বকেয়া আদায় না হওয়ার পরও ঋণ হিসাবকে নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। আবার আদায়ে ব্যর্থ হয়েও নতুন ঋণসীমা গণ্য করে পরবর্তী মেয়াদের জন্য নবায়নও করা হচ্ছে। ব্যাংক বহির্ভূত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গুনগত মানে বিরূপ শ্রেণিযোগ্য ঋণ নিয়মিত দেখানোর ফলে একদিকে ঋণ ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে, অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদন ও বিবরণীতে খেলাপি ঋণের সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে না। সার্বিকভাবে ঋণ মঞ্জুর ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্রমান্বয়ে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় হিসাব বিবরণীতে শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণের সঠিক তথ্যের প্রতিফলন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আদায় ঝুঁকি কমাতে ঘূর্ণায়মান ঋণ হিসাব নবায়নের আগে বকেয়া সুদ ও আসল চলমান মেয়াদের মধ্যে অথবা মেয়াদান্তে সম্পূর্ণভাবে আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলধনে ঘাটতি নেই এমন ব্যাংকগুলো এখন থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত নিজেদের কাছে মজুত রাখতে পারবে। আগে যা ১১৩ কোটি ডলার ছিল। বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ ব্যাপক হারে বাড়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন (পহেলা জুলাই) থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, আমদানি, রফতানিসহ নানা কারণে বৈদেশিক মুদ্রা জমা হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো কিছু অর্থ নিজস্ব হিসাবে জমা রাখতে পারে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা নিজের কাছে মজুত রাখতে পারে। তবে মোট মূলধন নিয়মিত ওঠানামা করায় কোন ব্যাংক কতো বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখতে পারবে সময়ে সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা ঠিক করে দেয়। কোনো ব্যাংকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থ জমা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে তা জমা করতে হয়। গত বছরের এপ্রিলে এই সীমা বাড়িয়ে করা হয় ১১৩ কোটি ডলার।
