতি সত্যি দারুণ। মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা লাগছে আর শারীরিকভাবে ভীষণ শক্তিশালী। এখন আমি নিজের ফুটবলটা খেলতে পারছি। পারছি দলকে সাহায্য করতে। আর আমার মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়িত্ব আছে, তরুণদের দলের সঙ্গে একাত্ম করে নেয়ার ব্যাপারে। এই মুহূর্তে ডাচ দলে অভিজ্ঞতা-তারুণ্যের ভালো মিশ্রণ রয়েছে। আমরা যা কিছু করি, একসঙ্গে করি। এই যে মেক্সিকোর বিপক্ষে একসঙ্গে দল হিসেবে পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতলাম- এটি অসাধারণ ব্যাপার। প্রশ্ন: নেদারল্যান্ডসের এখন পর্যন্ত যা অর্জন, তাতে শ্রদ্ধা করার লোকের অভাব নেই। তবে কেউ কেউ আবার বলছেন যে, প্রথাগত ডাচ ঘরানার ফুটবল এই দলটি খেলছে না। আপনার মত কী? রোবেন: অবশ্যই আমরা দুই উইঙ্গার নিয়ে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। কিন্তু আপনার তো স্কোয়াডের সামর্থ্যের দিকটাও দেখতে হবে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে কোচ আমাদের ফর্মেশন একটু বদলে দিয়েছেন। এ নিয়ে কোচের সঙ্গে অনেক আলোচনার পর সবাই মিলেই এমন সিদ্ধান্ত। আমরা যে আধিপত্য নিয়ে খেলে থাকি, এখানে হয়তো ততটা আধিপত্য থাকে না। তারপরও এটি যথেষ্ট ভালো। বিশ্বকাপে চার ম্যাচ খেলে ১২ গোল দিয়েছি, এটি তো যথেষ্টই ইতিবাচক। প্রশ্ন : ২০১০ ফাইনালের কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। নিজেকে কি তাই আগের হিসেব মেটানোর অভিযানে থাকা একজন বলে মনে হয়? রোবেন: আমার তো মনে হয়, আমরা সবাই মিলেই সেই অভিযানে আছি। যখন আপনি বিশ্বকাপে আসেন, তখন কিন্তু আয়োজক দেশের আবহাওয়া উপভোগের জন্য আসেন না। এবার যেমন আমরা আসিনি, রিওর সমুদ্রসৈকতে আনন্দ করার জন্য। এসেছি ম্যাচ জয়ের জন্য এবং যত দূর সম্ভব যাওয়ার জন্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমাদের ঘিরে খুব উচ্চাশা ছিল না। এই কারণে যতটুকু এসেছি, সেজন্য নিজেরা গর্বিত হতে পারি। প্রশ্ন: কোয়ার্টার ফাইনালে আপনাদের প্রতিপক্ষ কোস্টারিকা। তাদের সম্পর্কে কতোটা জানেন? রোবেন : ওরা খুব শক্তিশালী দল। ইতালি, উরুগুয়ে, ইংল্যান্ডের গ্রুপে থেকে সেটি তারা প্রমাণ করেছে। আমাদের তাই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। অনুপ্রাণিত এই কোস্টারিকাকে হারাতে হলে প্রস্তুতি ঠিকঠাক হওয়া PvB|