কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার জন্য গণভোটের আহ্বান

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৪, ২০:১৭
ইরাকে সুন্নি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রার মধ্যেই কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ বারজানি স্বাধীনতার জন্য গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তার এই আহবানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ইরান সংলগ্ন সীমান্ত সুরক্ষায় ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে সৌদি আরব। ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ বারজানি স্বাধীনতার জন্য গণভোটের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি পার্লামেন্টকে গণভোটের জন্য একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথাও বলেছেন। কুর্দিস্তানে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হলে তা সম্ভবত ইরাক ভেঙ্গে যাওয়ার একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও একটি স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা করা ঐ অঞ্চলের কুর্দিদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি। গণভোটের পক্ষে তাই বারজানির বক্তব্য হলো, ‘এটি আমাদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করবে এবং আমাদের হাতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র আসবে।’ বারজানি ইরাকি কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, তারা তেলসমৃদ্ধ কিরকুক শহরে আর স্বায়ত্তশাসনের পথে ফিরবেন না। তাদের চাই পুরোপুরি স্বাধীনতা। ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতিতে কুর্দিরা এখন স্বাধীনতার পথেই অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সুন্নি বিদ্রোহীদের সামলাতে হিমসিম খাওয়া ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকি বারজানির এই আহ্বানে বিক্ষুব্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু সমপ্রতি কিরকুক শহর এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা কুর্দি বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়ার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে বুধবার কুর্দিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মালিকি বলেন,‘তারা বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে এবং তাদের এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।’ ইরাকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হওয়ার জন্য কুর্দিদের গণভোটের আহ্বান নতুন কিছু নয়। ২০০৫ সাল থেকেই তারা স্বাধীনতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরাকে সুন্নি বিদ্রোহীদের সামপ্রতিক উত্থান তাদের সেই উদ্দেশ্য পূরণের একটি মোক্ষম সুযোগ এনে দিয়েছে। কুর্দিরা গত কয়েক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার পরিমাণ পশ্চিম ও উত্তরাংশে ৪০ ভাগ বাড়িয়েছে। তবে কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে বারজানির গণভোটের আহবানের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র নাকচ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরাকের সুন্নি জঙ্গিদের প্রতিহত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট বলেন, ‘ইরাকের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে আমরা সকলকে একত্রে কাজ করতে আহবান জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, ইরাকে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনে দেশটির সুন্নি, শিয়া ও কুর্দি নেতাদের রাজি করাতে বেশ কয়েকদিন ধরেই জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষায় ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে সৌদি আরব। ইরাকি সেনারা সীমান্ত এলাকা থেকে চলে যাওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেয় বলে বৃহস্পতিবার আল আরাবিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।