অপ্রতিরোধ্য কোস্টারিকা রূপকথা হয়ে উঠতে পারবে কিনা তারই আরেকটি পরীক্ষায় আজ শনিবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডের। বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় ব্রাজিলের সালভাদরে মুখোমুখি হবে দুই দল।
মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ হলেও ফুটবলকে দারুণভাবে ধরে রেখেছে কোস্টারিকা। ফুটবল বিশ্বে দারুণ রেকর্ডের অধিকারী দলটি এবার গ্রুপ পর্বে ইতালি, ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ের মত দলকে টপকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপে থেকেও শীর্ষস্থান নিয়ে নকআউট পর্বে উঠে আসে কোস্টারিকা। শেষ ষোলয় ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও দলটি দীর্ঘ একঘন্টা লড়াই করেছে গ্রিসের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গ্রিসকে টপকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি।
রায়ান রুইজ ও জোয়েল ক্যাম্পবেলের মত মেধাবীদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগের পাশাপাশি কোস্টারিকার রক্ষণভাগও বেশ সুসংহত। ল্যাটিন ধাচের সঙ্গে মিল রেখে কোচ লুইস পিন্টো তার দলের রক্ষণভাগকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে এ পর্যন্ত তারা পাঁচ গোল দিয়ে হজম করেছে মাত্র দুটি।
কোস্টারিকা ইতোমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপে নিজেদের তুলে এনেছে নতুন উচ্চতায়। ১৯৯০ সালে তারা সর্বশেষ নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে এটাই ছিল তাদের সেরা সাফল্য। এ কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর থেকেই উত্সবে নেমেছে কোস্টারিকা সমর্থকরা। নিজ দেশে রাতভর চলেছে এই উত্সব। এখন এই উত্সবের ব্যাপ্তি আরো বাড়ছে কিনা সেটি নির্ভর করছে ডাচদের সঙ্গে লড়াইয়ের ফলাফলের ওপর।
নেদারল্যান্ডস বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর পর এখন পর্যন্ত ফেবারিট হিসেবেই এগিয়ে চলেছে। ২০১০ আসরের ফাইনালিস্টরা গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় স্পেনকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারায়। পরের ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও এশিয়ার হয়ে খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়াকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে ডাচরা। চিলির পাল্টা আক্রমণ নির্ভর কৌশলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোচ লুই ফন গলের দল ২-০ গোলে জিতে গ্রুপ সেরা হিসেবে শেষ ষোলতে নাম লেখায় ডাচরা। তবে এ পর্বে এসে বেশ বেগ পেতে হয় ডাচদের। মেক্সিকান প্রতিরোধের সামনে খেই হারিয়ে ফেলা হল্যান্ড শেষ পর্যন্ত রেফারির আনুকল্যে পাওয়া শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে। ফলে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটিতে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে ডাচরা ২-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে।
আজকের লড়াইয়ে ডাচদের বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে মিড ফিল্ডার নাইজেল ডি জং এর ইনজুরি। তার কুচকির ইনজুরির কারণে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডমুখি কোচ ফন গলকে বিকল্প নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে তাকে খুব বেশি একটা উদ্বিগ্নও মনে হচ্ছে না। সেখানে তিনি ব্যবহার করতে পারেন ডার্ক কায়ুটকে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবারের মত ফিফার প্রবর্তিত কুলিং ব্রেকের সুযোগ ব্যবহার করে তিনি কায়ুটকে কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছিলেন।
এদিকে খেলাটিতে কোস্টারিকার সমস্যাও রক্ষণভাগে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত হেডে গোল করা সেন্টার ব্যাক অস্কার ডুয়ার্ট নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন। তাছাড়া ইনজুরির ঝুকিতে রয়েছেন স্টপার রয় মিলার। তারপরও আশাবাদী ফুলহ্যাম ফরোয়ার্ড রায়ান রুইজ। তার মতে ডাচদের হারানোর ক্ষমতা রয়েছে কোস্টারিকার। এটি যদি সম্ভব হয়, তাহলে বিশ্বকাপেও এটিকে দেখা হবে মৃদু অঘটন হিসেবে। কারণ প্রকৃতির আনুকূল্য পাবে ল্যাটিনরাই।
রুইজ বলেন, ‘শনিবারের ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের সমতুল্য। তবে সেখানেই আমরা থেমে যেতে চাই না। তবে আমরা যদি জয় পেতে চাই তাহলে অনেক বিষয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।-বাসস/এএফপি
* এটাই নেদারল্যান্ড-কোস্টারিকা প্রথম মুখোমুখি লড়াই।
* নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে তাদের সর্বশেষ এগারো ম্যাচের দশটিতে জয় পেয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের সর্বশেষ হারটা ছিল ২০১০ সালের আসরের ফাইনালে, স্পেনের বিপক্ষে।
* কোস্টারিকা এবারের আসরে এখন পর্যন্ত নিজেদের চারম্যাচের একটিতেও হারেনি।
* ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পর মধ্য-আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের দল হিসেবে কোস্টারিকাই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে।
* এর আগে বিশ্বকাপে মধ্য-আমেরিকা বা উত্তর আমেরিকার কোন দলের সঙ্গে একবারও হারেনি নেদারল্যান্ডস।
* বিশ্বকাপে নক-আউট রাউন্ডে সফল নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলে স্নেইডার। বিশ্বকাপে নক-আউটে পাঁচম্যাচ খেলে পাঁচটি গোল করেছেন তিনি।
* বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন কোস্টারিকার কেইলর নাভাস। এ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের ১৪ টি প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছেন তিনি।
* এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সাতজন খেলোয়াড় গোল পেয়েছেন।
