পবিত্র রমজান মাস আত্মসংযমের মাস। পবিত্র রমজান মাসে
আল্লাহর রহমতে অনেক রোগীরা রোগ মুক্তি লাভ করে। রমজান মাসে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন হয়ে একটা শৃংখলায় চলে আসে। সেহরী ও ইফতারের সময় অনেকে তৈলাক্ত খাবার বেশী খেয়ে থাকে। যার ফলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা হয়ে থাকে। তাই রমজান মাসে খাদ্যাভাসেও সংযমী হওয়া উচিত।
সাইনুসাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে
সাইনুসাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে নাকে সেপ্র বা ড্রপ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। অনেক রোগী জিজ্ঞাসা করে রোজা রেখে দিনের বেলায় নাকে ওষুধ দেয়া যাবে কিনা? সেক্ষেত্রে সেহরী ও ইফতারের পরে নাকে ড্রপ বা সেপ্র ব্যবহার করা ভাল। দিনের বেলায় নাকে ড্রপ বা সেপ্র না দেয়া ভাল।
কান পাকা রোগ ও কানের
অন্যান্য সমস্যা
কান পাকা রোগ বা কানে অন্যান্য রোগ হলে অনেক সময় কানে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। সেক্ষেত্রে সেহরী ও ইফতারের পরে কানে ওষুধ ব্যবহার করা ভাল। রোজা রেখে কানে ওষুধ দেয়া যাবে না। কারণ কানের পর্দায় যদি ছিদ্র থাকে, এ ছিদ্রের মাধ্যমে ওষুধ গলায় চলে
যেতে পারে।
গলায় টনসিল প্রদাহে বা গলার অন্যান্য ইনফেকশন
গলায় টনসিল প্রদাহে বা গলার অন্যান্য ইনফেকশনের জন্য এন্টিবায়োটিক খেতে হয়। কিছু এন্টিবায়োটিক দিনে চারবার,
কিছু আট ঘন্টা পর পর, এবং অন্যান্য এন্টিবায়োটিক দুইবার বা দিনে একবার খেতে হয়। পবিত্র রমজান মাসে আমরা দিনে এক বার বা দুই বার খেতে হয় এরকম ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকি। যাতে রোগী ইফতার করে বা সেহ্রী খাওয়ার আগে বা পরে ওষুধ খেতে পারে।
কোন রোগীর চেকআপ লাগলে
তা রাত্রে করানো যেতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের খাদ্যাভ্যাসএকটা নিয়ম নীতির মধ্যে চলে আসে। তাই পবিত্র রমজানে রোজাদাররা অনেক রোগ থেকে মুক্তি পায়। এবং শরীর ও মন সুস্থ থাকে। এমনকি পেপটিক আলসার, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই রোগী খুবই ভালভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে পারে। অনেকে ইফতারের সময় অনেক বেশী ইফতারের আয়োজন করে এবং তেলে ভাজা অনেক খাদ্য গ্রহণ করে। তা আবার স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। রমজান হলো সংযমের মাস, তাই ইফতার এবং সেহরীর সময় সংযমী হওয়াও প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডাঃ এম আলমগীর চৌধুরী
নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি
আনোয়ার খান মর্ডাণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,ধানমন্ডি, ঢাকা
